প্রকাশ : 2019-10-30

তবে কি ওই জুয়াড়ি সাকিবকে বড় কোনো হুমকি দিয়েছিলো?

৩০অক্টোবর,বুধবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ম্যাচ ফিক্সিং নতুন কোনো ইস্যু নই। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটারদের এক আতঙ্কের নাম ফিক্সিং। যার প্রস্তাব আসে কোনো এক জুয়াড়ির কাছ থেকে। ওই প্রস্তাবেই শেষ হয়েছে অনেক তারকা ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার। এই ইস্যুতে বারবার শাস্তি পান ক্রিকেটাররা। কিন্তু মূল জুয়াড়ি চক্র থেকে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কেননা তারা অনেক প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে গেলে ক্রিকেটারদের জীবনও চলে যেতে পারে। সাকিবের নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে এখন সামনে আসছে জুয়াড়ির হুমকি-ধামকির বিষয়টি। সাকিব আল হাসানকে এক বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে এ সাজা পেয়েছেন নাম্বার ওয়ান। তার অপরাধ- জুয়াড়ির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েও সেটি বোর্ড বা আইসিসি জানাননি। যেহেতু আইসিসির আইনে এটা আছে যে তথ্য গোপন করলে শাস্তি হবে সেহেতু এটা ঠিক আছে। কিন্তু কথা হলো- সাকিব কেন এই ভুল করলেন? সাকিব এর আগে ২০০৮ সালেও একবার ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে ওই সময় আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিট আকসুকে জানিয়েছিলেন তিনি। তাহলে এবার নয় কেন? এমন প্রশ্ন সবার মনে। আইসিসি প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুয়াড়ি দীপক আগারওয়ালই সাকিবকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দেন। জুয়াড়ি ব্যক্তিরা সাধারণত প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী হন বা এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা থাকে। আন্ডারওয়ার্ল্ডেও তাদের যোগসূত্র থাকে। ফলে নিজেদের কথা না মানলে অথবা তথ্য বাইরে ফাঁস করলে হত্যার হুমকি দিয়ে থাকে তারা। সাকিবের সঙ্গেও যে এমন কিছু হয়নি, তা কি নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবেন? পূর্বেও প্রাণনাশের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে জুয়াড়ি দীপক আগারওয়ালের নাম। এই দীপকের কারণে ভারতীয় তরুণ ক্রিকেটার বিজয় আত্মহত্যা করেন ২০১১ সালে। বিজয়কে অর্থের লোভ দেখিয়ে বাজিকর বানান দীপক। মানুষের কাছ থেকে ধার করেও জুয়া খেলেন বিজয়। টাকার চাপ ও দীপকের হুমকিতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। দীপকের হোয়াটস অ্যাপে কিছু মেসেজ ডিলিট অবস্থায় পেয়েছে আইসিসি। হয়তো সেখানে ছিল এমন হুমকি। যদিও এ কথার স্বপক্ষে বাস্তব কোনো প্রমাণ নেই। ২০০৭ বিশ্বকাপ চলাকালে নতুন দল আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে যায় পাকিস্তান। ম্যাচ চলাকালীন সময়েই ড্রেসিংরুমে মারা যান পাকিস্তানের কোচ বব উলমার। সে সময় এক সংবাদ প্রকাশ হয় যে, ছোট দলের কাছে হেরে যাওয়ায় জুয়াড়িদের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়। তার ক্ষোভেই কোচকে হত্যা করা হয়। যদিও তার মৃত্যু রহস্যও আজও অজানা। এর আগে ২০০২ সালে প্লেন দুর্ঘটনায় মারা যান দক্ষিণ আফ্রিকার হ্যান্সি ক্রোনিয়ে। যিনি ম্যাচ পাতানোর কথা স্বীকার করে জুয়াড়ির নাম প্রকাশ করে দেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমনও তথ্য এসেছে সাজা শেষে দেশে ফেরার সময় জুয়াড়িদের চক্রান্তেই ওই প্লেন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান ক্রোনিয়ে। তার মৃত্যু নিয়েও কোনো সঠিক তথ্য আজও প্রকাশিত হয়নি কোথা।

খেলাধূলা পাতার আরো খবর