প্রকাশ : 2019-04-07

অতিরিক্ত মদপানে রাশিয়ান প্রকৌশলী ও ২ রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

৭এপ্রিল,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: অতিরিক্ত মদপানে রাশিয়ার একজন প্রকৌশলী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত ও রোববার ভোরে তারা মারা যান। একই কারণে রাশিয়ান আরও দুই প্রকৌশলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতরা হলেন, পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রাশিয়ান প্রকৌশলী বেলি দিমিত্রী (৪১) এবং রাবির আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোহতাসিম রাফিক খান তুর্য (২৫) ও অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র তুর্য রায় (২৫)। রাফিক খানের বাড়ি খুলনা। আর তুর্য রায়ের বাড়ি নীলফামারী। রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাফিস রহমান জানান, গত শুক্রবার রাতে রাশিয়ান চারজন প্রকৌশলী মদপান করেন। পরে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে শনিবার সন্ধ্যায় তাদের পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চার বিদেশি প্রকৌশলীকে রামেক হাসপাতালে আনা হয়। কিছুক্ষণ পর বেলি দিমিত্রীর মৃত্যু হয়। মিকায়েল দিমা, লোগেচেভ লেভ নামের দুই প্রকৌশলী হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর এক প্রকৌশলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাবির সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তুর্য নগরীর বালিয়াপুকুরের একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। আর রাফিক খান থাকতেন মোন্নাফের মোড়ের একটি ছাত্রাবাসে। দুজনই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। দুজনের বন্ধুত্ব ছিল খুব ভাল। শুক্রবার রাতে রাফিক খান, তুর্য রায় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী একসঙ্গে মদপান করেছিলেন। এদের মধ্যে রাবির দুই শিক্ষার্থী মারা গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের নেতা তোহরাব হোসেন জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে রাফিক খান তুর্য তাকে ফোন করে মদপানের কারণে তাদের দুজনের অসুস্থতার কথা জানান। তিনি তাদের তার বাসার রোড এলাকার ছাত্রাবাসে ডাকেন। তখন রাফিক খান ও তুর্য রায় তার ছাত্রাবাসে যান। তোহরাব তাদের হাসপাতালে নিতে চাইলে তারা বলেন, কিছুক্ষণ বিশ্রাম করলে তারা ঠিক হয়ে যাবেন। তোহরাব তাদের ডাবের পানি ও স্যালাইন পান করতে দেন। এরপর তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর রাত ৩টার দিকে রাফিক খান বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ৪টার মধ্যে তাকে রামেক হাসপাতালে নেয়া হয়। এরই মধ্যে ছাত্রাবাসে থাকা তুর্য রায়েরও অবস্থার অবনতি হয়। তখন তাকেও হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রোববার ভোর ৫টার দিকে রাফিক খান এবং সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তুর্য রায় মারা যান। এ ব্যাপারে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত তিনজনের মরদেহ রামেকের মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনদেরও খবর দেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর বিদেশি প্রকৌশলীর মরদেহের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে এসব মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হবে বলেও জানান ওসি।

সারা দেশ পাতার আরো খবর