প্রকাশ : 2019-10-12

প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়

১২অক্টোবর,শনিবার,নিউজ চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথমে মোবাইল ফোনে কথোপকথন। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা। সপ্তাহ খানেক কথা বলার পর নির্জন স্থানে ঘুরতে যাওয়া। এরপর অনৈতিক সম্পর্কের কথা বলে নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে অর্থ আদায় করা। পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি এখন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত তরুণরা জড়িয়ে পড়েছে এ কাজে। এ অপরাধে তিন ছাত্রকে আটক করেছে খুলশী থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো চট্টগ্রাম কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ইফতেখারুল আলম (২৫), ইউএসটিসির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র মোহাম্মদ তালিম উদ্দিন (২৪) ও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র সালেহিন আরাফাত (২৮)। পড়াশোনার পাশাপাশি সালেহীন তার বাবার সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানেও কাজ করেন। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী বলেন, তিন যুবকই অভিজাত পরিবারের সন্তান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তারা একটি ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের সদস্য। ঘটনার শিকার হাসান তারেক (৩৭) নগরীর পাঁচলাইশ থানার রহমান নগরের হাতিম বিল্ডিংয়ের বাসিন্দা মোফাজ্জল আহমেদের ছেলে। তিনি রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর বিশ্বকলোনি ডি-ব্লকের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ওষুধ কোম্পানির ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বাসাও বিশ্বকলোনি এলাকায়। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগে হাসান তারেক কোম্পানির কাজে বিশ্বকলোনিতে যান। সেখানে ইশরাত নামে এক মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্রে ১০ অক্টোবর রাতে মেয়েটি হাসান তারেককে বিশ্বকলোনির ডি-ব্লকে তার বাসায় ডেকে নেয়। বাসায় যাওয়ার পর চার যুবক সেখানে প্রবেশ করে এবং তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে। হাসান তারেক প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ২৪ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এতে ঘটনায় জড়িতরা খুশি হননি। তারা আরও টাকা দাবি করলে ভোরের দিকে হাসান তারেক তার ছোট বোনকে দুটি চেক নিয়ে খুলশীতে ইউএসটিসির সামনে আসতে বলেন। এসময় হাসানের কণ্ঠস্বর শুনে বোনের সন্দেহ হলে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চান। খুলশী থানার একটি টিমও ছদ্মবেশে ইউএসটিসির সামনে অবস্থান নেয়। তালিম চেক নিতে এলে পুলিশ তাকে হাতেনাতে আটক করে। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে হাসানকে উদ্ধার করা হয় এবং দুই জনকে আটক করা হয়। তবে ইসরাত এবং রুমি নামে দুই জন পালিয়ে যান। ওসি খুলশী জানান, যেহেতু ঘটনাস্থল আকবরশাহ থানাধীন এলাকায় তাই ভিকটিম এবং আসামিসহ সবাইকে ওই থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় হাসান তারেকের বোন শারমিন ফারজানা বাদী হয়ে সেই থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ চক্রের অন্য দুই সদস্য পলাতক ইসরাত এবং রুমিকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর