প্রকাশ : 2019-08-01

আওয়ামী লীগের বর্তমানে ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৭ টাকা জমা রয়েছে

০১আগস্ট,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, যারা ঈদ উদযাপন করার জন্য ঢাকার বাইরে যাবেন, তারা যেন রক্ত পরীক্ষা করে যান। কারণ তারা যদি ডেঙ্গু নিয়ে বাইরে যান, তাহলে ঢাকার বাইরে এটি অনেক বেশি বিস্তার লাভ করবে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে দলটির বার্ষিক প্রতিবেদন (আয়-ব্যয়ের হিসাব) জমা দেন। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মশারি টাঙানোর পরামর্শ দিয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আমাদের সচেতন হওয়া খুবই জরুরি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মশারি ব্যবহার করি। কারণ মশা কোন সময় কামড় দেবে ঠিক নাই। আবার ঘরের কোণে কিছু আছে কিনা সেটাও দেখা দরকার।মানবজমিন । এ সময় তিনি ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য মিডিয়াগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নাগরিক দায়িত্ববোধ আসতেই হবে। আমরা দেখছিলাম যে, প্রথম থেকেই এ বিষয়গুলো নিয়ে তেমন একটা প্রচার হচ্ছিল না। এখন বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে প্রথম প্রচার হওয়ার পর অন্যান্য টেলিভিশনও ডেঙ্গু নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আতঙ্ক বড় জিনিষ। আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য অনেকে আবার এটা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে অনেক কথা বলেন। এগুলো দেখার বিষয় আছে। একদিকে মশা নিধন করতে হবে। অন্যদিকে চিকিৎসায় জোর দিতে হবে। চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল। প্রাইভেট হাসপাতালগুলো রোগী নিতে চাচ্ছিল না। আমরা তাদেরকে বাধ্য করেছি। ঢাকার দুই মেয়র এর জন্য দায়ী কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়ররা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তারা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারেন না। মেয়র কি করলেন না করলেন তার চেয়ে বড় কথা তার অধীনস্থ কর্মচারী-কর্মকর্তারা কি করছেন। তাদের খোঁজ খবর নেয়া। এছাড়া ওষুধ ঠিক মতো দেয়া হয় কি না, সেটারও খোঁজ রাখতে হবে। ওষুধ ছাড়াও এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় জিনিস হলো জনসচেতনতা বাড়ানো। এইচ টি ইমাম বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী, স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে থেকেও আন্দোলন করেছে। আবার সরকার গঠনের পর আইন করে বিভিন্ন সময়ে এটিকে আমরা ক্ষমতায়ন করেছি। নির্বাচন কমিশন যেন তার কাজ ঠিক মত করতে পারে এবং সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে প্রত্যেককে নির্দেশ দিতে পারেন এবং সেগুলো যেন কার্যকর হয়। নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর করার জন্য তারা যখন যে নির্দেশনা দেন, সেগুলো আমরা পালন করি। তিনি আরও বলেন,কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারে আছে। তাই বলে নিয়ম কানুন মানবে না কিংবা নির্বাচন কমিশনকে মানবে না এটি হতে পারে না। আমরা মানলে অন্যরাও মানবে। আমাদেরকে দেখে অন্যরা শিখবে। আমাদের দল সবচেয়ে প্রাচীন, সবচেয়ে ঐতিহ্যপূর্ণ। কাজেই আমরা কতগুলো ঐতিহ্য ও ধারা প্রবর্তন করতে চাই। সবাই যাতে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম কানুন মেনে চলেন এটিও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম একটি অঙ্গ। আওয়ামী লীগের তহবিলে জমা ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আওয়ামী লীগের তহবিলে বর্তমানে ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৭ টাকা জমা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এইচ টি ইমাম। নির্বাচন কমিশনে ইসি সচিব আলমগীর হোসেনের কাছে হিসাব জমা দেয়ার পর মিডিয়া সেন্টারে এইচটি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, এবার আওয়ামী লীগের আয় হয়েছে ২৪ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৭০৭ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৭ টাকা। দলের তহবিলে বর্তমানে ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৭ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে। দলীয় তথ্য মতে, আওয়ামী লীগের মোট আয় ২৪ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৭০৭ টাকা। আয়ের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে চাঁদা এক কোটি ৪৫ লাখ ১৯ হাজার ৭০০ টাকা, সদস্য সংগ্রহ/নবায়ন ফরম বিক্রি দুই কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫২০ টাকা,নমিনেশন ফরম বিক্রি ১০ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকা ও অনুদান ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৫৫ টাকা। চাঁদার মধ্যে কার্যনির্বাহী সদস্যদের চাঁদা ৩৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, উপদেষ্টাদের চাঁদা ১০ লাখ ৩৩ হাজার ২০০ টাকা, জাতীয় কমিটির সদস্যদের চাঁদা ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা, সংসদ সদস্যদের ৭৯ লাখ ২২ হাজার টাকা ও সংরক্ষিত আসনের এমপিদের চাঁদা ১৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। এই আয়ের বিপরীতে ২০১৮ সালে দলটির ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৭ টাকা। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ভবন নির্মাণে ১০ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বর দলটির স্থিতি ছিল ৩২ কোটি ২২ লাখ ১৬ হাজার ৪৩৭ টাকা। ২০১৮ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত এর পরিমাণ বেড়ে ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের আয় ছিল ২০ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৬ টাকা,আর ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৯ টাকা। ২০১৬ সালের আওয়ামী লীগের আয় হয়েছিল ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭ টাকা,সেই বছর ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯৯ টাকা এবং স্থিতি ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৯ টাকা। ২০১৫ সালে দলটির আয় হয়েছিল ৭ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ টাকা। আর ব্যয় ছিল ৩ কোটি ৭২ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৯ টাকা। অর্থাৎ সে সময় দলটি প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত দেখিয়েছিল। ২০১৪ সালে দলটি আয় দেখিয়েছে ৯ কোটি ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৩ টাকা। আর ব্যয় দেখিয়েছে ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২১ টাকা। ওই বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ আয় দেখিয়েছিল ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর ব্যয় দেখিয়েছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এতে প্রায় ৬ কোটি টাকা দলটির উদ্বৃত্ত ছিল। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মেনে নিবন্ধিত দলকে প্রতি পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পরের বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ইসিতে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে, কোনও দল ওই সময়ের আগে ইসিতে আবেদন করে সময় বাড়াতে পারে। কোনও দল পরপর তিন বছর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে নির্বাচন কমিশন চাইলে তার নিবন্ধন বাতিল করতে পারে।

জাতীয় পাতার আরো খবর