শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০
প্রকাশ : 2020-03-22

মানুষ নয়, মনুষ্যত্বের মৃত্যুতে দু:খ হয়

২২মার্চ,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: দর্শন মানে দেখা, দেখলে দার্শনিক হয় না। কোপালের চোখ দিয়ে দেখার নাম দর্শন নয়, অন্তরের চোখ দিয়ে দেখলে দার্শনিক হয়। এই পৃথিবীতে কোন কিছুই স্থায়ী নয়। কোন জিনিসের সৃষ্টি হলে তার ধ্বংস হবেই - সেই কারণে পৃথিবীর উন্নত জীব মানুষ মরণশীল । মৃত্যু স্বাভাবিক - তাই মৃত্যুতে কোন দুঃখ নেই। কিন্তু এই মানুষের মধ্যে মুল্যবান জিনিস হল মনুষ্যত্ব - যার জন্য সে অন্নান্য প্রাণীর চেয়ে উন্নত। এই মনুষ্যত্ব যখন সে হারিয়ে ফেলে তখন সে পরিনত হয় হিংস্র পশুতে। প্রবাদ আছে, মানুষের জন্ম শিশু, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আদর্শ চেতন যিশু না হয় পশু। কবি কাজী নজরুল ইসলাম লেখেছেন- শুন আমরা বৃদ্ধি পাচ্ছি গরু-ছাগলের মত। কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ বলেছেন, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ জানে না তারা মানুষ, জানলে অমানুষের কাজ করতো না। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, আমি মানুষের মৃত্যুতে দুঃখ পাই না মনুষ্যত্বের মৃত্যুতে দুঃখ পাই। মানুষের মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা কিন্তু মনুষ্যত্বের নয়। পশুর গর্ভে পশুর জন্ম হয়, বৃক্ষের জন্ম বৃক্ষে, কিন্তু মানুষের গর্ভে মানুষ হয় না। মানুষ মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়। পশুকে পশু হওয়ার, বৃক্ষকে বৃক্ষ হওয়ার আহ্বান জানানো হয় না, শুধু মানুষকেই মানুষ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। যে ব্যক্তি মানুষ ও অমানুষের পার্থক্য বুঝেনা সে প্রকৃত মানুষ নয়। মানুষ ও অমানুষের পার্থক্য বুঝতে লাগে পরিশুদ্ধ হৃদয়। পশুকে অপশু বলে কেউ সম্বোধন করে না, কিন্তু আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হয়ে যখন পশুর কাজ করে তখন তাকে বলে অমানুষ। কোন মানুষের মনুষ্যত্ব এর মৃত্যু হলে প্রত্যক্ষ না হোক, পরোক্ষ ভাবে সেই মানুষের মৃত্যু হয়। যে মানুষ তার মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে সে গভীর অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যায় এবং তার মৃত্যুর পর পৃথিবীর কেউ আর তাকে মনে রাখে না। আর যে মানুষের মনুষ্যত্ব বেঁচে থাকে, সে দেশের কল্যানে কিছু করে, তাই সে পৃথিবীর মানুষের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। হয়তো তার নশ্বর দেহের পরিসমাপ্তি ঘটে, কিন্তু তার কৃতিত্বের পরিসমাপ্তি ঘটে না, যার জন্য সে অমর হয়ে থাকে।লেখকঃ মো. ইরফান চৌধুরী,প্রচার ও প্রকাশনা সচিব(এমজেএফ), চট্টগ্রাম মহানগর,ব্লগার ও সোশ্যাল এওয়ারন্যাস ওয়ার্কার,প্রাবন্ধিক ও (ছাত্র)।