প্রকাশ : 2020-04-01

চট্টগ্রামে ত্রাণ নিয়ে টালবাহানা

0১এপ্রিল,বুধবার,কমল চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের এই সংকটময় অবস্থায় অসহায় পরিবারের মানুষরা সরকার ও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে আছেন কিছু সাহায্য সহযোগীতার জন্য। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য পাঠানো হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেকে মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে সামান্য কিছু ত্রাণ হাতে ধরিয়ে দিয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে হেয় প্রতিপন্ন করছেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। উক্ত ত্রাণ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র যে ত্রাণ সহযোগিতা দিচ্ছেন তা অসহায় ব্যক্তিরা নিয়মিত পেলেও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ৪১ টি ওয়ার্ডে যে ত্রাণ সাহায্য পাঠিয়েছেন তা নিয়ে টালবাহানা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগ গ্রাম এলাকায় চেয়্যারম্যান ও মেম্বারদের বেলায় ও। জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে গৃহিত কর্মসূচী (এলআইইউপিসি) প্রকল্পের আওতায় ২১ টি ওয়ার্ড ও চসিকের পক্ষ থেকে বাকি ২০ টি ওয়ার্ডে বরাদ্দ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নগরীর ১ লাখ ১৪ হাজার পরিবারের মাঝে সাবান, বালতি, মাস্ক ৮৪ হাজার স্যানিটাইজার বিতরণসহ ৩৮৪ টি স্পটে হাত ধোয়ার কল স্থাপন হবে। সূত্রে আরো জানা যায় সরকারি ভাবে প্রাপ্ত ২০ মেট্রিকটন চাল চসিকের পক্ষ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪৮৮ কেজি চাল ও ১০০ কেজি ডাল নগরবাসির মাঝে বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কঠোর বার্তা দেওয়ার পরেও ত্রাণ নিয়ে টালবাহানা বন্ধ হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু বক্কর নিউজ একাত্তর কে বলেন, শুনেছি আমাদের জন্য সাহায্য এসেছে কিন্তু চোখে দেখি নাই। ০৯ নং ওয়ার্ডের আব্দুল করিম বলেন, এই ওয়ার্ডে এখনো পর্যন্ত কনো সাহায্য এসেছে বলে শুনিও নাই। ১০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, বর্তমান কাউন্সিলর তার পরিচিত কয়েকজনকে সাহায্য দিলেও অত্র এলাকায় অনেক অসহায় ব্যক্তি অনাহারে দিন কাঠাচ্ছেন। চান্দগাঁও ওয়ার্ডের সাগরিকা সরকার নামের এক মহিলা অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ২ কেজি চাউল হাতে ধরিয়ে দিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে ফেইসবুকে ছেড়ে দিলো যা আমার জন্য লজ্জাজনক। একই অভিযোগ ইপিজেড এলাকার আবুল খায়েরের। এ চিত্র শুধু চট্টগ্রাম মহানগরীতে নই, গ্রামের ইউনিয়ন পর্যায় ও এই ত্রাণ নিয়ে টালবাহানার কমতি নেই। উক্ত বিষয়ে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার স্বর্থে বলেন, এই ধরনের বেশ কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি ওয়ার্ড পর্যায়ে যে জনপ্রতিনিধিরা এই ধরনের কাজে যুক্ত থাকবেন তাদের তালিকা করে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে অচিরেই পাঠানো হবে। অনেকে মত দিয়েছেন যে, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তালিকা করে ঘরে ঘরে ত্রাণ দিলে আর বিশৃঙ্খলা হবে না।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর