প্রকাশ : 2018-02-19

আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে, বল্লেন এরশাদ

দেশে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে ইঙ্গিত করে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে আগাম নির্বাচন হতে পারে বলে কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। তার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। যখনই নির্বাচন হোক জাতীয় পার্টি অংশ নিতে প্রস্তুত। জাতীয় পার্টি এককভাবে ৩শআসনে প্রার্থী দেবে। তিনি আরও বলেন, এখন রাজনীতিতে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা কিন্তু অস্থির নই। আমরা ভালো আছি। আমাদের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। জীবনে সুযোগ বারবার আসে না, আল্লাহ এবার সুযোগ দিয়েছেন, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। রোববার পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় রজনীগন্ধায় সম্মিলিত জাতীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে জোটের প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২৪ মার্চের মহাসমাবেশ সফল করার অনুরোধ জানিয়ে এরশাদ বলেছেন, এই সমাবেশে লাখো লোক আনতে হবে। দেখিয়ে দিতে হবে জাতীয় পার্টি অনেক বেশি শক্তিশালী। জাতীয় পার্টি ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। প্রার্থী যাচাই-বাছাই অনেক দূর এগিয়েছে। তৃণমূল থেকেও মতামত নেয়া হবে। আগামীতে বোর্ড বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোটের রাজনীতির সংস্কৃতিকেও মাথায় রাখা হচ্ছে। জাতীয় পার্টি বিরোধী দল দাবি করলেও একই সঙ্গে মন্ত্রিসভাতেও রয়েছে, বিষয়টি সাংঘর্ষিক কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে কখনও কখনও সরকারে থাকাটা বাঞ্ছনীয় হয়ে ওঠে। আমরা সংসদে কি রোল প্লে করছি সেটাও দেখার বিষয়। বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ায় বিষয়ে নানারকম গুঞ্জন চলছে। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, তারা যেহেতু এখনও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়নি, তাই ধরে নিতে হবে তারা নির্বাচনে আসছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এটাই কাম্য। নির্বাচনে জিতলে সুষ্ঠু হয়েছে, আর হারলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি- এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ১৯৯০ সালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন আমাদের পার্টির চেয়ারম্যানকে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমাদের সঠিকভাবে নির্বাচন করতে দেয়া হয়নি। তবুও আমরা কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্বাচনে ছিলাম। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সাহিদুর রহমান টেপা, সুনীল শুভরায়, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, যুগ্ম দফতর সম্পাদক এমএ রাজ্জাক খান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সউম আবদুস সামাদ, মাওলানা আনম মাসউদ হোসাইন আল ক্বাদেরী, অর্থ সচিব সৈয়দ মোজাফ্ফর আহমদ, অ্যাডভোকেট ইসলাম উদ্দিন দুলাল, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ ফারুক, ক্বারী মাওলানা আসাদুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ মুফতি মহিবুল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আবুল হাছানাত, বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি, প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, মুখপাত্র শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, সমন্বয়কারী আখতার হোসেন, এআরএম জাফর বিল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

রাজনীতি পাতার আরো খবর