প্রকাশ : 2019-09-29

উপড়ে ফেলতে হবে-কিশোর গ্যাং

২৯সেপ্টেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশজুড়ে মফস্বল শহর ও নগর কেন্দ্রিক কিশোর অপরাধ বেড়েই চলেছে। এসব অপরাধীদের অঘোষিত সাংগঠনিক রূপ কিশোর গ্যাং। কথিত বড় ভাইয়েরা এ গ্যাং এর মূল নিয়ন্ত্রক ও শক্তি। এ কিশোর গ্যাং ইতিমধ্যেই এত বেশী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে যে তুচ্ছ ঘটনায় নিজের সহপাঠী বা বন্ধুকে অথবা প্রতিপক্ষকে তারা হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। দিন দিন কিশোর গ্যাং এর বিস্তার ঘটছে। খুন খারাবি থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং অপহরণসহ নানারকম অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কথিত বড় ভাইদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এলাকা ভিত্তিক গড়ে উঠেছে ছোট বড় শতাধিক কিশোর গ্রুপ। এসব গ্রুপের বেশিরভাগ সদস্যদের বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরের মধ্যে । কথিত বড় ভাইদের প্রশ্রয়েই বিপথগামী হচ্ছে এসব কিশোর উঠতি যুবকেরা। বড় ভাইয়েরা এসব কিশোরদের হাতে তুলে দিচ্ছেন অবৈধ অস্ত্র এবং অপরাধ জগতে পা বাড়াতে উৎসাহ দেন। তাদের হাতে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হন সমাজের নিরীহ নারী পুুরুষ। সম্প্রতি কমনওয়েলথ কর্তৃক তৈরি গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইন ডেক্সে বলা হয়েছে বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়। উঠতি বয়সি অনেক কিশোর-কিশোরী হঠাৎ করে এবং কিভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যায়। এ বিষয় নিয়ে মনোবিজ্ঞানী ও সমাজ বিজ্ঞানীদের অনেক ভালো বিশ্লেষণ রয়েছে। আমাদের মতে বল্গাহীনভাবে ফেসবুক ব্যবহার। মোবাইল ফোনের আধিপত্য, বিকট শব্দে বাইক চালা, পাশ্চাত্য ঢং এ চলাফেরা, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের প্রভাব ও মা বাবার কম নজরদারী কিশোরদের অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ। কিশোর অপরাধের মূলে রয়েছে অনেক কারণ। জ্ঞানের সংস্পর্শে বিদ্যালয়ের পরিবেশে ভালো বন্ধুর সাহচার্য একটি শিশু বা কিশোরদের ভালোভাবে বেড়ে উঠায় সাহায্য করে। তবে কিশোর অপরাধ রোধে মা বাবার ভূমিকাটাই বড়। ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে কার সংগে মিশছে টিভিতে, মোবাইল ফোনে, কম্পিউটারে কি দেখছে, পড়াশোনা করছে কিনা ক্লাস ফাঁকি দিচ্ছে কিনা এসব দেখার দায়িত্ব বড়দের। সবাই কি তা পালন করছেন? অনেক অভিভাবক সুরম্য অট্টালিকা বানাতে, নিজেদের ব্যবসায় চিন্তা করে করে দিন রাত ব্যস্ত থাকে। বিদেশে শিক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া, নিজেরা কেউ কেউ অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা করে। কিশোরদের হাতে দামি দামি সাইকেল, মোটর সাইকেল দিয়ে চেঁচিয়ে বেড়ায় উচ্ছেন্নে গেল বলে? অঢেল অর্থও অনেক শিশু কিশোরকে বেপরোয়া করে তুলছে। যার প্রমাণ ভুরি ভুরি। আশার কথা, বেপরোয়া গ্যাং কালচার রুখে দেয়ার উদ্যোগের কথা বলছেন-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সজাগ ও কঠোর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই। অন্যদিকে ডিএমপি ও সিএমপি কমিশনার বলেছেন-ঢাকায় ও চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর অপরাধ দমনের উদ্যোগ সত্যিই ইতিবাচক।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর