প্রকাশ : 2018-02-08

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রেসিডেন্ট হলেন আবদুল হামিদ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মো. আবদুল হামিদ। গতকাল বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা কে এম নূরুল হুদা প্রেসিডেন্ট পদে আবদুল হামিদকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন আবদুল হামিদ। আর এবার ২৩ এপ্রিল তার শপথ হবে জানিয়েছেন সিইসি। সিইসি বলেন, প্রেসিডেন্ট আইন ১৯৯১-এর ৭ ধারা অনুযায়ী অন্য কোনো প্রতিদ্বদ্বী না থাকায় মো. আবদুল হামিদকে পুনর্নিবাচিত ঘোষণা করা হয়। আজ (গতকাল বুধবার) সন্ধ্যায় সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনাররা বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এর আগে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয় বলে জানান সিইসি। ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। জাতীয় সংসদে সরকারি দলের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এ ফরম সংগ্রহ করেন। ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। আর কোনো প্রার্থী না থাকায় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পেলেন মো. আবদুল হামিদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসাবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। তবে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হলে কেবল আবদুল হামিদই। সংবিধানে সর্বোচ্চ দুই বার প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সুযোগ থাকায় এটাই হবে তার শেষ মেয়াদ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন আবদুল হামিদ। আর এবার ২৩ এপ্রিল তার শপথ হবে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেছেন, আবদুল হামিদকে নির্বাচিত ঘোষণার গেজেট প্রকাশ করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার নির্বাচন কমিশনার গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বঙ্গভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গত ২৫ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন দাখিলের দিন একমাত্র আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। তফসিলে ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ রাখা হলেও তার প্রয়োজন আর হচ্ছে না। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরার পর শুধু ১৯৯১ সালেই প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন হয়েছিল। এরপর সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হন। যবিপ্রবির সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ : সত্য ও ন্যায়কে সমুন্নত রাখতে হবে বিশেষ সংবাদদাতা,যশোর ব্যুরো জানায়, প্রেসিডেন্ট ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মোঃ আবদুল হামিদ নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ করে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তোমাদের উপর। তোমাদের তারুণ্য, জ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞা হবে দেশের উন্নয়নে প্রধান চালিকাশক্তি। দেশ ও জনগণের কাছে তোমাদের আছে ঋণ। একজন বিবেকবান নাগরিক হিসেবে সেই ঋণ তোমাদের পরিশোধ করা উচিত। তোমরা সবসময় সত্য ও ন্যায়কে সমুন্নত রাখবে। দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। গতকাল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় সমাবর্তন-২০১৮ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন। এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭০ জন গ্রাজুয়েট অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে আটজন চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক, পাঁচজন ভাইস চ্যান্সেলর পদক এবং ৫৬ জন ডিন্স অ্যাওয়ার্ড পান। গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনকারী একজন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে রাষ্ট্রের বিবেকবান নাগরিক হিসেবে তোমাদের কাছে প্রত্যাশা করি, তোমরা আর একটা কথা বলি, কর্ম উপলক্ষে তোমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো না কেন, এ দেশ ও এ দেশের জনগণের কথা ভুলবে না। ভুলবে না খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণের কথা। মনে রাখতে হবে, বাঙালির শেকড় এই সাধারণ জনগণের মধ্যেই প্রোথিত। কর্মজীবনে তোমরা সফল হও, সার্থক হও-এই কামনা করি। বিশ্বব্যবস্থায় যোগ্যতাই টিকে থাকার একমাত্র মানদন্ড উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, সময়ের প্রয়োজনেই শিক্ষার্থীদেরকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আগমণ করায় নোবেল জয়ী অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট। সমাবর্তনে অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবার তাঁর নিজের ক্ষেত্র প্রাণ-রসায়ন নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের বিরাট প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনশক্তি বিষয়েও কথা বলেন তিনি। গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, খাদ্য, শক্তি এবং পরিবেশ বিপর্যয় এখন মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের। কিন্তু এরও সমাধান রয়েছে তোমাদের মতো যুব সমাজের মাথায়। তোমরাই যেকোনো দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, আবদুল হাই, এস এম জগলুল হায়দার, শেখ আফিল উদ্দিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর রশীদ আসকারী, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলমগীর, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, যশোর-খুলনা অঞ্চলের উচ্চ পদস্ত সরকারি কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষসহ বিপুল সংখ্যক বরণ্যে ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েটগণ ছাড়াও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবীব, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোঃ মনিবুর রজমান এবং একই বিভাগের প্রভাষক ফারহানা ইয়াসমিন।

জাতীয় পাতার আরো খবর