মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮
প্রকাশ : 2018-03-14

নেপালে গিয়ে বিড়ম্বনায় স্বজনরা

ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের খোঁজ নিতে গিয়ে নেপালে বিড়ম্বনায় পড়েছেন স্বজনরা। লাশ শনাক্ত তো দূরে কথা দেখতে দেয়া হচ্ছে না আহতদেরও। এতে শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি যন্ত্রণা। তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়েছেন যত দ্রুত সম্ভব লাশ শনাক্ত এবং আহতদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করার ব্যবস্থা করবেন তারা। ইউএস বাংলা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সিভিল এভিয়েশন, কোন সংস্থার তথ্যই যখন স্বজনহারা মানুষগুলোকে নির্ভার করতে পারেনি ঠিক তখনই নিজ চোখে স্বজনের অবস্থা দেখতে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দুর্ঘটনাস্থল নেপালে পৌঁছান ৪৬ জন হতভাগা মানুষ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় নেপালে পৌঁছালেও শেষ হয়নি অপেক্ষার। নেপাল কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে এখনো অনিশ্চয়তায় তারা। জানেন না কেমন আছে প্রিয় মানুষগুলো। আদৌ কি বেঁচে আছেন। বিমানে থাকা এক যাত্রীর স্বজন বলেন, 'জানি না কি অবস্থা। সবাই বলছে, মিসিং মিসিং। এখানে আসার পরে শুনলাম যে, বাই পুড়ে গেছে। খুব মর্মান্তিক অবস্থা। কাউকে দেখতে দিচ্ছে না। ওরা আরও চার-পাঁচ দিন সময় নিবে। এতো দিন এখানে থাকা তো আমাদের জন্য কঠিন। বাংলাদেশে মানুষ অপেক্ষা করছে। তারা জানতে চাচ্ছে, দেখেছি কিনা বা জীবিত আছে কিনা। আমরা তো কোন কিছুই বলতে পারছি না।' অপর একজন বলেন, 'হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ দেখতে দিচ্ছে না। এটাই আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। ওরা অনেক লম্বা প্রক্রিয়ার কথা বলছে। আমাদের দূতাবাস চেষ্টা করছে যাতে দেখানো যায়।' দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশী অ্যাম্বাসেডর মাশফি বিনতে শামস বলছেন, তারা চেষ্টা করছেন জটিলতা কমিয়ে এনে স্বজনদের কে আহতদের সঙ্গে দেখা করানোর ব্যবস্থা করতে। আর যারা মারা গেছেন তাদেরও লাশ দেখানোরও চেষ্টা করছেন তারা। তিনি বলেন, 'এই মাত্রই জানতে পারলাম এই সমস্যাটার কথা। কারণ, সকাল থেকেই তো আমাদের অফিসার ছিলেন সেখানে। ওরা তখন বলে নাই। আমরা যখন স্বজনদের নিয়ে গেছি তখন বলছে। আমরা অবশ্যই মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করবো। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো সবাই যেনো তাদের স্বজনদের খুঁজে পান।' সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর