প্রকাশ : 2020-02-04

শেষ একটি বার সুযোগ চাই এলাকার জনগনের সেবা করার: কাউন্সিলর মোঃ আজম

০৪ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন , মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৫ নং মোহরা ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। রবিবার ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম জানিয়েছেন, এলাকার জনগন চাইলে তিনি আগামী নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন। তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। এই বারের পর তিনি আর নির্বাচন করবেন না। তিনি চান আগামীতে নতুন নেতৃত্ব আসুক। এইবার নির্বাচন করতে চান এইজন্য যে,তার কিছু অসমাপ্ত কাজ আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য। তিনি আরো জানান, এলাকার জনগন বেশী কিছু চায় না। তারা চায় সড়ক আলোকায়ন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন। তিনি চেষ্টা করেছেন এলাকার মানুষকে তাদের চাহিদা পুরন করতে। তিনি একটানা দুই টার্ম ধরে কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান মেয়রের সহায়তায় চলতি মেয়াদে তার এলাকায় সর্বমোট ১০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে উন্নয়ন কাজ হয়েছে। যার সুফল এলাকার জনগন ভোগ করছে। উল্লেখযোগ্য কাজ গুলো হল এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরন ও সম্প্রসারণ করেছেন। সকল কাঁচা রাস্তা গুলো পাকাকরনের কাজ করছেন। ড্রেন ও নালা গুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করেছেন। রাস্তায় ব্যপক এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। এলাকার প্রতিটি সড়ক সংস্কার করেছেন। ড্রেন ও নালা গুলো পরিস্কার করেছেন। ময়লা আবর্জনা অপসারনে মেয়রের ঘোষিত ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৫ সালে দয়িত্ব নেয়ার সময় মাত্র ১৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছিলেন বর্তমানে প্রায় ৫৬ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী পরিচ্ছন্নতার কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে আমার ওয়ার্ডের আয়তন ৬ কিলোমিটার এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ লোকের বসবাস। এই ওয়ার্ডে ছোট বাজারগুলো বাদ দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের গেজেটভুক্ত দুইটি বড় বাজার আছে কামাল বাজার ও কাজির হাট বাজার। কালুর ঘাট ভারী শিল্প এলাকাও এই ওয়ার্ডের অন্তভুক্ত। সবমিলিয়ে অনেক বড় একটি ওয়ার্ড। তবুও এই ওয়ার্ড অনেকটাই আবর্জনা মুক্ত একটি ওয়ার্ড। মাদক ও সন্ত্রাস ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। তাই জনসচেতনতা তৈরি ও মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য উঠান বৈঠক ও সভা সমাবেশ করেছি। সেই সাথে প্রশাসনকে ও সহযোগিতা করেছি মাদক নির্মূলে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি আইন শৃঙ্খলা স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে। এই স্ট্যান্ডিং কমিটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক, ছাত্র, সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সভা সমাবেশ করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ৬ তারিখ বিকালে লালদিঘী মাঠে মেয়র মহোদয় এর উদ্দ্যেগে ৪১ ওয়ার্ড এর সমন্বয়ে একটি মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী বিশাল এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে উপস্থিত থাকবে সকল প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। এই সমাবেশ থেকে মেয়র মহোদয় মাদক ও সন্ত্রাস এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করবেন বলেও জানান। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও নালা গুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করেছেন। তাছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ(সিডিএ ) পাঁচ হাজার ছয় শত কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যেটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আশা করছি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকায় জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি তার উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখবেন। মাদক ও সন্ত্রাস সমাজের একটি ব্যাধি তাই এলাকার জনগণকে সাথে নিয়ে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাবেন। ওয়ার্ডকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত একটি মডেল ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করবেন। তাছাড়া এলাকায় একটি বৃদ্ধাশ্রম করার পরিকল্পনা আছে। সেইসাথে সনাতন ধর্মীদের জন্য একটি মহাশ্মশান করা। তবে মহাশ্মশান করার কাজ চলতি মেয়াদে সম্পন্ন করার জন্য অনেক দূর এগিয়েছিলেন এর মধ্যে টেন্ডার ,ওয়ার্ক অডার পর্যন্ত হয়েছিল কিন্তু সনাতন ধর্মী কিছু লোকের অসহযোগিতার কারনে করা হয় নাই। তবে তিনি আশাবাদী আগামীতে এটি বাস্তবায়ন করবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ৫ নং মোহরা ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ৫ নং মোহরা ওয়ার্ডের কামাল বাজার এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (৪২) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর আজম ভাই এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ করেছেন। রাস্তা ঘাট গুলো সংস্কার করেছেন ও কারপেটিং এর কাজ করেছেন। মাদক নির্মূলে ওনি মোটামুটি কাজ করেছেন। তিনি একটানা দুই টার্ম ধরে কাজ করছেন। তাকে আবারও সুযোগ দেওয়া দরকার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে। আগামী নির্বাচনে আবারও নির্বাচিত হবে বলে আশা করি। ৫ নং মোহরা ওয়ার্ডের বাহির সিগন্যাল এলাকার এক ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম সুমন (৩৮) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর আজম ভাই ব্যক্তি হিসাবে ভালো এলাকায় ওনার প্রভাব আছে। এলাকার রাস্তা ঘাটের পাকাকরনের কাজ করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও নালা গুলোর সংস্কার করেছেন। আশা করছি এলাকার জনগন আবার নির্বাচিত করবে। ৫ নং মোহরা ওয়ার্ডের কাজির হাট এলাকার এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মোঃ খালেকুজ্জামান (৫৪) জানান, আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। তবে বেশ কিছু কাজ হয়েছে তাছাড়া সেনাবাহিনী ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের কাজ করছে, আশা করছি আগামী বর্ষায় আর জলাবদ্ধতার সমস্যা তেমন হবে না। রাস্তা ঘাটের ব্যাপক সংস্কার কাজ হয়েছে। বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ আজম বিগত দুই টার্ম ধরে ধারাবাহিক ভাবে কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করছেন। তিনি আবারও নির্বাচিত হবেন বলে আশা করি।

সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর