প্রকাশ : 2020-03-25

চট্টগ্রামে হোম কোয়ারেন্টিনে শিক্ষা বোর্ডের ৩ কর্মকর্তা

২৫মার্চ,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্ত্তী নিজেই। তিনি জানান, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে গত ২২ মার্চ কক্সবাজারের ১২ জন কেন্দ্র প্রধানদের সঙ্গে আমরা একটি বৈঠক করি। হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ জীবাণুনাশক সামগ্রী দিয়ে হাত পরিষ্কার করে বোর্ডে সবাইকে প্রবেশ করানো হয়।তিনি আরও জানান, অন্য কেন্দ্র প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষও। তবে তার মা যে এর কয়েকদিন আগে সৌদিআরব থেকে ফিরেছেন, তিনি মায়ের সঙ্গে দেখা করার পরেও হোম কোয়ারেন্টিন পালন না করে যে বৈঠকে এসেছেন,তা গোপন করেন।বুধবার বিষয়টি জানাজানির পর ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিন পালনের অনুরোধ জানিয়েছি। আমি নিজেও হোম কোয়ারেন্টিন পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, বোর্ড কর্মকর্তাদের আতঙ্ক বা শঙ্কার কিছু নেই। ওই বৈঠকে আমরা সবাই নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে বসেছি। সবাই জীবাণুনাশক সামগ্রী দিয়ে হাত পরিষ্কার করেছি। আক্রান্ত ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার পরেও কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি।তারপরেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে নিজেকে, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। যোগ করেন তিনি।এদিকে তথ্য গোপন করে বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জানান, সৌদি ফেরত মায়ের সঙ্গে দেখা করলেও তার সংস্পর্শে যাইনি আমি। মঙ্গলবার সকালে মায়ের করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর আমি নিজেই হোম কোয়ারেন্টিন পালন করছি।প্রসঙ্গত, কক্সবাজার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের মা কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার বাসিন্দা ওই নারী গত ১৩ মার্চ ওমরাহ শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তিনি নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় তার এক ছেলের বাসায় ওঠেন। পরে ১৪ মার্চ চকরিয়ার খুটাখালীতে গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার অসুস্থতার ধরন দেখে নমুনা পরীক্ষার জন্য ২২ মার্চ রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠায়। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ওই নারীর করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট পজেটিভ আসে।এ খবরে মঙ্গলবার রাতে নগরের চান্দগাঁও এবং বাকলিয়া এলাকায় ওই নারীর দুই সন্তানের বাড়ি লকডাউন করে প্রশাসন। কক্সবাজারের বাড়িও লকডাউন করা হয়। পাশাপাশি তাকে সেবা দেওয়া চিকিৎসক, নার্স এবং সংস্পর্শে আসা পরিবারের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। খবর:আমাদের সময়.কম

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর