প্রকাশ : 2020-01-10

চট্টগ্রাম ৮ উপ-নির্বাচন,দুই প্রার্থীরই কালুরঘাট সেতু নির্মানের আশ্বাস

১০জানুয়ারী ,শুক্রবার,বিশেষ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: শীতের তীব্রতাকে অপেক্ষা করে সরগরম চট্টগ্রাম ৮ উপ-নির্বাচনী এলাকা। প্রার্থীরা দিনরাত সমানে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। উক্ত আসনের প্রধান সমস্যা হচ্ছে কালুরঘাট সেতু। এই কালুরঘাট সেতুই এখন নির্বাচনের মূল প্রতিক।দক্ষিন চট্টগ্রামের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম ছিল কর্ণফুলি নদির উপর দিয়ে নির্মিত কালুরঘাট সেতুটি।পরবতীতে শাহ আমানত সেতু নির্মানের ফলে দক্ষিন চট্টগ্রামের যাতায়াতে সুবিদা হলেও অন্ধকারে পওে থাকে বোয়ালখালী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বোয়ালখালী উপজেলার যাতায়াতের মাধ্যম হচ্ছে এই কালুরঘাট সেতু।১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মা ফ্রন্টের সেনা পরিচালনার জন্য কর্ণফুলী নদীতে একটি আপৎকালীন সেতু তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ১৯৩০ সালে ব্রুনিক অ্যান্ড কোম্পানির ব্রিজ বিল্ডার্স হাওড়া নামে একটি সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কালুরঘাটে যুদ্ধকালীন ব্যবহারের জন্য একটি সেতু তৈরি করে। জরুরি ভিত্তিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত ৭০০ গজ লম্বা সেতুটি ১৯৩০ সালের ৪ জুন উদ্বোধন করা হয়।পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পুনরায় বার্মা ফ্রন্টের যুদ্ধ মোটরযান চলাচলের জন্য ডেক বসানো হয়। দেশ বিভাগের পর ডেক তুলে ফেলা হয়। ১৯৫৮ সালে এই একমুখী যুদ্ধসেতুটিই সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সেতুতে দুটি অ্যাবটমেন্ট, ছয়টি ব্রিক পিলার, ১২টি স্টিল পিলার ও ১৯টি স্প্যান রয়েছে।এই এক সেতু দিয়ে যান চলাচল, পায়ে হেঁটে পারাপার এবং রেল চলাচল করে থাকে। একমুখী চলাচলের কারণে দুই পাশে যানজট হওয়ার পাশাপাশি সেতুর ওপর চাপও বেড়েছে। যার জন্য বারবার মেরামত করে সেতুটি সচল রাখার ব্যবস্থা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।২০০১ সালে রেলওয়ে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে।বর্তমানে সেতুটি খুবই যুকিপূর্ণ।প্রয়াত সংসদ মইনুদ্দিন খান বাদল সংসদে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাতে অনেক বার আলাপ আলোচনাও করেছিলেন এই সেতুটি সংস্কার বা পু:নির্মানের জন্য। এরই মধ্যে তিনি মারা যাওয়ার কারনে উক্ত আসনটি শুন্য ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশনার উক্ত আসনে আগামী ১৩ জানুয়ারী নির্বাচনের দিন নিদ্ধারন করিয়া তপসিল ঘোষনা করেন। বর্তমানে এই উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহামদ নৌকা, বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান ধানের শীষ, বিএনএফ প্রার্থী এস এম আবুল কালাম আজাদ টেলিভিশন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ আহামদ চেয়ার,ন্যাপের বাপন দাশ গুপ্ত কুড়েঘর, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক আপেল প্রতিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।গত ২৩ ডিসেম্বও থেকে আনুষ্টানিক প্রচারনা শুরুর পর থেকে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন আহাম্মদ ও বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান বোয়ালখালী উপজেলা ও নগরের বিভিন্ন অলিগলিতে নির্বাচনী গণ সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।আওয়ামীলীগ প্রার্থী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নেরচিত্র তুলে ধরছেন, অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী জুলুম নির্যাতন এবং বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে শরীক হওয়ার আহবান জানাচ্ছেন ভোটারদের। থেমে নেই অন্য প্রার্থীরাও।তবে মূলত লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে।ভোটারদের আকর্যন করতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা দুজনই কালুরঘাট সেতু নির্মানের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। উক্ত আসনের কয়েক জন ভোটারের সাথে কথা হলে তারা বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে কালুরঘাট সেতু।বর্তমান সরকারের এই সময়ে কালুরঘাট সেতু সহ বোয়ালখালী উপজেলায় কোন উন্নয়নের চোয়া লাগেনী,যেই প্রার্থী এই সেতু ও অত্র এলাকার উন্নয়ন করবেন আমরা তাকেই ভোট দিবো, তবে এবার বর্তমান সরকারের একজন যোগ্য নেতা অত্র এলাকার সন্তান নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন,তার যতেষ্ট জনসমর্তন রয়েছে এবং উনি নির্বাচিত হলে সেতু এবং অত্র এলাকার উন্নয়ন হবে বলে আমরা আশারাকী। আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন আহামেদ বলেন, আমি নির্বাচিত হলে শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের এমপি হবো না, সব দলের এমপি হবো, যারা দল করেন না বা ভিন্নদল করেন তাদের সবার জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা থাকবে এবং চট্টগ্রামের দু:খ কালুরঘাটে নতুন সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য এই উপ-নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, বেগম জিয়া ও গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে অবিরাম সংগ্রামের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমার প্রত্যাশা ১৩ জানুয়ারী সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। আমরা সবাই যেন আইন মেনে চলি,একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিই।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর