প্রকাশ : 2019-06-21

ভারতে হামলা চালাতে পারে আইএস

২১জুন২০১৯,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:গত মার্চ মাসেই শ্রীলংকায় এক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও অভিজাত হোটেল লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় প্রাণ হারান ২৫০ জনের বেশি মানুষ। ভারতীয় গোয়েন্দারা বলছেন, এবার ভারতে হামলা চালাতে পারে জঙ্গি দলটি। গোয়েন্দা ও পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটি দাবি করা হয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ইতিমধ্যে আইএসের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কেরালা পুলিশকে সতর্ক করেছে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। এ বিষয়ে পাঠানো এক চিঠিতে গোয়েন্দারা বলেছে, ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় শ্রীলংকা ও ভারতের দিকে নজর পড়েছে আইএসের। এই দুই দেশে বড় ধরণের হামলার ছক কষছে তারা। আনন্দবাজার জানায়, সম্প্রতি কেরালা পুলিশ বিভাগের তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠয়েছে গোয়েন্দারা। চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের ঘাঁটি হারিয়েছে আইএস।তবে জঙ্গিবাদ বন্ধ করে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। ভারত ও শ্রীলংকায় নতুন করে নাশকতার ছক কষছে তারা।দুই সপ্তাহ আগে এমন একটি চিঠি প্রকাশ পায় স্থানীয় গণমাধ্যমে। তাতে বলা হয়েছিল, কেরালার কোচিতে অবস্থিত সরকারি কার্যালয় ও একটি জনপ্রিয় শপিং মলে হামলা হতে পারে। সেখানকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দাবি, কেরালা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কাশ্মীরের মতো প্রদেশগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আইএসের সক্রিয়তা সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, মেসেঞ্জার অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে এতদিন যাবত তথ্য আদান-প্রদান করত আইএস। কিন্তু তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সম্প্রতি তারা চ্যাটসিকিয়ুর, সিগন্যাল ও সাইলেন্ট টেক্সটের মতো তুলনামূলক নিরাপদ অ্যাপ ব্যবহার করছে।কেরালার পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, গত কয়েক বছরে ওই প্রদেশ থেকে প্রায় ১০০জন আইএসে যোগ দিয়েছে। তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিল আরো কয়েক হাজার মানুষ। প্রদেশের ২১টি কাউন্সেলিং সেন্টারে তাদের মধ্যে তিন হাজার জনকে স্বাভাবিক জ্ঞানে ফেরানো গেছে। তবে নজরদারির মধ্যে রয়েছে তারা। গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা পেয়ে রাজ্যের নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে। নজরদারি চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর