শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
প্রকাশ : 2019-08-21

কাশ্মীরে পুলিশসহ বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২

২১আগস্ট,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আজ বুধবার একজন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর এই প্রথম হিমালয়ের উপত্যকায় এমন ঘটনা ঘটল। পুলিশ আরো জানায়, উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা এলাকায় হওয়া এই বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের দুজন সদস্যও আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-ক অনুচ্ছেদ দুটি বাতিল করে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দাদের কাশ্মীরে সম্পত্তি ক্রয় করার ওপর বিধিনিষেধ উঠে যায়। পাশাপাশি অন্য রাজ্যে বসবাসরত ভারতীয়দের কাশ্মীরে সরকারি চাকরি পাওয়া কিংবা কাশ্মীরে স্থায়ীভাবে বসবাসের বিধিনিষেধও বাতিল হয়ে যায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেয় মুসলিম-অধ্যুষিত কাশ্মীরে যুদ্ধরত জঙ্গিরা। এদিকে কাশ্মীরকে নিজেদের অংশ দাবি করা পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাশ্মীরে সম্ভাব্য নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলে এ মাসের শুরু থেকেই প্রচুর বাড়তি আধাসামরিক সেনা মোতায়েন রেখেছে মোদি সরকার। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপত্যকার বারামুল্লার এলাকায় অভিযান চালিয়েছে আধাসামরিক সেনারা। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কাশ্মীরে কারফিউ জারির পর থেকে কমপক্ষে দুই হাজার তিনশর বেশি কাশ্মীরিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত সোমবার রাতভর শ্রীনগরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপি এসব তথ্য জানিয়েছে। আকস্মিক এক পদক্ষেপে গত ৫ আগস্ট মোদি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে পুরোপুরি ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দেয়। ভারত সরকার ৪ আগস্ট থেকেই হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে পুরো কাশ্মীর উপত্যকাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে রেখেছে। দুই সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন কাশ্মীরবাসী। সে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ উপেক্ষা করে স্বায়ত্তশাসন বাতিলের প্রতিবাদে মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে বিক্ষোভ করছেন কাশ্মীরের জনগণ। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষও হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর