প্রকাশ : 2019-11-28

সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে

২৮নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও উৎপাদকরা বলছেন, এর পেছনে তাদের কোনো হাত নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনও বলছে, এই সময়ে কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়াবে না। কিন্তু খুচরা বাজারে তেলের দাম ঠিকই বেড়ে গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অজুহাত, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বাড়ায় তেলের দাম বাড়ছে। যদিও এখনকার বুকিং করা তেল বাজারে আসবে কয়েক মাস পর। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে বিক্রি হতো ৭৮-৮০ টাকায়। আর পামওয়েলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়েনি। কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা দরে। জানতে চাইলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তেল বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণেই এই দাম বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তি। বুকিং রেট (এলসি মূল্য) বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ সয়াবিনে ২০০ টাকা এবং পাম ওয়েলে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণ বলছে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যেখানে পামওয়েলের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পামওয়েলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এর প্রভাব দেশি বাজারেও পড়েছে। তবে এ বিষয়টি স্বীকার করছে না ট্যারিফ কমিশন। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে পামওয়েলের দাম বেড়েছে। জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন ৬৭১-৬৮০ ডলার এবং পামওয়েল ৬৩১-৬৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। দুটি কোম্পানি বোতলজাত তেলের দাম বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবনা দিয়েছিল ট্যারিফ কমিশনের কাছে। তবে ট্যারিফ কমিশন তাদের আবেদনটি বাতিল করে দিয়ে বলেছে, দাম বৃদ্ধি করতে হলে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্মিলিতভাবে আবেদন করতে হবে। তখন যাচাই-বাছাই শেষ করে তবেই দাম বৃদ্ধির অনুমতি দেয়া হবে। গতকাল বুধবার ট্যারিফ কমিশনে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী, পরিশোধনকারী শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শীর্ষস্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েল, এস আলমসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উপস্থিত ছিলো। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. নূর-উর-রহমান বলেন, উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা তেলের দাম বাড়াবে না বলে আমাদের জানিয়েছে। তাই আপাতত তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। খোলা সয়াবিনের দাম বৃদ্ধিতে কোম্পানিগুলোর কোনো ভূমিকা রয়েছে কিনা- জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বিশ^জিত সাহা বলেন, বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি, আগের দামেই আমরা বিক্রি করছি। তবে খোলা তেলের বাজার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।