শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০
প্রকাশ : 2020-02-22

এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে আবারো নির্বাচিত হবার আশাবাদ ব্যক্ত

২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম:আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন , মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭ নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ মোবারক আলী এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর মোহাম্মদ মোবারক আলী জানিয়েছেন, জনগন চাইলে তিনি আবার নির্বাচন করবেন এবং তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজের ধারা অব্যহত রাখতে চান। তিনি তার ওয়ার্ডকে একটি জনবাদ্ধব ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তুলেছেন। আর এই জনমুখি সেবা প্রদানের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদ যথেষ্ট নয়।এলাকার উন্নয়নে কাজের ধারা অব্যহত রাখতে আবারো নির্বাচিত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো জানান, এরমধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ হয়েছে তার এলাকায়। তারমধ্যে এলাকার ১১৭ টি রাস্তা পাকাকরনের কাজ করেছেন। প্রায় ৯০ শতাংশ রাস্তা পাকাকরনের কাজ হয়েছে। বাকি কাজ গুলো চলমান আছে। শতভাগ কাঁচা রাস্তা মুক্ত ওয়ার্ড করার জন্য কাজ করছেন। এলাকার স্কুল গুলোতে শিক্ষা প্রসারে লজিস্টিক সহায়তা করা হয়েছে। ড্রেন গুলো সম্প্রসারণ করেছেন। রাস্তায় ব্যপক এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। প্রায় ১৩শ সড়ক বাতি লাগিয়েছেন। এলাকার ময়লা আবর্জনা অপসারনের জন্য ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। প্রতি ঘরে ময়লা ফেলার জন্য প্রায় ৪৫ হাজার বিম বিতরন করা হয়েছে। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওয়ার্ডকে বর্জ্য মুক্ত ওয়ার্ড হিসাবে ঘোষণা করতে কাজ করে যাচ্ছেন। এখানে প্রায় ৯২ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এখানে ময়লা আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। যারা নিয়মিত মনিটরিং করে থাকে। ময়লা আবর্জনা অপসারনে ব্যাকের সহযোগিতায় বেশ কিছু গাড়ি সংযুক্ত করা হয়েছে। অচিরেই এটি একটি আবর্জনা মুক্ত মডার্ন ওয়ার্ডে রুপান্তরিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। ওয়ার্ডের জনগনেকে সাথে নিয়ে মাদক নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে জগননের মধ্যে ব্যপক সচেতনতা তৈরি হয়েছে। মেয়র মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ও এলাকার জনগনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাদক বিরোধী সভা সমাবেশ করেছেন। অভাবগ্রস্ত মাদকাসক্ত পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা ও মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস নির্মূলে এলাকার জনগন সোচ্চার আছে। এই ওয়ার্ড অনেকটাই মাদক, সন্ত্রাস মুক্ত ওয়ার্ড হিসাবে পরিনত হয়েছে। তিনি জানান,তার ওয়ার্ডে কিছু জলাবদ্ধ প্রবন এলাকা রয়েছে। জলাবদ্ধতা নরসনে বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। খতিবের হাট, মরাদপুর, জাংগাল পাড়া, মোহাম্মদ পুর, নাজির পাড়া,হাদি নাজির পাড়া এইসব এলাকাগুলো বর্ষা মৌসুমে জলমগ্ন থাকে। ইতিমধ্যে ওই সব এলাকার সকল ড্রেন থেকে ময়লা ও মাটি অপসারন করা হয়েছে। সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঙ্গিনিয়ারিং ব্রিগেড জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে যে প্রকল্পের কাজ হচ্ছে তাদের সাথে সমন্নয় করে কাজ করে যাচ্ছি। তাছাড়া ত্রিপুরা খাল খনন, সিডিএ এভিনিউর পাশের মির্জা খালের অংশটি সম্প্রসারন করা। আশা করছি এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। তিনি আরো জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি তার কাজের ধারা অব্যহত রাখবেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে যাবেন এবং তার ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা মনির হোসেন চৌধুরী (৪৩) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ মোবারক আলী সাহেব এলাকা্র উন্নয়নে অনেক করেছেন। রাস্তা ঘাটেরও অনেক উন্নয়ন করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেক কাজ হাতে নিয়েছেন। মাদক নির্মূলে ওনি বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে আবার নির্বাচিত হবে বলে আশা করি। ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের এক হোটেল ব্যবসায়ী সাইমন জাকির (৪৭) জানান,বর্তমান কাউন্সিলর মোবারক আলী ভাই ব্যক্তি হিসাবে ভালো।এলাকায় ওনার ভালো গ্রহণযোগ্যতা আছে। তাকে যে কোন সময় কাছে পাওয়া যায়। তিনি আবার নির্বাচিত হবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক হাসান ভূঁইয়া (৪৬) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর মোবারক আলী ভাই একসময় ছাত্র রাজনীতি করেছেন।বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও তিনি জড়িত আছেন। এলাকার লোকজনের সাথে ওর ভালো সম্পর্ক আছে । আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি তিনি আবার নির্বাচিত হবেন। ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের এক স্থানীয় বাসিন্দা মইনুল হাসান চৌধুরী (৫৪) জানান, জলাবদ্ধতার সমস্যা আমাদের এখানে বড় সমস্যা যা বর্ষা মৌসুমে আমাদের বড় ভোগান্তিতে ফেলে। সন্ত্রাস ও মাদকের সমস্যা তেমন নেই আমাদের এলাকায়। তাছাড়া কাউন্সিলর এলাকায় মোটামুটি উন্নয়ন কাজ করেছেন।

সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর