রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২০
প্রকাশ : 2020-01-19

একজন সমাজ কর্মী হিসাবে জনগনের পাশে থাকতে চাই: কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ

১৯জানুয়ারী,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। শনিবার ১৮ই জানুয়ারি সকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনি তার এলাকায় অভাবনীয় উন্নয়ন করেছেন। বিগত পাঁচ বছরে আমি জনগণকে যে ওয়াদা করেছিলেন তা পূরণ করেছেন। এর আগে যারা কাজ করেছেন তাদের চেয়ে অনেক বেশি কাজ তিনি একা করেছেন। তিনি একজন সমাজ কর্মী হিসাবে জনগনের পাশে থাকতে চান। কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ জানিয়েছেন, তিনি আগামী নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন এবং তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। তিনি আরো জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুরু হয়ে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরনের কাজ করেছেন। ময়লা আবর্জনা অপসারন ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ যোগ্য কাজ গুলোর মধ্যে ড্রেনের উপর কালভাট নির্মাণ করেছেন। রাস্তায় এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। চট্টগ্রাম শহরের প্রথম এলইডি বাল্ব স্থাপন আমার ওয়ার্ড থেকেই শুরু হয়েছে। তাছাড়া আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এরমধ্যে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যায়ে পোস্তার পাড় ডিগ্রি কলেজ ভবনের কাজ করেছেন। চার কোটি টাকা ব্যায়ে সিটি কর্পোরেশন সরকারী প্রাথমিক স্কুল ছয় তলা ভবন নির্মাণ। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যায়ে দেওয়ান হাট ডিগ্রী কলেজের ফ্লোর নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি জানান, তার এলাকায় কোন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নেই বললেই চলে। তাছাড়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো। মাদকের সমস্যাও তেমন একটা নেই। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না সে যেই হোক না কেন। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সি সি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সরাসরি থানা থেকে এবং আমার এখান থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। যেখানে সরাসরি লাইভ দেখানো হচ্ছে ফলে পুলিশ সহজে আসামি সনাক্ত করতে পারে। সুতরাং আমার ওয়ার্ডে মাদক ও সন্ত্রাস এর কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া আমি নির্বাচন কালীন সময়ে ওয়াদা করেছিলাম এলাকার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করবো। আমি আমার নিজের অর্থায়নে একটি অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করেছি। যা এলাকার জনগন বিনামুল্যে ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং এটি ২৪ ঘন্টা সেবা প্রদান করবে। তিনি জানান, তার এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। তার এলাকায় দুইটি ছড়া আছে লালমিয়া ছড়া ও নাছির খান ছড়া । বাটালী পাহাড় থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি এই দুই ছড়া দিয়ে নামে। ফলে ঢলের পানির সাথে আসা বালিতে একদিকে ছড়া ভরাট হয়ে যায় অন্যদিকে এলাকার ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যায়। এরফলে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্ট হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে তিনি আশাবাদী মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা আর থাকবেনা। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি অসমাপ্ত কাজ গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করবেন। এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বাত্মক কাজ করে যাবেন। এলাকাবাসীর প্রয়োজনে ও এলাকার উন্নয়নে যা যা করার দরকার তা করে যাবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের চৌমুহনী এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা কবির আহম্মেদ সিদ্দিকি (৫৮) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। রাস্তা ঘাটেরও বেশ উন্নয়ন করেছেন। এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরনের কাজ করছেন। তবে জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পাই নাই, যা বর্ষা মৌসুমে আমাদের খুব ভোগান্তিতে ফেলে। ব্যক্তি হিসাবে এলাকায় উনার ভালো গ্রহণযোগ্যতাও আছে। মাদকের সমস্যা তেমন নেই এখানে সন্ত্রাসী কাজ করে কেউ পার পাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সি সি ক্যামেরা বসানো আছে। উনি আবার নির্বাচিত হবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। ২৩ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের সুলতান কলোনী এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী মোঃ ইলিয়াস হোসেন (৪৯) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর জাবেদ ভাই ব্যক্তি হিসাবে ভালো। এলাকায় ওনার গ্রহণযোগ্যতা আছে। মাদকের সমস্যা নেই বললেই চলে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেশ ভালো।

সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর