শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০
প্রকাশ : 2020-01-30

ওয়ার্ডকে তরুণ প্রজন্মের জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলবো: কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরন

৩০জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন , মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং পাহাড়তলি ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরন এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। বুধবার ২৯শে জানুয়ারি বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরন জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন গুলো এখন দলীয় সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। তাই দল থেকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করবেন। তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। তিনি ওয়ার্ডেকে তরুন প্রজন্মের উপযোগী একটি ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তুলবেন। তিনি আরো জানান, তিনি একটানা চার টার্ম ধরে কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান মেয়রের সহায়তায় তার চলতি মেয়াদে এলাকায় সর্বমোট ১৪০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে উন্নয়ন কাজ হয়েছে। যা একটি উপজেলাতে ও এমন বরাদ্ধের কাজ হয় না। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরন ও সম্প্রসারণ করেছেন। সকল কাঁচা রাস্তা গুলো পাকাকরনের কাজ করছেন। ড্রেন ও নালা গুলো সম্প্রসারণ করেছেন। রাস্তায় ব্যপক এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। এলাকার সড়ক গুলো সংস্কার করেছেন। বেশকিছু ড্রেন নতুন ভাবে করেছেন। মেয়রের ঘোষিত ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এই ওয়ার্ড একটি ময়লা আবর্জনা মুক্ত ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করা হবে। মাদক ও সন্ত্রাস ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। মাদক নিয়ন্ত্রনে বেশ কয়েকটি সংস্থা আছে যাদের নৈতিক দায়িত্ব মাদক নিয়ন্ত্রন। মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। তাই জনসচেতনতা তৈরি ও মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য উঠান বৈঠক ও সভা সমাবেশ করেছি। সেই সাথে প্রশাসনকে ও সহযোগিতা করেছি মাদক নির্মূলে। তিনি জানান, ২৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বিভিন্ন ড্রেন সম্প্রসারন, নালা ও খাল সংস্কার করেছেন । ড্রেন সম্প্রসারন ও পরিষ্কার করার ফলে এখন আর তেমন জলাবদ্ধতা হয় না। এই ওয়ার্ডের অনেক অংশ উঁচু তারপরও একসময় এখানে বর্ষা মৌসুমে কোমড় সমান পানি জমে থাকত। বিশেষ করে ছিন্নমুল বস্তি, আমবাগান কলোনি, মাস্টার লেইন, একসিএম কলোনি এলাকায় ব্যপক জলাবদ্ধতা হত। ব্যাপক ভাবে ড্রেন সম্প্রসারন ও সংস্কার করনের ফলে আশা করছি আগামীতে আর জলাবদ্ধতা হবে না। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি তার কাজের ধারা অব্যহত রাখবেন। ওয়ার্ডকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত একটি মডেল ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করবেন। তিনি তার ওয়ার্ডকে তরুন প্রজন্মের জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলবেন। তার আগামীর পরিকল্পনা থাকবে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করবেন। তার এলাকায় পাঁচটি স্কুল আছে এই স্কুল গুলোতে প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে দেশ প্রেম ও সত্যিকার সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার অনুপ্ররনা জোগানোর জন্য কাজ করে যাবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ১৩ নং পাহাড়তলি ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ১৩ নং পাহাড়তলি ওয়ার্ডের রেলগেইট এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা মাজেদুল হক (৫২) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর হিরন সাহেব এলাকার উন্নয়নে অনেক করেছেন। রাস্তা ঘাট গুলো সংস্কার করেছেন ও কারপেটিং এর কাজ করেছেন। মাদক নির্মূলে ওনি কাজ করেছেন। তিনি একটানা চার টার্ম ধরে কাজ করছেন। আগামী নির্বাচনে আবারও নির্বাচিত হবে বলে আশা করি। ১৩ নং পাহাড়তলি ওয়ার্ডের আমবাগান কলোনি এলাকার এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী আইয়ুব খান (৪৭) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর ব্যক্তি হিসাবে মোটামুটি ভালো। এলাকার রাস্তা ঘাটের পাকাকরনের কাজ করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও নালা গুলোর সংস্কার করেছেন। আশা করছি আমাদের কলোনি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাব। তিনি মাদক নিয়ন্ত্রনে ও অনেক সভা সমাবেশ করেছেন। বিভিন্ন প্রয়োজনে ওনাকে পাশে পাওয়া যায়। ১৩ নং পাহাড়তলি ওয়ার্ডের মাষ্টার লেইন এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা হাজী মোঃ করিমুল্লা (৫৯) জানান, আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। তবে বেশ কিছু কাজ হয়েছে আশা করছি আগামী বর্ষায় আর জলাবদ্ধতা হবে না। রাস্তা ঘাটের ব্যাপক সংস্কার কাজ হয়েছে। সন্ত্রাস ও মাদকের সমস্যা থেকে পুরো পুরি মুক্ত নয় আমাদের এলাকা। বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ হোসেন হিরন বিগত কয়েক টার্ম ধরে ধারাবাহিক ভাবে কাউন্সিলর হিসাবে আছেন। আমি মনে করি বর্তমান কাউন্সিলর এলাকায় উন্নয়ন কাজ করেছেন। তিনি আবারও নির্বাচিত হবেন বলে আশা করি।

সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর