প্রকাশ : 2019-06-13

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে যা আছে

১৩জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের শতকরা ১৪ দশমিক ২১ ভাগ এবং জিডিপির শতকরা ২ দশমিক ৫৮ ভাগ। গত অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিলো ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ জনে বাড়ানো এবং উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারের বাজেটে বড় আকারের ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করবে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত কর আদায় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর ছাড়া আদায় বা প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে। মোবাইল: মোবাইল গ্রাহকের কথা বলার ওপর করহার বাড়ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চলমান ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে তা থেকে প্রায় ২৭ টাকা কর বাবদ নিয়ে যাবে সরকার, যা এখন ২২ টাকা। ফলে গ্রাহক যত বেশি কথা বলবে, তত বেশি কর পাবে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট প্রস্তাবে তিনি এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। এর আগে বাজেটে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয় এবং পরে ওই প্রস্তাবে সই করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এটি দেশের ৪৮তম ও বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। বর্তমানে মোবাইল সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং তার সঙ্গে ১ শতাংশ সারচার্জসহ মোট করের পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যমান করের সঙ্গে বাড়তি ৫ শতাংশ যোগ হচ্ছে। বাড়তি করহার পাস হলে মোবাইল সেবায় মোট করহার দাঁড়াবে প্রায় ২৭ শতাংশ। ফলে গ্রাহকের কথা বলার খরচ আরও বেড়ে যাবে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল সেবার বাইরে এখন প্রতি সিম সংযোজন এবং প্রতিস্থাপনে ১০০ টাকা নির্ধারিত কর দিতে হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সিমকে প্রথমবারের মতো করের আওতায় আনা হয়। তবে প্রথমদিকে নির্ধারিত কর ছিল ৩০০ টাকা। ক্রমান্বয়ে তা কমিয়ে আনা হয়। গ্রাহকের সংখ্যা বাড়াতে নিজেরাই এই কর দেয় মোবাইল অপারেটররা। যদিও এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে মোবাইল অপারেটররা। বিড়ি-সিগারেটের দাম: নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রস্তাবিত বাজেটে বাড়ছে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের সম্পূরক শুল্ক। ফলে বাড়বে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের দাম। প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার দাম ৩৭ টাকা। যাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ। মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার দাম ৬৩ টাকা এবং ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। আর উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ৯৩ টাকা ও ১২৩ টাকা। আর এতে থাকছে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের প্রস্তাব। হাতে তৈরি ফিল্টারবিহীন বিড়ির ২৫ শলাকার দাম ১৪ টাকা এবং ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। ফিল্টারযুক্ত বিড়ির ২০ শলাকার দাম ১৭ টাকা ও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের দাম ১৫ টাকা এবং ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের জন্য বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে। পেনশন: প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সবার জন্য পেনশনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, সরকারি যে পেনশন ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে জনসংখ্যার খুব সামান্য একটি অংশ এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। দেশের সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের সব কর্মীকে ক্রমান্বয়ে পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে শিগগিরই ইউনিভার্সাল পেনশন অথরিটি গঠন করবে সরকার। সেই সঙ্গে পেনশনভোগীদের সবাইকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির আওতায় আনা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইএফটি পদ্ধতিতে ২৭ হাজার পেনশনভোগী তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যমে পেনশনের টাকা পাচ্ছেন। আগামী অর্থবছরে সব পেনশনভোগী এই পদ্ধতির আওতায় চলে আসবেন। এদিকে দেশের ইতিহাসে ১২তম দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টা ৭ মিনিটে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্য শুরু করার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ করেন। এ সময় স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, আপনি চাইলে বসে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। আওয়ামী লীগের সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম পাশ থেকে অর্থমন্ত্রীকে বাজেট বক্তব্য কীভাবে উপস্থাপন করতে হয়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছিলেন। এরপর, অর্থমন্ত্রী তার আসনে বসে বাজেট বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। অর্থমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি এবারের বাজেটকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাজেট বলে অভিহিত করেন। তার আগে সাদা পাঞ্জাবির ওপর মুজিব কোট পরে তিনি সংসদে প্রবেশ করেন।