প্রকাশ : 2020-01-30

কে আমাদের খাবার দিবে? আমাদের যে আর কিছুই রইলো না

৩০জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নাছিম আহম্মেদ,টাঙ্গাইল,নিউজ একাত্তর ডট কম: কে আমাদের ওষুধ কিনে দিবে? কে আমাদের খাবার দিবে? আমাদের যে আর কিছুই রইলো না। আমাদের ছেলের লাশটা যেন তাড়াতাড়ি দেশে আনা হয় এজন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই। এই আহাজারি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের আউলাতৈল গ্রামের আল আমিনের বাবা বাবা ফরহাদ আলী ও মা খাতু বেগমের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় আল আমিনের বাবা-মা। দুই ভাই-বোনের মধ্যে আল আমিন ছিলেন ছোট। পাঁচ বছর আগে স্থানীয় আউলিয়াবাদ গ্রামের বাবুলের মেয়ে বিলকিসকে বিয়ে করেন তিনি। অভাবের সংসারের হাল ধরতে প্রায় এক যুগ আগে সৌদি আরবের জেদ্দায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে প্রথমে আল ওয়ান কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন আল আমিন। পরবর্তীতে তিন বছর আগে সেখান থেকে জেদ্দার ইয়ামামা নামের একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে যোগ দেন। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার দুপুরে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে জেদ্দার হাইআল সামির এলাকায় তাদের বহনকারী গাড়িটিকে একটি বড় লরি ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান আল আমিন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি দেশে আসার কথা ছিল তার। সরেজমিনে আল আমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন অসুস্থ বাবা ফরহাদ আলী ও মা খাতু বেগম। ছেলেকে দেখার আকাঙ্ক্ষায় তাদের আহাজারি যেন কিছুতেই থামছে না। এলাকার শত শত নারী পুরুষ ছুটে এসেছেন তাদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য। আল আমিনের স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে তার সাথে আমার শেষ কথা হয়। পরে বিকালেই তার মৃত্যুর খবর শুনতে পাই। আমাদের কোনও সন্তান নেই এখন আমি কি নিয়ে বাঁচব। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, আল আমিন অনেক ভালো ছেলে ছিল। তাকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। সরকার যেন এ পরিবারটির দিকে নজর দেন। আর তার লাশটি যেন দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।

সারা দেশ পাতার আরো খবর