প্রকাশ : 2019-04-18

নুসরাতের সহপাঠী শামীম পাঁচ দিনের রিমান্ডে

১৮এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় জড়িত তার সহপাঠী শামীমকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পরিদর্শক মো: শাহ আলম ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সারাফ উদ্দিনের আদালতে শামীমকে উপস্থাপন করে ৭দিনের রিমান্ড চায়। আদালত ৫দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ১৫ এপ্রিল সোমবার বিকালে সোনাগাজী উপজেলার পশ্চিম তুলাতলি গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। তার পিতার নাম মো. সফি উল্লাহ। শামীম সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী। নুসরাতের সহপাঠী। ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পরিদর্শক মো: শাহ আলম নিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি, জানান মামলা এজহার ভূক্ত আসামী নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম ও আবদুর রহীম শরীফের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্ধীতে শামীমের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা। পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যান। শ্লীলতাহানির মামলায় আগে থেকেই কারাবন্দি ছিলেন সিরাজ উদদৌলা। হত্যা মামলা হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। সিরাজ উদদৌলার ‘ঘনিষ্ঠ’ নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে। বাকি আসামিদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজ উদদৌলাকে ৭ দিন, আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে ৫ দিন, জাবেদ হোসেনকে ৭ দিন, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, আবছার উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনকে ৫ দিন করে রিমান্ড দেয়া হয়েছে, কামরুন নাহার মনি ০৫ দিন রিমান্ড। গ্রেফতার রয়েছে হাফেজ আবদুল কাদের। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হয়েছেন সহপাঠী মো. শামীম ও জান্নাতুল আফরোজ মনি। এদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানান, তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িত পরোক্ষদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করতে থানায় যাওয়ার পর নুসরাতের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়ায় ১৫ এপ্রিল সোমবার সোনাগাজী থানার ওই সময়ের ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করা হয়েছে। এ মামলাও তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।

জাতীয় পাতার আরো খবর