প্রকাশ : 2019-10-04

শারদীয় পূজার সাজে

০৪অক্টোবর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বছর ঘুরে আবারও বেজে উঠল পূজার ঘণ্টা। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব এ দুর্গাপূজা। ঢাকের শব্দ আর বাতাসের তালে কাশফুলের দোলা, নাড়ু-মুড়কি ম ম ঘ্রাণ আর চিরায়িত লালপেড়ে সাদা শাড়ি মনে করিয়ে দেয় পূজার আগমনী বার্তা। পূজার সময়ে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত সাজতে পারবেন একদম মনের মতো করে। কারণ এসময় সবচেয়ে বেশি ঘোরাঘুরির; বেশি বেশি নিমন্ত্রণের। এমন আনন্দের দিনে সাজটাও থাকা চাই নিখুঁত। চলুন জেনে নেই কেমন সাজে এ পূজায় হয়ে উঠবেন অনন্যা- ষষ্ঠী এবং সপ্তমীর সাজ: মেকআপ ভারি না রেখে সাজে স্নিগ্ধতা রাখলেই দেখতে ভালো লাগবে। মেকআপের শুরুতে একটা প্রাইমার লাগিয়ে নেবেন। এতে করে মেকআপ ত্বকে বসবে এবং নষ্ট হবে না সহজে। স্নিগ্ধ সাজের বেইজের জন্য বেছে নিন বিবি ক্রিম। এতে মেকআপ ভারি লাগবে না দেখতে। হালকা কন্ট্যুরিং, ব্লাশ এবং চাইলে হাইলাইটার লাগিয়ে নিতে পারেন। ভারি এবং গর্জিয়াস চোখের সাজ রেখে দিন অষ্টমী থেকে দশমীর জন্য। ষষ্ঠী এবং সপ্তমীতে হালকা গোল্ডেন, শ্যাম্পেইন, রোজগোল্ড কালারগুলো আইশ্যাডো হিসেবে লাগাতে পারেন। তবে আইলাইনার এবং মাশকারা কিন্তু অবশ্যই রাখবেন। পূজার লুকে আইলাইনারটা দেখতে বেশ লাগে! চাইলে কাজলও লাগাতে পারেন। স্নিগ্ধ লুকের জন্য ষষ্ঠীর দিন একটু হালকা ধাঁচের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। তবে সপ্তমীতে একটু কালার যোগ করলে মন্দ হয় না। ব্যবহার করতে পারেন- ন্যুড, ব্রাউন, টেরাকোটা, অরেঞ্জ, পিংক, ব্রাউনিশ পিংক ইত্যাদি কালার। অষ্টমীর সাজ অষ্টমীতে গাঢ় রঙের শাড়ি ও পোশাক বেছে নিন। লাল, মেরুন, তসর, সিল্ক, কাতান অথবা সাদা-লালপাড় শাড়ি পরে যেতে পারেন এদিন। আঁচলে ভারি কাজ আছে এ রকম লালপাড়ের শাড়ি এক প্যাঁচ করে পরলে ভালো দেখাবে। অষ্টমীর দিন সকালে লাল শাড়ি পরার প্রচলন আছে। মেকআপের শুরুতে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে টোনার বুলিয়ে সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নিন। দিনের সাজে মেকআপ যতটা সম্ভব হালকা হওয়া উচিত। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা কন্ট্রাস্ট করে চোখে আইশ্যাডো লাগান। পেনসিল আইলাইনার দিয়ে কিছুটা মোটা করে লাইন টেনে আইশ্যাডো ব্রাশ দিয়ে স্মাঞ্জ করে নিন। মাশকারা দিন ঘন করে। ঠোঁটে লাল রঙের লিপস্টিক লাগাতে পারেন। সঙ্গে হালকা পিংক ব্লাশন। কপালে বড় লাল টিপ লাগিয়ে নিতে পারেন। আর বিবাহিতদের সিঁথিতে সিঁদুর তো আছেই। পায়ের আলতা দিতে পারেন পছন্দ অনুযায়ী। গোল্ড প্লেটের গয়না বেছে নিতে পারেন এ দিন। বাইরে বের হওয়ার আগে ভালো পারফিউম ব্যবহার করে নিন। চুল সামনের দিকে সেট করে পেছনে কার্ল করে ছেড়ে বা বেঁধে নিতে পারেন। কানের পেছনে চুলে গুঁজে দিন বেলি ফুলের মালা বা সাদা ও লাল জারবেরা। নবমী ও দশমীর সাজ: এ দুই দিন সাজ হবে বেশ জমকালো। এসময় প্রচুর ঘোরাফেরা, দাওয়াত ইত্যাদি থাকে। তাই মেকআপ এক্সপেরিমেন্টাল হলে মন্দ হয় না! প্রথমেই ত্বকটাকে মেকআপের জন্য তৈরি করে নিয়ে প্রাইমার লাগিয়ে নেবেন। যেহেতু দুর্গাপূজা বলে কথা! অবশ্যই মেকআপ ফুল কভারেজ হবে। আর মেকআপটাও ভারি হবে। তাই বেছে নিন পছন্দের ফুল কভারেজ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশন ত্বকে লাগিয়ে ব্রাশ বা বিউটি স্পঞ্জের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন। মুখটাকে উজ্জ্বল দেখানোর জন্য ক্রিম হাইলাইটিং করতে পারেন। এর জন্য আপনার ত্বকের থেকে ২-৩ শেইড লাইট একটা কন্সিলার নিয়ে আপনার চোখের নিচে, কপালে, নাকের উপরে, থুতনিতে, কন্ট্যুরিং লাইনের নিচের দিকে লাগিয়ে নিন। কন্সিলারটি ব্রাশ-বিউটি স্পঞ্জের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন। এবার পুরো ফেস লুজ পাউডার দিয়ে সেট করে নিন। মুখ স্লিম এবং শার্প দেখাতে পাউডার কন্ট্যুরিং করে নিন। চাইলে আগে ক্রিম কন্ট্যুরিংও করে নিতে পারেন। চিকসের নিচে, কপালে হেয়ার লাইনে, নাকের দুই পাশে, থুতনির নিচে কন্ট্যুরিং এবং ব্লেন্ড করে নিন। মুখে একটু কালার যোগ করতে ব্লাশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন পিংক, কোরাল, অরেঞ্জ, ব্রাউন, পিচ ইত্যাদি রং। পূজার গর্জিয়াস মেকআপের সঙ্গে হাইলাইটার কিন্তু বেশ জমকালো লুক আনতে সাহায্য করবে। হাইলাইটার ব্রাশের সাহায্যে পাউডার হাইলাইটার নিয়ে চিক বোনে, কপালে, আইব্রো বোনে, আইব্রোর ওপরের দিকে, নাকের ওপরে, থুতনিতে এবং ঠোঁটের ওপরে লাগিয়ে নিন। আই মেকআপের শুরুতে আইব্রোগুলো একটু ড্রামাটিকভাবই এঁকে নিলেই ভালো লাগবে। আই মেকআপ হিসেবে আপনি কাট ক্রিজ, হাফ কাট ক্রিজ, গ্লিটারি আই মেকআপ, স্মোকি, গ্লিটার কাট ক্রিজ, হেলো স্মোকি আই, স্পটলাইট আই মেকআপ ইত্যাদি ট্রাই করতে পারেন। চাইলে একেকদিন, একেকটা ট্রাই করবেন। দেখতে কিন্তু বেশ দারুণ লাগবে। আইশ্যাডো হিসেবে বেছে নিন ব্রাউন, রেড, ব্লু, গ্রিন, পিচ, কোরাল, ইয়েলো, পিংক, পার্পল, গোল্ডেন, সিলভার, রোজ গোল্ড, অরেঞ্জ, কপার, শ্যাম্পেইন, পার্ল, ব্রোঞ্জি, ব্ল্যাক ইত্যাদি কালার। আইলাইনার, মাশকারা, মোটা করে কাজল লাগিয়ে নিন মন মতো। চাইলে লেন্স এবং ফলস আইল্যাশও পরতে পারেন। লিপস্টিক হিসেবে আপনার পছন্দসই যে কোনো কালার বেছে নিতে পারেন। পূজায় কিন্তু লাল রং প্রাধান্য পায়। পরতে পারেন ব্রাউন, ম্যাজেন্টা, পার্পল, বারগেন্ডি, ন্যুড, কোরাল, পিংকিস ব্রাউন, পিচ ইত্যাদি কালারও লাগাতে পারেন। এছাড়াও পূজার সাজে কপালে টিপ কিন্তু বেশ মানাবে। দীর্ঘসময় মেকআপ ধরে রাখতে চাইলে সবশেষে মেকআপ সেটিং স্প্রে ব্যবহার করবেন। এবং চুলের সাজ: সাজগোজে চুলের স্টাইল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চুল একটু লম্বা হলে পূজার সকালে হালকা হাত খোঁপাও ভালো লাগবে। শাড়ির সঙ্গে দিব্যি মানাবে। মাঝখানে সিঁথি করে সামনের দিকটা অল্প ফুলিয়ে নিতে পারেন। একটু কায়দা করতে চাইলে পুরো চুল ব্যাক কোম করে নিয়ে লো বান করতে পারেন। পূজার সন্ধ্যায় একটু গর্জিয়াস সাজতে চাইলে খোঁপায় ফুল বা একটু সাবেকি ধাঁচের খোঁপার কাঁটা বা হেয়ার অ্যাকসেসরিজ লাগাতে পারেন। খোঁপার ওপরে হেয়ার পিনও শাড়ির সঙ্গে ভালো মানাবে। চুল সবসময় বাঁধতে হবে এমন নয়, খোলা চুলেও স্টাইলিং করা যায়। স্ট্রেট করিয়ে নিতে পারেন আবার হালকা কার্লও করতে পারেন। পূজার সাজে ফুল কিন্তু থাকতেই হবে। সকালে মন্দিরে যাওয়ার সময় অর্কিডের গুচ্ছ গুঁজে দিন চুলে। অথবা চুল খোঁপা করে তাতে জড়িয়ে নিতে পারেন শিউলি ফুল, বেলি ফুল বা কাঠবেলির মালা। ছেলেদের সাজ: পূজায় এখনও পাঞ্জাবি আর ধুতির আবেদনটাই অন্যরকম। পূজার শুরুর দিনগুলোতে তারা হালকা রঙের পাঞ্জাবি ও পায়ে আরামদায়ক ফিতাযুক্ত স্যান্ডেল পরতে পারেন। আর শেষ দিনগুলোতে জমকালো পাঞ্জাবি, ফতুয়া পছন্দ করতে পারেন। যারা একটু অন্যভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান তারা ধুতি পরতে পারেন। তবে অঞ্জলি বা মণ্ডপে ঘোরার সময় পাঞ্জাবি, ধুতির রাবীন্দ্রিক সাজ থাকলেও অন্যান্য সময় তো হাল ফ্যাশনের ছোঁয়া চাই। শার্ট, টি-শার্ট পরে সন্ধ্যার পর মণ্ডপে ঘোরার মজাই আলাদা। তাই তরুণরা হাল ফ্যাশনের টি-শার্ট আর শার্টের দিকেও ঝুঁকছেন। পূজায় দিনের বেলা হালকা রঙের পোশাককেই প্রাধান্য দিন। সাদা, ঘিয়ের পাশাপাশি শরতের স্নিগ্ধতা বজায় রাখতে নীল রংও বেছে নিতে পারেন। রাতের জন্য গাঢ় রং নির্বাচন করাই ভালো। লাল, কালো, সবুজ, চকলেট, মেরুন ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। ছেলেরা চুলে জেল ব্যবহার করে এ দিন ভিন্ন লুক আনতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন স্টাইলের আংটি ও ব্রেসলেট পাওয়া যায়, পরতে চাইলে হাতের জন্য পছন্দমতো ও মানানসই বেছে নিতে পারেন। দিনের বেলা রোদের কারণে এবং ধুলোবালি থেকে বাঁচতে হাতের কাছে অবশ্যই রাখবেন সানগ্লাস।