প্রকাশ : 2019-11-16

প্রতারকের খপ্পরে চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য

১৬নভেম্বর,শনিবার,নিজেস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিকাশ। কিন্তু এই মাধ্যমটি ব্যবহার করে প্রতারণার হার কমছে না। প্রতারনার বিষয়টি এখন সাধারন মানুষ জানতে পারার কারণে প্রতারনার কৌশল পাল্টে দিচ্ছে প্রতারকগণ। নিত্য-নতুন কৌশলে চাঁদাবাজি ও প্রতারনা শুরু করেছে তারা। কাউকে ভয় দেখিয়ে , গোপনে বা কৌশলে কারো ব্যক্তিগত তথ্যে জেনে নিয়ে পরবর্তীতে তা পুঁজি করে টাকা লুটে নিচ্ছে এক শ্রেণির প্রতারকরা। আর তাদের এই অভিনব কৌশলের কাছে হার মেনে যে কোনো ধরনের ঝুট-ঝামেলা এড়াতে অর্থ দিয়ে হলেও কোনো রকমে জীবনযাপন করছে অসহায় সাধারণ মানুষ। দিন দুপুরেই ঘটছে এসব ঘটনা। শত শত মানুষের সামনে ঘটনা ঘটলেও কেউ মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস রাখে না। কারণ, এই নতুন মাত্রার অপরাধীগণ অত্যন্ত ধূর্ত ও ভয়ংকর। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মন্ত্রী , এমপি, সহ গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তিদের টার্গেট করে একের পর এক প্রতারনা করেই যাচ্ছেন এই প্রতারকরা। গত ২৫ মে চট্টগ্রাম নগরীর আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনীতে বিকাশের প্রতারণার শিকার হয়ে অপমানে আত্মহত্যা করেছে শারমিন (১৬) নামে এক কিশোরী।গত কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামের বাশখালী আসনের সংসদ সদস্য মোস্থাফিজর রহমান চৌধুরী ও এই বিকাশে প্রতারনার শিকার হন। প্রত্যারনার শিকার সংসদ মোস্তাফিজের পক্ষে তার পি, এস তাজুল ইসলামের দায়ের করা মামলার সূত্রে জানাযায়, বাশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজের ভাই গুরুতর অসুস্ত এবং জরুরী চিকিৎসার জন্য ব্লাড দিতে হবে বলে বিকাশ নাম্বারের মাধ্যমে জামালপুরের এম , পি আইন উদ্দিন এর নিকট থেকে ৩০ হাজার , রাজশাহীর এম, পি মো: দুলাল এর নিকট থেকে ৭০ হাজার টাকা প্রত্যারকগন গ্রহন করেন। পরবত্তীতে উক্ত বিষয়ে বাশখালীর সংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানতে পেরে বোয়ালখালী থানার সরোয়াতলী গ্রামের আবুল কালাম পাখির ছেলে ছাদ্দাম হোসেন (২৭), জামালপুরের খোকা শেকের ছেলে মো: মুনজল শেখ (৫০), ইসলামপুরের আয়নাল হকের ছেলে মো : আমিরুল ইসলাম (২৬), সরোয়াতলীর আব্দুল আলিমের ছেলে তৈয়ব, পটিয়ার জাফর আহমেদের ছেলে এহসানুল প্র: হাসানকে আসামী করে নগরীর পাচলাইশ মডেল থায় একটি মামলা দায়ের করেন , মামলা নং ১৫/০৯/১০/ ২০১৯। উক্ত মামলায় পাচলাইশ মডেল থানার পুলিশ কতৃক এহসানুল হক প্র: হাসান ও তৈয়বকে গ্রেফতার করেন । উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী তাজুল ইসলামের আইনজীবী মো: রায়হান চৌধুরী (রনি) বলেন , এই প্রত্যারকদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে , তারা বিভিন্ন মন্ত্রী এমপি , সরকারী উচ্চ পদস্ত কর্মকতাদেরকে টার্গেড করে এই প্রত্যারনা চালিয়ে যাচ্ছে , তাদের এমন প্রত্যারনার কারনে একে অপরের প্রতি আত্ববিশ্যাস ও হারাচ্ছেন। গ্রেফতার আসামীদের রিমান্ডে নিয়ে তাদের মুল হোতাকে গ্রেফতার করা হলে এই বিকাশের মাধ্যমে প্রত্যারনার লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি। উক্ত বিষয়ে পাচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কাশেম ভাইয়া বলেন ,আদালত থেকে আদেশ পেয়ে আমরা উক্ত মামলাটি অভিযোগ আকারে গ্রহন করী এবং অভিযোগে উল্লেখিত দুই আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপদ্ধ করেছি এবং বাকী আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান চলমান রয়েছে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর