সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২০
প্রকাশ : 2020-01-28

আমার ওয়ার্ডকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে উন্নত ও পরিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে রুপান্তর করবঃ কাউন্সিলর মোরশেদ

২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন , মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলম এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। সোমবার ২৭শে জানুয়ারি বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলম জানিয়েছেন, জনগনের আশা প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে তিনি আবার নির্বাচন করবেন। বিগত নির্বাচনে এলাকা বাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেছেন। শতভাগ চেষ্টা করেছেন এলাকা বাসীর প্রত্যাশা পুরন করতে। যা জনগন বিচার করবে। তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দিবে। এই ওয়ার্ডকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে উন্নত ও পরিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে রুপান্তর করবেন । তিনি আরো জানান, এই ওয়ার্ড অনেক বড় যার আয়তন ৪.৬৫ বর্গ কিলোমিটার। এখানে ভোটারের সংখ্যা একলক্ষ তেইশ হাজার। এই ওয়ার্ড একটি জনবহুল ও সমৃদ্ধ ওয়ার্ড। এই শুলকবহর ওয়ার্ডের সাক্ষরতার হার ৭৩.৭২%।এ ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাড়াও রয়েছে ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ১টি কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৫টি কলেজ, ১১টি স্কুল এন্ড কলেজ, ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৫ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রায় ১০৪ কোটি টাকার কাজ করছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরন ও সম্প্রসারণ করেছেন। রাস্তার মাঝখানে আইল্যান্ড স্থাপন ও সজ্জিতকরণের কাজ করেছেন। এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ রাস্তা পাকাকরনের কাজ হয়েছে। বেশ কিছু রাস্তা সংস্কার করা হেয়েছে। বাকি কাজ গুলো চলমান আছে। ড্রেন গুলো সম্প্রসারণ ও নালা নর্দমা পরিষ্কার করেছেন। রাস্তায় ব্যপক এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। এলাকার ময়লা আবর্জনা অপসারনের জন্য ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট বড় ১২০ টি ডাস্টবিন এরমধ্যে প্রায় ৯০টি সরিয়ে ওখানে ফুলের বাগান করা হয়েছে। মাদক ও সন্ত্রাস ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। প্রশাসনের সহযোগিতায় মাদকের অনেক আস্তানা উচ্ছেদ করেছেন। মাদক ও সন্ত্রাস দমনে উঠান বৈঠক ও নানা সবা সমাবেশের আয়োজন করেছেন। জনগণকে সাথে নিয়ে মাদক দমনে কাজ করে যাচ্ছেন। শতভাগ মাদক নির্মূলে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। ড্রেন সম্প্রসারন ও পরিষ্কার করার ফলে জলাবদ্ধতার হার অনেকটা কমেছে। তবে পুরো পুরি জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনী ও সিডিএর সমন্বয়ে একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। আশাকরি প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা আর থাকবেনা। কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলম জানান, তিনি বেশ কিছু মানবিক ও সামাজিক কাজের সাথেও জড়িত। তারমধ্যে গত দুই বছর যাবত ন্যায্য মুল্যের পন্য সরবরাহ। প্রতি শীতকালে ৬টি শীতকালীন সবজি ১০ টাকা কেজি দরে জনগনের মধ্যে বিক্রি। দুটি পথশিশু স্কুল পরিচালনা। বিজয় কেতন বিদ্যানিকেতন ও চারুলতা বিদ্যাপীঠ এর প্রায় ৩শ জন পথ শিশুদের বিনামুল্যে শিক্ষার সুযোগ প্রদান। ১শ জন পথ শিশুকে প্রতিদিন বিভিন্ন হোটেল থেকে ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা। প্রতি রমজান মাসে পথচারীদের জন্য ফ্রি ইফতার সামগ্রী বিতরন করেন। তিনি জন্ম দিন পালন করেন পথ শিশুদের নিয়ে। পথ শিশুরাই তার জন্ম দিনের কেক কাটে। প্রতিটি শিশুর জীবন হোক ভালোবাসায় ধন্য- এই শ্লোগান কে সামনে রেখে প্রতি বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালো বাসা দিবসে পাল্ন করেন ব্যতিক্রমী এক ভালোবাসা দিবস। যেখানে পথশিশু ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুরাই প্রধান অথিতি। যে অনুষ্ঠানে পথশিশুদের ক্ষনিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেয় ভালবাসা বঞ্চিত জীবন যন্ত্রণাকে। অযত্ন অবহেলায় বেড়ে উঠা জীবনটাকে লাল পোশাক আর লাল গোলাপ হাতে নতুন ভাবে আবিস্কার করে সকলের মাঝে। বর্ণাঢ্য পুরো অনষ্ঠান জুড়ে থেকে তাদের আধিপত্য। সেইসাথে নানা শ্রেনী পেশার মানুষ ও যোগ দেয় এই অনুষ্ঠানে। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার কাজের ধারা অব্যহত রাখবেন। ওয়ার্ডকে একটি মাদক ,সন্ত্রাস ও আবর্জনামুক্ত একটি আদর্শ ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করবেন। এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু স্বপ্ন আছে সেই গুলো বাস্তবায়ন করতে চান। এলাকার মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের ফ্রি কোচিং এর ব্যবস্থা করবেন। এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থাকবেন এবং সব রকমের সহযোগিতা করে যাবেন। শতভাগ জলাবদ্ধতা মুক্ত ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তুলবেন। সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় পথ শিশুদের জন্য একটি ট্রাষ্ট গড়ে তুলবেন। শতভাগ সড়ক আলোকায়ন তথা রাস্তা পাকাকরনের কাজ করবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের মির্জার পুল এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম সাজু (৪৩) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর এলাকার উন্নয়নে অনেক করেছেন। রাস্তা ঘাট গুলো সংস্কার করেছেন ও পাকাকরনের কাজ করেছেন। মাদক নির্মূলে ওনি অনেক ভুমিকা রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে আবার নির্বাচিত হবে বলে আশা রাখি। ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের কাতালগঞ্জ এলাকার এক ব্যবসায়ী জমির হোসেন (৪৮) জানান,বর্তমান কাউন্সিলর মোরশেদ আলম ব্যক্তি হিসাবে ভালো। এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন। তাকে আবার সুযোগ দেওয়া দরকার। ওনার আবার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের শুলকবহর এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা চাকুরিজীবী এনামুল করিম চৌধুরী (৪২) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর মোরশেদ আলম এর এলাকায় ভালো গ্রহনযোগ্যতা আছে। তার আবার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের মির্জার পুল এলাকার এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছগির আহম্মেদ (৫৪) জানান, এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। এলাকায় রাস্তা ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। মাদকের সমস্যা থেকে পুরো পুরি মুক্ত নয় আমাদের এলাকা। তাছাড়া আমি মনে করি বর্তমান কাউন্সিলর এলাকায় উন্নয়ন কাজ করেছেন।

সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর