প্রকাশ : 2019-07-16

নির্লোভী, সৎ, নিষ্টাবান এডভোকেট চট্টগ্রামের রতন চন্দ্র দাশ

১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,সুজন আচার্য্য,আদালত প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:আইন পেশা প্রাচীন পেশাগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশে এ পেশার ইতিহাস পুরনো। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, আমাদের এই ভূখন্ডে প্রাচীনকালে আইন পেশার প্রচলন থাকলেও তা আধুনিককালের মতো সুসংগঠিত ছিল না। মুসলিম শাসনামলে বাংলায় আইনচর্চা মহৎ পেশা হিসেবে স্বীকৃত ছিল। মুসলিম যুগে বিচারক (কাজী) এবং আইনজীবী (মুফতি), উভয়ই ইসলামি শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞ ছিলেন। মুফতিরা আদালতে আইনজীবীর ভূমিকা পালন করতেন এবং একই ভূমিকা পালন করতেন হিন্দু পন্ডিতরাও। ঐ সময়ে আইনজীবীরা উকিল হিসেবে পরিচিত ছিলেন।আধুনিক ধারার আইন পেশার শুরু তদানিস্তন বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে। গর্ভনর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস কোম্পানির বিচার কাজের সুবিধার্থে ১৭৯৩ সালে আইনের মাধ্যমে ইংরেজ আদলে আইন পেশার সূচনা করেন।ইংরেজদের আইনে অভিজ্ঞদেরই আইন পেশায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়া হয়। তবে ইংরেজ আইনজীবীরা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তীকালে স্থানীয়দেরও নিম্ন আদালতে বিচারকাজে আইনজীবী হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়া হয়। কালক্রমে আইন পেশা একটি মহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রেই আইন পেশার প্রভাব লক্ষণীয়। একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী আইনজীবী সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারেন এবং হতে পারেন নতুন সমাজ নির্মাণের কারিগর। এ জন্য আইনজীবীকে সমাজ নির্মাণের কারিগর হিসেবে অভিহিত করা হয়। সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে এবং জাতির সঙ্কটময় মুহূর্তে আইন পেশার ভূমিকা ইতিহাস পাঠে জানা যায়। আসলে সমাজসেবার মহান ব্রতই আইন পেশার মূলমন্ত্র। আইনজীবীর জীবন কঠিন সংগ্রামের জীবন। তাকে জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংগ্রাম করতে হয়। সংগ্রামের ওপরই তার সফলতা নির্ভর করে। সামাজিক স্বীকৃতির সঙ্গে তিনি অর্জন করেন সম্মান, যশ, অর্থবিত্ত এবং ক্ষমতা-প্রতিপত্তি। সমাজে দ্বিতীয় কোনো পেশা নেই যার মাধ্যমে সম্মান, সম্পদ ও ক্ষমতা একই সাথে লাভ করা যায়। একজন সফল ব্যবসায়ী অর্থসম্পদের মালিক হতে পারেন, রাজনীতিবিদ ক্ষমতা ভোগ করতে পারেন এবং সমাজসেবক সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হতে পারেন, কিন্তু একজন আইনজীবী এর সবই অর্জন করতে সক্ষম। এ দিক থেকে আইন পেশা স্বতন্ত্র মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। অনেক সমাজবিজ্ঞানী আইন পেশাকে সর্বশ্রেষ্ঠ পেশা হিসেবে অভিহিত করেছেন।আইনজীবী একজন পেশাদার ব্যক্তি। স্বভাবতই তাকে পেশার উৎকর্ষ সাধনে সব সময় সজাগ ও সচেষ্ট থাকতে হয়। আইন পেশা জীবনভিত্তিক। এই মহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ পেশার সদস্য হতে হলে একজন আইনজীবীকে অবশ্যই বিশেষ গুণাবলির অধিকারী হতে হয়। সর্বাবস্থায় তাকে মক্কেলের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হয়। আইনজীবীর পেশাদারিত্ব নির্ভর করে তার জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও চরিত্রের ওপর।ন্যায়বিচার প্রদানই হচ্ছে আদালতের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য। আইনজীবী মামলা-মোকদ্দমায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচারককে সাহায্য প্রদান করে থাকেন। বিচারের নীতি হলো- প্রয়োজনে প্রতি ১০ জন অপরাধীর ৯ জনই ছাড়া পেয়ে যাবে তবুও যেন ১ জন নিরাপরাধ ব্যক্তির ভুলবশতঃ হলেও সাজা হয়ে না যায়। কেননা, প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তি দিতে গিয়ে যদি কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি কিংবা কারাভোগ করতে হয় তার চেয়ে বড় কোন অপরাধ হতে পারে না। এতে করে মানবাধিকার হয় ভূলুণ্ঠিত এবং সমাজে প্রতিশোধের জিঘাংসা ও অপরাধ-প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এ ক্ষেত্রে বিচারকের দৃষ্টিতে যে সব সূক্ষ্ম ও ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র তথ্য ও তত্ত্ব ধরা পড়ে না আইনজীবীগণ নিজ নিজ পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করার মাধ্যমে বিচারকগণকে সত্য উদঘাটনে প্রচন্ডতম সহযোগিতা প্রদান করে মানবাধিকার সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছেন। ফলে বিচারকগণ নিখুঁত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। ওকালতি ব্যবসা নয়, সেবা ।আইন নিয়ে জীবিকা একটি মহান পেশা। তবে সেবার মনোভাব নিয়ে আইন পেশায় কাজ করতে হবে। এই পেশা একটি মহৎ পেশা। এর মাধ্যমে মানুষের অধিকার প্রাপ্তির বিষয়ে সহায়তা করা যায়। গরিবের পাশে গরিবের বন্ধু হয়ে আইনপেশায় নিয়োজিতদের দাঁড়াতে হবে।চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানাধীন দক্ষিণ কাট্টলীর বাসিন্দা মৃত মরন চন্দ্র দাশের প্রথম পুত্র এডভোকেট রতন চন্দ্র দাশ গত ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এল.এল.বি পাশ করার পরে চট্টগ্রাম আদালতের সুনামধন্য সিনিয়র এডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের সহকারী হিসেবে আইনী পেশার পথ চলা শুরু করেন। এডভোকেট রতন চন্দ্র দাশ ২০১৪ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন এবং একই বছর চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি বার এসোসিয়েশনের সদস্য পদ লাভ করেন। নির্লোভী, সৎ, নিষ্টাবান ও আইন পেশায় যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম আদালতে প্রতিদিন অসংখ্য অসহায় ব্যক্তিদেরকে আইনী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে দেশের সুনামখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস এন্ড জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন(এমজেএফ) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আইন বিষয়ক সচিব হিসেবে দায়ীত্ব পালন করছেন। উক্ত সংস্থায় দায়ীত্ব পালন কালে তিনি ইতি মধ্যে সংস্থার অনেক অসহায় গরিবদেরকে আইনী সেবা দিয়েছেন বলে জানা যায়।এডভোকেট রতন চন্দ্র দাশ তার মতপ্রকাশে বলেন, সৃষ্টি জগতে ধনী গরিব সকলে মানুষ,মানুষের কল্যাণে যে কাজ তাকে মানব সেবা বলে,আইনী পেশাও একটি মানবসেবা মূলক পেশা,তাই আমি চেষ্টা করছি মানুষের সেবা করার জন্য,কতটুকু পেরেছি বা সফল হয়েছি তা আপনারাই ভালো বলতে পারেন। চট্টগ্রাম আদালতে অনেক সিনিয়র এডভোকেট আছেন, তাদের তুলনায় আমি এখনো শিক্ষার্থী।আমি সকলের নিকট আশির্বাদ কামনা করছি ,আমি যেন সিনিয়রদের মতো এই পেশায় থেকে মানুষের সেবা করে যেতে পারি।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর