প্রকাশ : 2018-01-23

ছোট টার্গেটে বড় জয়

তামিম ইকবাল হাফ-সেঞ্চুরির সাথে সাকিব আল হাসানের ৫১ ও ৩ উইকেট শিকারের কারণে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৯১ রানের বড় ব্যবধানে হারালো টুর্নামেন্টে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা স্বাগতিক বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১৬ রান করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তামিম ৭৬ ও সাকিব ৫১ রান করেন। জবাবে সাকিব ৩ ও মাশরাফি-সানজামুল-মুস্তাফিজুর ২টি করে উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ১২৫ রানেই অলআউট করে দেন। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই আউট হন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ৭ বলে ১ রান করে জিম্বাবুয়ের ডান-হাতি পেসার কাইল জার্ভিসের শিকার হন বিজয়। এরপর জিম্বাবুয়ের বোলারদের বিপক্ষে সতর্কতার সাথে ব্যাট চালান আরেক ওপেনার তামিম ও সাকিব। তাই রান তোলার গতিও ছিলো মন্থর। তবে দলের স্কোর তিন অংকে পৌঁছে দিতে পেরেছেন এ জুটি। দলকে শতকে পৌঁছাতে গিয়ে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন তামিম-সাকিব। তামিম ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪১তম ও সাকিব ৩৭তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান। হাফ-সেঞ্চুরির পর বেশি দূর যেতে পারেননি সাকিব। ৬টি চারে ৮০ বলে ৫১ রানে থামেন তিনি। দলীয় ১১২ রানে সাকিবের বিদায়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের সিদ্বান্ত নেন তামিম। কিন্তু বড় জুটিতে ব্যর্থ তারা। জুটিতে ৩৫ রান আসার পর বিচ্ছিন্ন মুশফিকুর। ১টি ছক্কায় ২৫ বলে ১৮ রান করেন মুশি। মুশফিকুরের বিদায়ের পর যাওয়া আসার মিছিল শুরু করে বাংলাদেশের পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ১৭০ই রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এসময় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২, সাব্বির রহমান ৬, নাসির ২, মাশরাফি শূন্য রানে সাজ ঘরে ফেরেন। এছাড়া ৭৬ রানে থামেন তামিম। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দ্রুত গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেটি হতে দেননি শেষ তিন ব্যাটসম্যান সানজামুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। সানজামুল ১৯ রান করে ফিরলেও, মুস্তাফিজুর ১৮ ও রুবেল ৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার ৪টি ও জার্ভিস ৩টি উইকেট নেন। ফাইনালের পথে এগিয়ে থাকতে হলে ২১৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট হাতে ভালো শুরুর চেষ্টা করেছিলো জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সেটি হতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। মাশরাফি ও সাকিবের বোলিং তোপে ৩৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে আফ্রিকার দলটি। ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৫ ও ক্রেইগ আরভিন ১১ রান করে মাশরাফির শিকার হন। আরেক ওপেনার সলোমন মির ৭ ও সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর শূন্য রানে শিকার হন সাকিবের। দ্রুত ৪ উইকেট হারানোয় ব্যাকফুটে চলে যায় জিম্বাবুয়ে। এরপর শুরুর ধাক্কা সামলে উঠার চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা ও পিটার মুর। বাংলাদেশ বোলাদের ডেলিভারিগুলো দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করেন রাজা ও মুর। এর মধ্যে এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরান বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম। ৪২ বলে ১৪ রান করা মুর ও ম্যালকম ওয়ালারকে শূন্য হাতে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন সানজামুল। ২৩তম ওভারে ৬ উইকেটে ৬৮ রানে পরিণত হয় জিম্বাবুয়ে। এরপর জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন রাজা। অধিনায়ক ক্রেমারকে নিয়ে রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন রাজা। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারেননি তারা। রাজা ৩৯ ও ক্রেমার ২৩ রান করে ফিরেন। তাদের বিদায়ের পর ১২৫ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বাংলাদেশের সাকিব ৩টি, মাশরাফি-সানজামুল-মুস্তাফিজুর ২টি করে উইকেট নেন। স্কোর কার্ড : বাংলাদেশ ইনিংস : তামিম ৭৬, এনামুল ১, সাকিব ৫১, মুশফিকুর রহিম ১৮, মাহমুদুল্লাহ ২, সাব্বির ৬, নাসির ২, মাশরাফি ০, সানজামুল ১৯, মুস্তাফিজুর ১৮, রুবেল ৮। অতিরিক্ত (লে বা-২, নো-১, ও-১২) ১৫মোট (৯ উইকেট, ৫০ ওভার) ২১৬। উইকেট পতন : ১/৬ (এনামুল), ১/১১২ (সাকিব), ৩/১৪৭ (মুশফিকুর), ৪/১৫৬ (মাহমুদুল্লাহ), ৫/১৬৩ (তামিম), ৬/১৬৭ (সাব্বির), ৭/১৬৮ (নাসির), ৮/১৭০ (মাশরাফি), ৯/১৯৬ (সানজামুল)। জিম্বাবুয়ে বোলিং : জার্ভিস : ৯-০৪২-৩,/চাতারা : ৭-০-৩৩-১ (ও-৫, নো-১),/মুজারাবানি : ৭-০-৩৬-০ (ও-২),/রাজা : ১০-১-৩৯-১ (ও-১),/ক্রেমার : ১০-০-৩২-৪,/ওয়ালার : ৭-০-৩২-০। জিম্বাবুয়ে ইনিংস : হ্যামিল্টন ৫,সলোমন ৭,ক্রেইগ ১১,ব্রেন্ডন ০,সিকান্দার রাজা ৩৯,পিটার মুর ১৪,ম্যালকম ওয়ালার ০,ক্রেমার ২৩,জার্ভিস ১০,চাতারা ৮,মুজারাবানি ০। অতিরিক্ত (ও-৮) ৮। মোট (অলআউট, ৩৬.৩ ওভার) ১২৫ উইকেট পতন : ১/১৪ (মাসাকাদজা), ২/২০ (মির), ৩/২০ (টেইলর), ৪/৩৪ (আরভিন), ৫/৬৮ (মুর), ৬/৬৮ (ওয়ালার), ৭/৯৫ (ক্রেমার), ৮/১০৭ (রাজা), ৯/১১৮ (চাতারা), ১০/১২৫ (জার্ভিস)। বাংলাদেশ বোলিং : সাকিব : ৯-২-৩৪-৩ (ও-১),/মাশরাফি : ৬-০-২৯-২ (ও-২),/সানজামুল : ১০-০-২৮-২ (ও-১),/মুস্তাফিজুর : ৬.৩-৩-১৬-২,/রুবেল : ৫-১-১৮-১, ফল : বাংলাদেশ ৯১ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা : তামিম ইকবাল(বাংলাদেশ)।