প্রকাশ : 2019-10-24

দিনদুপুরে আদালতের টয়লেটে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা

২৪অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,চাঁদপুর প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: আদালতের টয়লেটে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন আরিফ হোসেন নামে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক। গতকাল বুধবার সকালে চাঁদপুর জেলা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজ মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় চাঁদপুর জেলা জজ আদালতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনস-এ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান। জানা যায়, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা দিকে আরিফ হোসেনকে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মহজমপুর গ্রাম থেকে আগত বিচারপ্রার্থী এক নারীর সঙ্গে জেলা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলার বাথরুম থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে উপস্থিত জনতা। পরে তাদের দুজনকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আরিফ হোসেন জেলা জজ আদালত বিভাগে কর্মরত। তার কাছ হচ্ছে, জেলখানা থেকে প্রতিদিন আসামিদের আনা-নেওয়া করা। এদিকে এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত পরিদর্শক (অপরাধ) নাজমুল হককে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত জমা দেবেন তিনি। পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান জানান, তদন্তে পুলিশ সদস্য আরিফ হোসেন দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কারো ব্যক্তিগত দায় পুলিশ বাহিনী নিতে পারে না। এদিকে, ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন মামুনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আদালতে ছুটে যান। এ সময় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সহায়তায় আটক পুলিশ ও নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরে তাদের জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। একপর্যায়ে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক আরিফ হোসেনকে জেলা পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার এবং নারীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামী শরীফ গজীর মামলা চলমান রয়েছে। শরীফ গাজী তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে। ওই নারীও তার স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। বুধবার স্বামীর করা একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে আসেন তিনি।

সারা দেশ পাতার আরো খবর