রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২০
প্রকাশ : 2020-02-12

মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত ও কর্মসংস্থান মুখী একটি আধুনিক ওয়ার্ড গড়তে চাইঃ কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল

১২ফেব্রুয়ারী,বুধবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন , মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নং দক্ষিন আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আলহাজ্ব এইচ এম সোহেলএলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। সোমবার ১০ই ফেব্রুয়ারি্ বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল জানিয়েছেন, এলাকার জনগন চাইলে আবার নির্বাচন করবেন। বিশেষ করে তার কিছু কর্মপরিকল্পনা আছে সে গুলো বাস্তবায়নের জন্য। তার চলতি মেয়াদে ২৪৫ কোটি টাকার কাজ হচ্ছে তার মধ্যে ৮০ ভাগ কাজ প্রায় শেষ। বাকি কাজ গুলো চলমান আছে। তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। তিনি গ্রিন সিটি ক্লিন সিটি তথা মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত ও কর্মসংস্থান মুখী একটি আধুনিক ওয়ার্ড গড়ে তুলতে চান। তিনি আরো জানান, তার চলতি মেয়াদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে থোক ফান্ড বরাদ্ধকৃত ৭ কোটি ২৫ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা ব্যায়ে প্রায় ৩১টি প্রকল্পের কাজ হয়। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল,.২,৬,৭,৮,৯,১১,১৩ ও ১৫ নং ইসলামিয়া ব্রিক ফিল্ড বাইলেইনের উন্নয়ন। আগ্রাবাদ সিঙ্গাপুর-ব্যংকক মার্কেটের সংস্কার কাজ। আগ্রাবাদ শপিং কমপ্লেক্স ভবনের অবশিষ্ট কাজ সম্প্রসারণ। নাছির খাল ছড়ার মাটি উত্তোলন কাজ। বেপারি পাড়া রুহুল আমিন চেয়ারম্যান গলির নির্মাণ কাজ। আবিদার পাড়া এলাকার মিয়া খায়ের সওদাগর বাড়ি বাইলেইনের উন্নয়ন কাজ। বেপারি পাড়া এলাকার আবুল হোসেন বাইলেইনের উন্নয়ন কাজ। বেপারি পাড়া এলাকার সিডিএ বাইলেইনের উন্নয়ন কাজ। সিডিএ আবাসিক এলাকার ২০নং রোড উচু করন কাজ। বেপারি পাড়া মাজার বাড়ি বাইলেইনের উন্নয়ন কাজ।ছোট পুল এলাকার শেখ দেওয়ান আলি লেইনের সংস্কার কাজ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি ফান্ড বরাদ্ধকৃত ১১ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ৫টি প্রকল্পের কাজ হয়। তার মধ্যে ৩ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সিডিএ আবাসিক রোডের উন্নয়ন। ২ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সিডিএ আবাসিক ১ নং রোডের পাশ্বের নাছির খালের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ। ৯৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সিডিএ আবাসিক এলাকার নালা নির্মাণ। ২ কোটি ১ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সাইফুল ইসলাম সড়ক এবং সালে আহম্মেদ সড়ক, ফয়েজ আহমেদ পেসকার লেইন, নজির মাঝি লেইন এবং সিডিএ আবাসিক এলাকার ২৩/২ রোডের উন্নয়ন। ২ কোটি ৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে জাফর আহমেদ রোড, বুড়ির মাজার পাশ্বের রোড, সিডিএ ১নং রোড থেকে ৩নং রোড কেজি স্কুল পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে থোক ফান্ড বরাদ্ধকৃত ৩১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ২২ টি প্রকল্পের কাজ হয়। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল আগ্রাবাদ এক্সেস রোড থেকে নালার পাড় বাজার পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন। জাম্ভুরি মাঠের দক্ষিন পূর্ব পাশ্বের নালা নির্মাণ। ইসলামিয়া ব্রিক ফিল্ড ৫নং রোডের উন্নয়ন। সিডিএ আবাসিক এলাকার ব্যাংক কর্মচারী নিবাসের প্রবেশ মুখে কাল্ভাট নির্মাণ। সিডিএ আবাসিক এলাকার ৭,৬,১০ নং রোডের উন্নয়ন। সিঙ্গাপুর –ব্যংকক মার্কেটের বেজইমেন্ট ফ্লোর থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত আধুনিকায়তন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে থোক ফান্ড বরাদ্ধকৃত ১শত ৬৩ কোটি চৌষট্টি লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা ব্যায়ে ১০টি প্রকল্পের কাজ হয়। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল সিংগাপুর ব্যংকক মার্কেট , হাইটেক পার্ক নির্মাণ। মহেশ খালের উপর রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ। হালিশহর রোডের উন্নয়ন। সিডিএ ১,২,১৬,২৬,২৭ ও ২৯ নং রোডের উন্নয়ন। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের উন্নয়ন। ২৭ নং দক্ষিন আগ্রাবাদ ওয়ার্ড অফিসের জায়গায় বহুমুখী বহুতল ভবন নির্মাণ। চলমান প্রকল্প গুলো হল ৪ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সিডিএ ২০ নং রোডস্থ মহেশ খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ। ৭ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সিডিএ ৪ নং রোডস্থ মহেশ খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ। এছাড়া এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরন ও সম্প্রসারণ করেছেন। ড্রেন ও নালা গুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করেছেন। ড্রেন ও নালা গুলো পরিস্কার করেছেন। মাদক ও সন্ত্রাসের ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। তিনি জানান, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী গঠিত কমিটি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন। মাদক বিরোধী সভা সমাবেশ করা হয়েছে। বাস্তুহারা বস্তি উচ্ছেদ করা হেয়েছে যেখানে মাদক সহ নানা অসামাজিক কাজ হত। সেইসাথে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে মাদক বিরোধী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া এলাকার ফুটপাত ৯০ ভাগ দখল মুক্ত করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়ার্ডের বড় নালা ও খালের ময়লা ও মাটি অপসারনে তিনি কার্যকর ভুমিকা রেখেছেন। নাছির খাল ছড়ার মাটি অপসারন করেছেন। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের দক্ষিন পাশ্বের নালার মাটি অপসারন করেছেন। মা ও শিশু হাসপাতালের আশে পাশের সড়কের উন্নয়ন। সিডিএ আবাসিক এলাকার রোড সমুহ ও সংযোগ সেতুর উন্নয়ন কাজ করেছেন। এলাকার নালা ও ড্রেন গুলো প্রসস্থ করন ও গভীর করা হয়েছে। তাছাড়া সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে যে প্রকল্পের কাজ চলছে তা সম্পূর্ণ হলে আশা করছি আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। তিনি জানান একসময় জলাবদ্ধতার জন্য সিডিএ আবাসিক এলাকার নিচ তলার বাসিন্দারা বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিল। এখন জলাবদ্ধতা নেই তাই তারা আবার ফিরে এসেছে। তবে জোয়ারের প্রভাবে যেখানে কোমড় সমান পানি হত এখন সেখানে পায়ের পাতা সমান পানি হয়। আশা করছি জলাবদ্ধতা একেবারেই থাকবেনা। ময়লা আবর্জনা অপসারনে মেয়রের ঘোষিত ক্লিন সিটি গ্রিন সিটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারন করার ফলে এই এলাকায় কোন ডাস্টবিন নেই। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাবেন। এলাকার প্রতিটি অলি গলিতে এলইডি বাতির ব্যবস্থা করবেন। চলমান কাজ গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করা। হাইটেক পার্ক নির্মাণ কাজ শেষ করবেন। এর নির্মাণ কাজ শেষ হলে এখানে প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করেন।এলাকার গরিব ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো। সেইসাথে এই ওয়ার্ডকে একটি মাদ্কমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তুলবেন। একটি কমিউনিটি সেন্টার খুলবেন যেখানে কম দামে এলাকার জনগন এটি ব্যবহার করতে পারে। পূর্বের ওয়ার্ড অফিসের ৩৩ কাঠা জমির উপর আয় বর্ধক একটি প্রকল্পের আওতায় সদরঘাটের মেমন হাসপাতালের আদলে একটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।এর ফলে এলাকার লোকজন সদরঘাটের মেমন এর সুযোগ সুবিধা আগ্রাবাদে উপভোগ করতে পারে। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ২৭ নং দক্ষিন আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ২৭ নং দক্ষিন আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের বেপারিপাড়া মোড় এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা হাজী আমানুল্লাহ (৫৫) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল চলতি মেয়াদে এলাকা্র উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ করেছেন। রাস্তা ঘাট গুলো সংস্কার করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা মুখি কাজ করেছেন। এলাকার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে ওনাকে আবারও সুযোগ দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। ২৭ নং দক্ষিন আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকার এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী মোঃ জানে আলম (৪৮) জানান,বর্তমান কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল ব্যক্তি হিসাবে অনেক ভালো।এলাকায় ওনার ভালো গ্রহণযোগ্যতাও আছে। তিনি এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নয়নে কাজ করেছেন। আশা করছি এলাকার জনগন আবার নির্বাচিত করবে। ২৭ নং দক্ষিন আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের সিডিএ আবাসিক এলাকার এক কাপড় ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন (৫২) জানান, কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল এলাকার রাস্তা ঘাটের ব্যাপক সংস্কার কাজ হয়েছে। এলাকার জনগন আবারও নির্বাচিত করবেন বলে আশা করি। ২৭ নং দক্ষিন আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের বেপারি পাড়া রুহুল আমিন চেয়ারম্যান গলির এক সব্জি বিক্রেতা মোঃ সাইফুল আলম (৪৬) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর একজন যোগ্য লোক। তিনি এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ করেছেন। তিনি আবার নির্বাচিত হবেন এতে কোন সন্দেহ নেই।

সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর