প্রকাশ : 2018-02-12

হটাৎ বেড়েছে চালের দাম

ঢাকার বাজারে হঠাৎ করেই চালের দাম বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহের চেয়ে সব ধরনের চাল কেজি প্রতি দেড় থেকে দুই টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। ঢাকার মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে কয়েক দিন আগে মোটা চালের কেজিপ্রতি দর ছিল ৩৮ টাকা, যা এখন দেড় টাকা বেশি। মাঝারি মানের বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। ভালো মানের মিনিকেট চালের দামও কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা ৫০ পয়সা ও ভারতীয় মিনিকেট ৫৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এই দর আরও ২ থেকে ৩ টাকা বেশি পড়ছে। কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির মহিউদ্দিন রাজা বলেন, চালের দাম বেড়েছে মূলত ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়ায়। বেনাপোল থেকে আসতে প্রতি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৭ হাজার টাকা, যা এখন হয়েছে ২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে একটি ট্রাকে ২০ টনের জায়গায় চাল আনা যাচ্ছে ১৩ টন। ঢাকা-বেনাপোল পথের পাশাপাশি অন্যান্য পথেও ট্রাকভাড়া বাড়তি দিতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাস্তার ক্ষতি এড়াতে সরকার অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। মহাসড়কের ওজন স্কেলগুলোতে অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনকে জরিমানা করা হচ্ছে। গত বোরো মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল থেকেই বাজারে চালের দাম বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ওঠে ৫০ টাকায়, যা কয়েক বছর ৩৫ টাকার নিচে ছিল। এরপর আমদানি বাড়ায় দাম কিছুটা কমে যায়। জানুয়ারিতে আমন মৌসুমের চাল বাজারে আসার পর দাম এক দফা বেড়েছিল। এখন আবার এক দফা বাড়ল। কুষ্টিয়ার মোকামেও সরু মিনিকেট চালের দাম কেজিতে দুই টাকা বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পৌরবাজার চালের আড়তে গত সপ্তাহে মিলগেটে মিনিকেট চাল বিক্রি হয় ৫৮ টাকা কেজি দরে, যা এখন ৬০ টাকা হয়েছে। খুচরা বাজারে তা ভোক্তারা কিনছেন ৬২ টাকা দরে। মিলমালিকেরা বলছেন, ধানের দাম বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। পৌরবাজারের চাল ব্যবসায়ী শাপলা ট্রেডার্সের মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাঁচ দিন আগে কুষ্টিয়ার বড় চালকল বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফুড হঠাৎ মিনিকেট চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতেই বাজারে প্রভাব পড়ে। বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফুডের মালিক বায়েজীদ বিশ্বাস মূল্যবৃদ্ধির জন্য ধানের চড়া দামকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ধানের দাম বাড়লে চালের দামও বাড়ে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মিনিকেট চালের দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।