সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২০
প্রকাশ : 2020-02-10

আমি আজীবন বিনা পারিশ্রমিকে এলাকার জনগণকে সেবা দিয়ে যেতে চাইঃ কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী

১০ফেব্রুয়ারী,সোমবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন , মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। রবিবার ৯ই ফেব্রুয়ারি দুপুরে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি আগামী নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন। তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। তিনি আজীবন বিনা পারিশ্রমিকে এলাকার জনগণকে সেবা ও ভালোবাসা দিয়ে যেতে চাই। তিনি আরো জানান, তার এলাকার আয়তন ০.৪২২ বর্গমাইল, জনসংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ও হোল্ডিং সংখ্যা চার হাজার। পুরুষ ও মহিলা মিলে ভোটার সংখ্যা ৩৭ হাজার ২৫০ জন। তার এলাকায় সর্বমোট প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যায়ে ৪১টি প্রকল্পে উন্নয়ন কাজ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কাজ গুলো হল এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরন ও সম্প্রসারণ করেছেন। সকল কাঁচা রাস্তা গুলো পাকাকরনের কাজ করছেন। ড্রেন ও নালা গুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করেছেন। এলাকার প্রতিটি সড়ক সংস্কার করেছেন। ড্রেন ও নালা গুলো পরিস্কার করেছেন। মাদক ও সন্ত্রাস ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। তিনি জানান, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভূমিকা রাখার দরুন বরিশাল কলোনী, বাস্থহারা কলোনী ও মাইল্যার বিল এলাকা থেকে মাদক ও সন্ত্রাস স্ব-মুলে উচ্ছেদ করতে সক্ষম হন। তাছাড়া প্রতিমাসে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী গঠিত কমিটি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন বলেও জানান। জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়ার্ডের বড় নালা ও খালের ময়লা ও মাটি অপসারনে তিনি ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ও কর্পোরেশনের সহযোগিতায় কার্যকর ভুমিকা রেখেছেন। স্ট্যান্ড রোড ও মাঝির ঘাট এলাকায় দুটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। আশা করছি সামনের দিন গুলিতে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। ময়লা আবর্জনা অপসারনে মেয়রের ঘোষিত ক্লিন সিটি গ্রিন সিটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারন করার ফলে এই এলাকায় কোন ডাস্টবিন নেই। তিনি জানান, এই ওয়ার্ডটি একটি নিন্ম আয়ের মানুষের বসবাস। বিশেষ করে, বিভিন্ন শ্রেনীর লেবার, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেশির ভাগ লোক এখানে বাস করে। এলাকার গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের কে স্কুল, কলেজে ভর্তি ও লেখা পড়ার জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি। প্রাপ্ত বয়স্ক গরিব অসহায় অবিবাহিত মেয়েদের বিবাহের জন্য আর্থিক সহায়তা করেন। তাছাড়া ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে প্রদত্ত সেবা সমুহ অতি দ্রুততার সাথে ও সম্পূর্ণ বিনামুল্যে জনসাধারনকে সেবা দেওয়া হয়। এলাকার সন্মানিত ও নির্বাচিত ১০জন সর্দার দের উপস্থিতিতে প্রতি শনিবার সালিশি কার্যক্রম সম্পাদন করেন। এই পর্যন্ত প্রায় ১১০টি বিচার কাজ সম্পাদন করেন। প্রতি শনিবার বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা ও ফ্রি চিকিৎসা সামগ্রী বিতরন করে থাকেন। মেয়রের অনুমতি ক্রমে ওয়ার্ড অফিসের নিচতলায় একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেন। যেখানে ডাক্তার তাহমিদা ফাতেমা হোসাইন ও ডাক্তার আশিকুল ইসলাম প্রতি শনিবার তাদের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকেন। ওয়ার্ডে ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু রেখেছেন যেখানে প্রতি কেজি চাল ২০ টাকা দরে ও পেঁয়াজ ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাবেন। ওয়ার্ডকে শিক্ষামুখি একটি মডেল ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করবেন। তিনি এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে যাবেন । এলাকায় একটি বয়েস উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে তুলবেন। যার জন্য ইতিমধ্যে একটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ওনার নিজস্ব ১৪ কাঠা একটা জমি আছে সেখানে এই স্কুল নির্মাণ করবেন বলে জানান। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ফ্রি চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্মরত ডাক্তার তাহমিদা ফাতেমা হোসাইন (৩২) এর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের সাথে, ডাক্তার তাহমিদা জানান সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই এলাকার বেশির ভাগ লোক গরীর। ওরা বাইরে গিয়ে টাকা খরচ করে ভালো ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে না। তাই এই গরিব অসহায় মানুষদের কথা চিন্তা করে ওদের ফ্রি সেবা দিচ্ছি সাথে প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী প্রদান করি। তিনি আরো জানান, বর্তমান কাউন্সিলর আমার শ্বশুর তিনি যেমন সমাজের সেবা করে যাচ্ছেন তেমনি আমি ও আমার স্বামী ডাক্তার আশিকুল ইসলাম এলাকাবাসীর সেবা করে যাচ্ছি। সমাজের প্রতিটি মানুষকে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে এইভাবে এগিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের দারোগার হাট রোড এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা কফিল ঊদ্দিন (৪৯) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী ভাই চলতি মেয়াদে এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ করেছেন। রাস্তা ঘাট গুলো সংস্কার করেছেন ও কারপেটিং এর কাজ করেছেন। মাদক নির্মূলে ওনি মোটামুটি কাজ করেছেন। তাকে আবারও সুযোগ দেওয়া দরকার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে। আগামী নির্বাচনে আবারও নির্বাচিত হবে বলে আশা করি। ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের এজাজ কলোনি এলাকার এক ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী মোঃ মনির হোসেন (৪৫) জানান,বর্তমান কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী ব্যক্তি হিসাবে অনেক ভালো। এলাকায় ওনার ভালো গ্রহণযোগ্যতাও আছে। তিনি এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নয়নে কাজ করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও নালা গুলোর সংস্কার করেছেন। আশা করছি এলাকার জনগন আবার নির্বাচিত করবে। ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের মাঝির ঘাট এলাকার এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল হাই (৫৪) জানান, কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী ভাই এই এলাকার সন্তান। তাছাড়া তিনি এলাকার রাস্তা ঘাটের ব্যাপক সংস্কার কাজ হয়েছে। ওনি ওনার ছেলে ও ছেলের বউকেও এলাকা বাসির সেবায় নিয়োজিত করেছেন। এলাকার জনগন আবারও নির্বাচিত করবেন বলে আশা করি। ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের স্ট্যান্ড রোড এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম বেগম(৫২) জানান, ভাই আমি এক কথায় বলবো বর্তমান কাউন্সিলর একজন যোগ্য লোক। তিনি কাউকে নিরাশ করেন না। এলাকার জনসাধারন যেকোন সেবা ও সহযোগিতার তার কাছ থেকে পায়। তাকে আবারও নির্বাচিত করা উচিৎ।

সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর