প্রকাশ : 2019-12-10

মানবাধিকার হলো ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি

১০ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মানবাধিকার হচ্ছে একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। আর এই অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্র এই অধিকার। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য এই অধিকার দরকার। সর্বপরি মানবাধিকার হলো সব ধরনের ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি। যা কিছু একজন মানুষের মর্যদাকে রক্ষা করে,সুরক্ষিত করে মর্যদাকে নানাভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে সেটিই হচ্ছে মানবাধিকার। তাই এইখানে একজন মানুষের সাথে আচরণ কি রকম হবে,তার জীবনের প্রতি কোন প্রকার হুমকি আছে কিনা,তার শিক্ষার সুযোগ ও চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে কিনা,মানুষ হিসেবে অন্যের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার,মর্যদা পাওয়ার অধিকার রাখে কিনা এই সব কিছু মিলেই মানবাধিকারের ধারণা। মানবাধিকার সার্বজনীন। পৃথিবীর সব মানুষ তিনি যে দেশেরই হোক না কেন,গ্রামে বা শহরে যেখানেই বাস করুক,যে ধর্মেরই হোক সবার অধিকার সমান। একইভাবে সব মানুষ,নারী,পুরুষ,শিশু যাই হোক না কেন,যে ভাষাতেই কথা বলুক না কেন সবারই হবে সমান অধিকার। মানবাধিকারের একটি অন্যতম নীতি হচ্ছে মানুষের জন্মগত অধিকার গুলো কেউ কখনো কারো কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারে না। এমনকি কোন মানুষ নিজেও কখনো তার মানবাধিকার ত্যাগ করতে পারে না। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। যেমনঃ বাকস্বাধীনতার অধিকার,নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার,জীবনধারণের অধিকার,সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিবার পরিচালনার অধিকার, রাষ্ট্রে শান্তিতে বসবাস করার অধিকার,চুরি-ডকাতি ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,জুলুম-অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে বাঁচার অধিকার,নিজের জমি-জমা,গাছ-পালা ও বাগান-বাড়ি সন্ত্রাসীদের লুট-পাট থেকে রক্ষার অধিকার,অন্যায়ভাবে কারো হামলা থেকে বাঁচার অধিকার,স্বাধীনভাবে চাকরি-বাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য করার অধিকার,সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার পরিবেশ পাওয়ার অধিকার,দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার,দেশ,জাতি,সমাজ ও রাষ্ট্রকে কল্যাণরুপে গড়ে তোলার অধিকার,মানব সেবার অধিকার,পেট্রোল বোমার আঘাত থেকে বেঁচে থাকার অধিকার,জনসভা ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার,গণতান্ত্রিক অধিকার সহ জননিরাপত্তার অধিকারও মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। মোট কথা- মানুষের মৌলিক জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল নিয়ামকের ওপর যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে মানবাধিকার। মানবাধিকার কথাটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের নিকট অতি সুপরিচিত ও তাৎপর্যপূর্ন একটি শব্দ,মানবাধিকার শব্দের ইংরেজী প্রতি শব্দ হচ্ছে ঐঁসধহ জরমযঃং। বাংলা ভাষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সমন্বয়ে মানবাধিকার শব্দটি গঠিত হয়েছে। একটি শব্দ- মানব অপরটি অধিকার। প্রথমটির অর্থ হচ্ছে মানুষ আর দ্বিতীয়টির অর্থ হচ্ছে যারা মানুষ তাদের অধিকার। অর্থ্যাৎ মানবাধিকার কথাটির পরিপূর্ণ অর্থ দাড়ায় মানুষের অধিকার। মৌলিক চাহিদা পূরণসহ নিরাপত্তামূলক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা বিধান করা সরকার ও মানবাধিকার সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই শুধু অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা ও চিকিৎসা নয় বরং এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সকল অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। নির্যাতিত নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। গোটা পৃথিবীর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও রক্ষায় তিনি সংগ্রাম করেছেন। আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্যাতিত নিপিড়ীত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা করেছেন। তিনি বলেছেন; কি কারনে তোমরা সেসব নারী,পুরুষ ও শিশুদের খাতিরে আল্লাহর অনুসৃত পথে সংগ্রাম করছো না? অথচ যারা নির্যাতিত নিপিড়ীত ও দুর্বল হবার কারণে আমার নিকট ফরিয়াদ করছে। এবং বলছে; হে আল্লাহ! তুমি আমাদের এ জালিমদের অত্যাচার থেকে বের করে নাও। অথবা তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন দরদী-বন্ধু ও সাহায্যকারী পাঠিয়ে দাও,(সূরা নিসা-৭৫)। আমাদের দেশে অতীত নেতৃত্ব দানে যারা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তারাও আমরণ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলন। শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশের পবিত্র সংবিধানে ও গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা সন্নিবেশিত রয়েছে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে। মানবসত্তার মর্যদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে। এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগনের কার্যকর অংশগ্রহন নিশ্চিত হইবে। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর