প্রকাশ : 2018-03-08

৫০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশ রুবেল আটক

রাত তখন ১২টা। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্তব্যরত ছিলেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহরাওয়ার্দী রুবেল। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ তার শরীর তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এসময় তাকে আটক করা হয়। পুলিশ রুবেলের স্বীকারোক্তিতে বন্দরের রূপালী আবাসিক এলাকাতে তার ভাড়া বাসা থেকে আরো ৪৫ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে সম্প্রতি এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেল একজন নারীকে আটকে রেখে প্রায় ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছিলেন। তার স্বজনরাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। তিনি বিভিন্ন লোককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করতেন বলে তথ্য বেরিয়ে আসছে। জানা গেছে, পুলিশের এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেল নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও এলাকার লোকজন জানার পরও কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। তিনি বন্দরের রূপালী আবাসিক এলাকার সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী কামরুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে থাকেন। বন্দর থানা থেকে বদলি হয়ে কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় যোগদান করেন তিনি। এএসআই রুবেলের বন্দরের ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার জিয়াউল জানান, প্রায় সময় এএসআই রুবেল বিভিন্ন ধরনের লোকজনকে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় আটক করে এনে ফ্ল্যাটে রাখতেন। ওনাকে জিজ্ঞেস করলে কিছুই বলতেন না। নারায়ণগঞ্জ ডিবির ওসি মাহাবুবুর রহমান ও বন্দর থানার ওসি শাহীন মন্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্তব্যরত অবস্থায় এএসআই রুবেলের পকেট থেকে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা জানান, এরপর তার স্বীকারোক্তিতে বন্দর থানায় রূপালী আবাসিক এলাকাতে ভাড়া ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরো ৪৫ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার পকেট থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সিনিয়ার অফিসারদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। এ ব্যাপারে পরে ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে জানান ওসি।

সারা দেশ পাতার আরো খবর