প্রকাশ : 2019-05-10

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা

১০ মে,শুক্রবার ,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম : তিন সাংগঠনিক টার্গেট সামনে রেখে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। এগুলো হচ্ছে- কাউন্সিলের মাধ্যমে দক্ষ ও মেধাবী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, তৃণমূলের কোন্দল নিরসন করে দলকে আরও শক্তিশালী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা। এ টার্গেট পূরণে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একগুচ্ছ নির্দেশনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। জেলায় জেলায় চলছে বর্ধিত সভা। দলীয় সূত্রমতে, ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগামী অক্টোবরেই শেষ হচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ। দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন যথাসময়েই করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। অক্টোবরের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার সম্মেলনের তাগাদা দিয়েছেন দলীয় প্রধান। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এখন সে লক্ষ্যে জেলায় জেলায় বর্ধিত সভা করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করছেন।গত বুধবার মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গত শুক্রবার সিলেট বিভাগীয় বর্ধিত সভা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। পরে জেলা নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন হানিফসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলায় দ্রুত সম্মেলন করার তাগাদার পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীরা যেন দলের পদ-পদবিতে আসতে না পারে সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সিলেটের বৈঠক প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যেসব সাংগঠনিক ইউনিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসব জায়গায় আগামী অক্টোবরের আগে দ্রুত সম্মেলন করতে তাগাদা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো সমস্যা থাকলে সেগুলো সমাধানেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, স্থানীয়ভাবেও সতর্ক থাকতে হবে।জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে জাতীয় সম্মেলন সফলে ৮টি পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সভা থেকে কমিটিগুলোতে কার কী ভূমিকা থাকবে, তা নির্ধারণের জন্য সম্পাদকম লীর কয়েকজন সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পেয়েই নেতারা বিভাগীয় নেতাদের ঢাকায় ডেকে আনেন। গত ২৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা খুলনা বিভাগের জেলা নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে এ বিভাগের জেলাগুলোতে বর্ধিত সভা করার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে গত ৪ মে মাগুরায় বর্ধিত সভা করা হয়েছে। ১১ মে শনিবার চুয়াডাঙ্গা, ১২ মে রবিবার যশোর, ১৩ মে সোমবার নড়াইল, ১৪ মে মঙ্গলবার মেহেরপুর, ১৮ মে শনিবার খুলনা মহানগর, ১৯ মে রবিবার খুলনা জেলা, ২০ মে সোমবার কুষ্টিয়া, ২১ মে মঙ্গলবার ঝিনাইদহ জেলা কমিটির বর্ধিত সভার তারিখ নির্ধারণ করা আছে। এসব সভায় মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।অন্যদিকে ফেনীতেও বর্ধিত সভা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি বিভাগগুলোতে বর্ধিত সভা ডেকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সে মোতাবেক আমরা বিভিন্ন জেলায় বর্ধিত সভা করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করছি। ছোটখাটো বিরোধ থাকলে তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, তৃণমূলকে আমরা বার্তা দিচ্ছি, দলকে সুসংগঠিত করা, মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক কমিটিকে সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানো। একই সঙ্গে ২০২০-২০২১ সালকে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে পালন করতে চাই। এ জন্য যা যা করা প্রয়োজন সে দিকনির্দেশনা থাকছে জেলা সফরে। জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। কোথাও এমপি বনাম আওয়ামী লীগ দ্বন্দ্ব চলে আসছে।জাতীয় সম্মেলনের আগে এমন কোন্দল নিরসনের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্য নিয়ে জেলা-উপজেলায় বর্ধিত সভার পাশাপাশি ঢাকায় ডেকে এনে কোন্দল নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় টিম কাজ করছে। কিছু জেলা নেতাকে ঢাকায় ডেকে বা তৃণমূলে গিয়ে বৈঠক করে সমাধান করা হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ২০২০-২০২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন থেকে মুজিববর্ষ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে। ইতিমধ্যে মুজিববর্ষ উদযাপনে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের বছরব্যাপী কর্মসূচি পালনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সদস্য সচিব করে দলীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর জাতীয় অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে উচ্চপর্যায়ের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। সদস্য সচিব করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে। দুটি কমিটির নেতৃত্বে গঠন করা হবে উপকমিটি। দলীয় সূত্রমতে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সব বয়সের শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মুজিববর্ষ উদযাপিত হবে।এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সব সহযোগী সংগঠনগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হবে। দেশের জ্ঞানী-গুণী-বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে থাকবে আলাদা আয়োজন। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, পাশাপাশি সরকারিভাবেও এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জন্মশতবার্ষিকীতে শিশু-কিশোরদের জন্য ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কুলভিত্তিক খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, নাটক, কবিতা আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা থাকবে। কামার, কুমার, জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাদের জন্য বঙ্গবন্ধু সারা জীবন কাজ করেছেন তাদের জন্যও কর্মসূচি রাখবে আওয়ামী লীগ। জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতার জীবন এবং কর্ম নিয়ে বেশ কিছু বইও প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।