প্রকাশ : 2020-04-08

অলিগলিতে আড্ডাবাজি ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাঁড়াশি অভিযান,২৯ মামলায় ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

0৮এপ্রিল,বুধবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ,বাজার মনিটরিং ও অলিতে গলিতে আড্ডাবাজি ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী যৌথ ভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। আজকের এ অভিযানের ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আজকে ঘরের বাইরে লোকজনের যাতায়াতের প্রবণতা অনেকটাই কমেছে বলে মনে করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ । বুধবার ৮ মার্চ সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত চলা অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা খুলশী, চান্দগাও, বায়েজিদ, পাচলাইশ, চকবাজার, পাহাড়তলি, আকবর শাহ, পতেঙ্গা, লালখান বাজার মোড়, জিইসি মোড়, বন্দর এলাকা, হালিশহর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিকে সরকারি আদেশ অমান্য করে বিনা কারণে ঘরের বাইরে ঘুরাঘুরি করার দায়ে, সরকারি আদেশ অমান্য করে জরুরি সেবা ও পণ্য ব্যতীত অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখার কারণ, অলিগলিতে বিভিন্ন স্থানে আড্ডাবাজি বসানোর দায়ে, বিনা প্রয়োজনে গাড়ি, মোটরবাইকে যাতায়াত করায় ম্যাজিস্ট্রেটগণ এর পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মোট ২৯ টি মামলায় ২৯ জন ব্যক্তি/ দোকান/প্রতিষ্ঠানকে সরকারি আদেশ ও রাষ্ট্রীয় আইন ভঙ্গ করেছেন তাদের সামর্থ্য বিবেচনায় রেখে আজকের যৌথ অভিযানে মোট ৯০,৩০০ (নব্বই হাজার তিনশত) টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাহাড়তলী, আকবর শাহ, হালিশহর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুদ রানা। তিনি ৭টি মামলায় মোট ১২,০০০(বারো হাজার টাকা) জড়িমানা করেন। এর মধ্যে সরকারি আদেশ অমান্য করে হার্ডওয়্যার এর ৫ টি দোকান খোলা রাখায় প্রত্যেক দোকানকে ১,০০০( এক হাজার) করে জরিমানা করা হয়। ১টি হোটেলে লোক সমাগম ঘটিয়ে খোলা রাখায় ,১,০০০( এস হাজার) ও ১টি ইলেকট্রনিকস এর দোকান ১০০০ (এক হাজার) টাকা জরিমানা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হাসান অভিযান চালান বাকলিয়া, পাচলাইশ, খুলশী, চান্দগাও এলাকায়। এসময় তিনি ৩ টি স্যানিটারি আইটেম ও হার্ডওয়্যার দোকান খোলা রাখায় ৩১০০০(একত্রিশ হাজার) টাকা, একটি কম্পিউটার শপকে ৪০০(চারশত) টাকা এবং ওজনে কম দেয়ায় একটি মাংসের দোকানকে ৫০০০( পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা করেন। উক্ত এলাকা সমূহে ঔষধের দোকানে স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভসের দাম বেশি রাখা হচ্ছে কিনা সেটিও মনিটরিং করা হয়। অভিযানে মোট ৫ মামলায় ৩৬,৪০০( ছত্রিশ হাজার চারশত) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা আফরোজ অভিজান চালায় চকবাজার,বায়েজিদ, সদরঘাট ও কোতোয়ালি এলাকায়। এসময় ৭ টি মামলায় মোট ২৬,১০০(ছাব্বিশ হাজার এক শত) টাকা জরিমানা করেন। এর মধ্যে বাজার মনিটরিং এ ২ মামলায় ২ টি প্রতিষ্ঠান কে ১৮৫০০টাকা এবং সামাজিক দূরত্ব না বজায় রাখায় ৫ ব্যক্তিকে ৭৬০০ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার অভিযান চালায় ডবলমুরিং, বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা থানাধীন এলাকায়। অভিযান চলাকালে তিনি ১০ টি মামলায় ১৫,৮০০(পনের হাজার আটশত) টাকা জরিমানা করেন। এছাড়াও বর্তমানে আরো ৬ টি মোবাইল কোর্ট চলমান রয়েছে যা রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর