প্রকাশ : 2019-05-28

মানবিক এক পুলিশ অফিসার পাহাড়তলী থানার ওসি মোঃ মইনুর রহমান

২৮মে,নিজেস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: জনগণের বন্ধু বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের মূল কাজই হচ্ছে মানুষের সেবা করা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের অবদান,ত্যাগ কোনো অংশে কম নয়। জনগণের নিরাপত্তায় সর্বদা বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৭৫ সালের ২০ শে আগষ্ট ও ১৯৭৫ সালের ৮ ই নভেম্বরের ঘোষনা অনুসারে এবং তদসূত্রে প্রাপ্ত সকল ক্ষমতাবলে তৎকালিন রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮ প্রণয়ন করার মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ( সিএমপি) র যাত্র শুরু হয়। ঠিক তখনি প্রাচ্যের রানী হিসেবে খ্যাত পাহাড়ের পাদদেশে ১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর ৬ টি থানা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের মধ্যে অন্যতম থানা হচ্ছে পাহাড়তলী থানা। পাহাড়তলী থানা এলাকার ইতিহাস রয়েছে অনেক, তৎমধ্যে উল্লেখ যোগ্য একটি ঘটনা হচ্ছে,মাষ্টারদা সূর্যসেন ও তাঁর দল বিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় পাহাড়তলী থানায় অবস্থিত তৎকালিন আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের চট্টগ্রাম কোষাগার লুন্ঠন করেন, ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্যসেনের অন্যতম সহযোগী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার উক্ত থানা এলাকার ইউরোপিয়ান ক্লাবে সফল আত্রুমণ পরিচালনা করে গ্রেফতার এরানোর জন্য পটাসিয়াম সায়ানাইট খেয়ে আত্মাহুতি দেন। বিভিন্ন ঋষি, মনীষী,রাজনীতিবিধের পদচারনাকৃত এই পাহাড়তলী থানাকে নিয়ে ইতি মধ্যে লেখালেখি কম হয়নি। কখনো মাদক,কখনো নিরাপত্তা ,কখনো চুরি,ডাকাতি,খুন ,মারামারী সহ অনেক ঘটনা নিয়ে এই পাহাড়তলী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক লেখালেখী হয়েছে খবরের কাগজে। কিন্তু চলিত বছরের ১২ মার্চ চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমানের জারীকৃত অফিস আদেশ অনুযায়ী নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোঃ মইনুর রহমানকে পাহাড়তলী থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হলে ওসি মইনুর উক্ত থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থানা এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যেগ গ্রহন করেন। শুধু তাই নয় তিনি এক মা ও তার নবজাতক শিশুকে বাচিয়ে এক মানবিক পুলিশ অফিসার হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সম্প্রতি ধামরাইয়ের গ্রাফিক্স টেক্্রটাইলস লিঃ এর ১৬০০০ পিস টি শার্ট নিয়ে বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভার মো: মহিন সহ অপরাপর অপরাধীরা উক্ত টি শার্ট চুরি করে পালিয়ে গেলে,অভিযোগ পেয়ে পাহাড়তলী থানার ওসি মঈনুরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামী গ্রেফতার করে ৩৫ লাক্ষ টাকা মূল্যের টি শার্ট উদ্দার করেন। প্রতি শুক্রবার এলাকার বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে জুমার সময় গিয়ে মাদক,সন্ত্রাস,অপরাধীদের বিরুদ্ধে জনসচেতন সৃষ্টির লক্ষ্যে ওসি মঈনুর গণসংযোগ করেন এবং বক্তব্য রাখেন। গাড়িতে নারী যাত্রীরা যৌন হয়রানীর শিকার হওয়া থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে উক্ত থানাধীন অলংকার মোড়ে শহর এলাকা ও দূরপাল্লার গাড়িতে ওসি মঈনুর নিজে নারী যাত্রীদের সহিত ভালো আচরণ করার জন্য গাড়ির ড্রাইভার,হেলপার,কন্ট্রাক্টরদের অনুরোধ জানিয়ে প্রচার পত্র বিলি করেন। পরবর্ত্তীতে ১৬ এপ্রিল ওসি মঈনুর তার ফেইজবুকে ছবি সহ একটি মানবিক ঘটনার চিত্র তুলে ধরেন। চিত্রটি হচ্ছে,এক নারী যখন তার সদ্য প্রসবকৃত সন্তান নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে খরচ দিতে না পারায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাকে সদ্যজাত শিশু সহ হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়,তখন পুলিশ খবর পেয়ে মা ও শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। এই মা ও শিশুর মুখের হাসিটাই আমার জন্য অনেক বড় উপহার। বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর অতি ব্যস্ততম ও শিল্প এলকায় অবস্থিত পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো: মঈনুর রহমান ও অফিসার তদন্ত মো: ইমাম হাসানের নেতৃত্বে উক্ত থানা এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ,মাদক,জঙ্গিবাদ,সন্ত্রাস সহ সকল ধরনের অপরাাধ নিয়ন্ত্রণে উদ্যেগ নিয়েছেন যা ইতি মধ্যে পাহাড়তলী থানা এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই ধরনের মানবিক পুলিশ অফিসার দেশের সকল থানায় প্রয়োজন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর