বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২০
প্রকাশ : 2020-01-24

ফৌজদারহাট-বায়েজীদ বাইপাস সড়ক উন্মুক্ত হচ্ছে মার্চে

২৪জানুয়ারী,শুক্রবার,নূর মোহাম্মদ,বিশেষ প্রতিনিধি,সীতাকুণ্ড,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে ফৌজদারহাট-বায়েজীদ বাইপাস সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য আগামী মার্চ মাসে খুলে দেয়া হবে। সড়কটি চালু হলে নগরীর স্থবির হয়ে যাওয়া বিস্তৃত এলাকার যান চলাচলে গতিশীলতা আসবে। শুধু নগরীর যান চলাচলই নয়, আবাসন শিল্পায়ন এবং পর্যটনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে অনেকেই। ইতোমধ্যে সড়কটির ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে সড়কটি চালু হলে বিশ্বমানের শহর ও পর্যটনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, কাপ্তাই, ফটিছড়ি, রাউজান থেকে আসা গাড়িগুলো এ রাস্তা ব্যবহার করবে। প্রসঙ্গত- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট থেকে বায়েজীদ পর্যন্ত এ সড়কের নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ১৯৯৭ সালে। সেই সময় ৩৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পটি ১৯৯৯ সালে একনেকে পাস হলেও অজানা কারণে আলোর মুখ দেখেনি। পরে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ও চার লেনের রাস্তাটি নির্মাণের জন্য ২০০৪ সালে ৫৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। আর প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩২০ কোটি টাকা। পাহাড় কাটা নিয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যানের সঙ্গে বিরোধের কারণে কাজ শুরু করতে আরও কিছু সময় দেরি হয়। বর্তমানে রাস্তাটির ৯০ শতাংশ ও সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের বেশি অংশের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৬টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।আগামী মার্চ মাসেই সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। চট্টগ্রামকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়তে হলে এ বাইপাস সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশাবাদ নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরানের। তিনি বলেন, অন্যান্য নির্মাধীণ যে প্রজেক্টগুলো আছে সেগুলো শেষ হলে এর ব্যবহারবিধি বেড়ে যাবে। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিস্তৃত এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এই রাস্তাটি দ্রুত চালু করা জরুরী বলে মন্তব্য করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রবেশ মুখ স্থবির হয়ে গেছে। কর্ণেল হাট থেকে একে খান মোড়, জাকির হোসেন রোড থেকে জিইসি এবং সন্নিহিত এলাকায় রাতে দিনে যানজট লেগে থাকে। সকাল থেকে শুরু হওয়া যানজট থেকে মুক্তি মিলেনা গভীর রাতেও। বড় বড় প্রাইম মুভার, রডের গাড়ি, সিমেন্টের গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান মিলে বেহাল অবস্থা শুরু হয় সকাল থেকে। বাইপাস সড়কটি ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ রোডের সাথে যুক্ত হবে। বায়েজিদ রোড অঙিজেন মোড়ে গিয়ে সংযুক্ত হয়েছে অঙিজেন-কুয়াইশ সড়কের সাথে। এতে করে ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত বিসতৃত এলাকা থেকে আসা যেসব গাড়ি উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙুনিয়া, কাপ্তাইসহ সন্নিহিত অঞ্চলে কিংবা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং কঙবাজারসহ দক্ষিন চট্টগ্রামে যাবে সেই সব গাড়ি শহরে প্রবেশ না করে এই রাস্তা ধরে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। আবার শহর বা উপরোক্ত অঞ্চলগুলো থেকে যেসব গাড়ি ঢাকা কিংবা দেশের অপরাপর অংশে যাবে সেগুলো শহরের জিইসি মোড বা জাকির হোসেন রোড স্পর্শ না করেই বাইপাস রোড ধরে বেরিয়ে যেতে পারবে। অপরদিকে মীরসরাই, সীতাকুণ্ড এবং ফৌজদারহাট থেকে রড এবং স্টিল আনা নেয়ার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য প্রাইমমুভার শহরের ভিতর দিয়ে নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় যাতায়াত করে। রডবাহী বিশাল বিশাল গাড়িগুলো জাকির হোসেন রোডে যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে তার ধকল পুরো এলাকার যান চলাচলের ক্ষেত্রে পড়ে। প্রতিদিনই সকাল থেকে গভীর রাত অব্দি বড় বড় প্রাইমমুভারের দখলে থাকে পুরো জাকির হোসেন রোড। রাস্তাটি চালু হলে এই ধরনের বিপুল সংখ্যক গাড়ি শহরের যান চলাচলের উপর যেই চাপ সৃষ্টি করছে তা থেকে নগরী রক্ষা পাবে। যার প্রভাব পড়বে পুরো নগরীর যান চলাচলের ক্ষেত্রে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর