রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২০
প্রকাশ : 2020-02-12

এলাকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে চাইঃ কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের

১২ফেব্রুয়ারী,বুধবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ,নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন , মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৯ নং পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। সোমবার ১০ই ফেব্রুয়ারি্ সকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের জানিয়েছেন, এলাকার জনগন তাকে আবার নির্বাচন করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তাই জনগনকে সেবা দিতে আগামী নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন। তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে জনগনের ক্ষমতায়ন শেখ হাসিনার দর্শন এই দর্শনকে সামনে রেখে ঘোষিত রূপকল্প ২০২০ আলোকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা। তিনি আরো জানান, তার এলাকায় সর্বমোট প্রায় ৩৫ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা টাকা ব্যায়ে ১৭টি প্রকল্পে উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এবং বেশ কিছু প্রকল্প চলমান আছে। উল্লেখযোগ্য কাজ গুলো হল ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ। ২ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে মাঝিরঘাট থেকে কদমতলী নোয়াখালী বাস স্ট্যান্ড মোড় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজ। প্রায় ৫ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে শুভপুর স্ট্যান্ড থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত তিনটি বড় ড্রেন নির্মাণসহ রাস্তার সংস্কার কাজ। ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে রশিদ মাষ্টার লেইন গন্ডারিয়া পাড়ার রাস্তা সংস্কার কাজ। ৯০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে টং ফকির মাজার লেইনের রাস্তা সংস্কার কাজ। ১ কোটি টাকা ব্যায়ে বরই গাছ থেকে ২নং গলি এবং নাজিম উদ্দিন লেইনসহ রাস্তা সংস্কার কাজ। ১নং গলি থেকে চট্রলা বেকারী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজ। ৪০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বায়তুল জান্নাত মসজিদ আলো সিঁড়ি ক্লাব রাস্তা সংস্কার ও নর্দমা সংস্কার কাজ। ৯৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে উদয়ন গলির মুখ থেকে শেষ মাথা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার নর্দমা সংস্কার কাজ। ২২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এস আর বি/ কাচার্যা লি রাস্তা সংস্কার ও নর্দমা সংস্কার কাজ। ৮০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে আলি ফজর মেম্বার বাড়ির মুখ থেকে নজু ফকির মাজার বড় লেইনের রাস্তা সংস্কার ও বড় নালা আরসিসি ঢালাই এর কাজ। চলমান প্রকল্প গুলো হল হাজী বাদশা মিয়ার বাড়ির রাস্তা সংস্কার কাজ। দক্ষিন মাদারবাড়ি ফকির পাড়া স্ট্যান্ড রোড এর সংস্কার কাজ। ঝাড়ু গলি বাই লেইনের সংস্কার কাজ। কদমতলি রওশন মসজিদ লেইনের সংস্কার কাজ। হাজী এনায়েত আলি সর্দারের বাড়ির রাস্তা সংস্কার কাজ। এছাড়া এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরন ও সম্প্রসারণ করেছেন। ড্রেন ও নালা গুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করেছেন। ড্রেন ও নালা গুলো পরিস্কার করেছেন। মাদক ও সন্ত্রাস ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। তিনি জানান, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী গঠিত কমিটি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন। মাদকের আখড়া বরিশাল কলোনি উচ্ছেদ করে সেখানে এতিমদের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে। মাদক বিরোধী মানব্বন্ধন করা হয়েছে। সেইসাথে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে মাদক বিরোধী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়ার্ডের বড় নালা ও খালের ময়লা ও মাটি অপসারনে তিনি কার্যকর ভুমিকা রেখেছেন। রশিদ মাষ্টার লেইন ও মাঝির ঘাট উদয়ন গলিতে কিছু জোয়ারের পানি আসে। গুলজার খালের খনন কাজ চলছে। এর ফলে জোয়ারের পানি দ্রুত নেমে যাবে। তাছাড়া সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে যে প্রকল্পের কাজ চলছে তা সম্পূর্ণ হলে আশা করছি সামনের দিন গুলিতে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। ময়লা আবর্জনা অপসারনে মেয়রের ঘোষিত ক্লিন সিটি গ্রিন সিটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারন করার ফলে এই এলাকায় কোন ডাস্টবিন নেই। প্রতিদিন পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ময়লা অপসারনে কাজ করে যাচ্ছে। এই ওয়ার্ড অনেকটাই ময়লা আবর্জনা মুক্ত বলা চলে। মানুষের অসচেতনার জন্য কিছুটা সমস্যা হয়।তবে আমরা শত ভাগ ময়লা অপসারণে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাবেন। এলাকার প্রতিটি অলি গলিতে সড়ক বাতির ব্যবস্থা করা। চলমান কাজ গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করা। এলাকার গরিব ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো। সেইসাথে এই ওয়ার্ডকে একটি মাদ্কমুক্ত, ইভটিজিং মুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তুলবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ২৯ নং পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ২৯ নং পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের শুভপুর বাস স্ট্যান্ড রোড এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা মইজ ঊদ্দিন (৪৮) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের ভাই চলতি মেয়াদে এলাকা্র উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ করেছেন। রাস্তা ঘাট গুলো সংস্কার করেছেন ও কারপেটিং এর কাজ করেছেন। মাদক নির্মূলেও কাজ করেছেন। এলাকার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে ওনাকে আবারও সুযোগ দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। ২৯ নং পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকার এক মেশিনারি ব্যবসায়ী মোঃ সাইফুল আলম (৫৩) জানান,বর্তমান কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের ব্যক্তি হিসাবে অনেক ভালো।এলাকায় ওনার ভালো গ্রহণযোগ্যতাও আছে। তিনি এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নয়নে কাজ করেছেন। আশা করছি এলাকার জনগন আবার নির্বাচিত করবে। ২৯ নং পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের মাদার বাড়ি এলাকার এক লৌহ ব্যবসায়ী জাবের হোসেন (৫৫) জানান, কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের ভাই এলাকার রাস্তা ঘাটের ব্যাপক সংস্কার কাজ হয়েছে। এলাকার জনগন আবারও নির্বাচিত করবেন বলে আশা করি। ২৯ নং পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের রেল গেইট এলাকার এক চা বিক্রেতা মোঃ সামছুউদ্দিন (৪৩) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর একজন যোগ্য লোক। তিনি এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ করেছেন। তিনি আবার নির্বাচিত হবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। আমিও ব্যাক্তিগত ভাবে ওনাকে পছন্দ করি।

সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর