রবিবার, জুলাই ৫, ২০২০
প্রকাশ : 2020-04-22

অবিলম্বে ইতিহাসের নায়ক যত্রীন্দ্র সেন গুপ্তের পরিবারের মুল্যায়ন করার দাবী জানাচ্ছি

২২এপ্রিল,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: বীর মুক্তিযোদ্ধার গায়ে পোশাক থাকে না। অথচ রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা উড়ে,তাদের সন্তানরাও এমপি-মন্ত্রী হয়।।। পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির নাম মিলন সেনগুপ্ত। পরার মতো একটি মাত্র জামা আছে তাঁর। সেইদিন ধুয়ে দিয়েছিলেন। তাই খালি গায়ে রয়েছেন তিনি। শুকানোর আগ পর্যন্ত এভাবেই থাকতে হবে তাঁকে। মিলন সেনগুপ্ত সাধারণ কোনো পরিবারের মানুষ নন, চট্টগ্রামের কীর্তিমান পুরুষ, উপমহাদেশের বিখ্যাত বাঙালি আইনজীবী, রাজনীতিক ও সমাজকর্মী যাত্রামোহন সেনগুপ্ত এর একমাত্র বংশধর। টলমটল চোখে তাকিয়ে থাকা মিলন সেনগুপ্ত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন জীবনের মুল্যবান সময় নষ্ট করে যুদ্ধ করে কিন্তু স্বীকৃতি পাননি।শেষ দিনগুলো তাঁর কেমন যাচ্ছে সহজে অনুমান করা যায়।যা বললে খুব বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক লাগবে। তবুও জীবনের মত জীবন সংগ্রাম চলছে।তার এক একটা দিন খুবই মর্মাহত। চলমান করোনা দুর্যোগের কারণে চট্রগ্রামের চন্দনাইশ থানার ওসি তাঁর বাড়িতে গিয়ে এই অবস্থার কথা জানান। তিনি এই মহান মুক্তিযোদ্ধাকে কিছু উপহার সামগ্রীও প্রধান করেন।যা অত্যন্ত আনন্দদায়ক সেজন্য স্যালুট পুলিশ। কিন্তু এই এলাকার এমপি,উপজেলা চেয়ারম্যান,মেয়র,চেয়ারম্যান ও মেম্বারগুলো কি সব মরে গেছে? ইতিহাসের অংশ তাঁর পূর্বপুরুষ যাত্রামোহন সেন (জেএম সেন) যিনি প্রতিষ্ঠা করেন চট্টগ্রাম শহরে টাউন হল (জেএম সেন হল) ডাঃ খাস্তগীর মাধ্যমিক বালিকা স্কুলসহ অনেক শিক্ষা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, মন্দির এমনকি নূর মহম্মদ তরফ নামে মসজিদের ভূমিও দান করেছিলেন। জেএম সেনের পুত্র দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ছিলেন আরেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। যিনি প্রথম সারির কংগ্রেস নেতা ও ব্যারিস্টার। যিনি উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সশস্ত্র বিপ্লবীদের সাথে লড়াই করেছেন।জেল খেটে মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের স্ত্রী ভিনদেশী নেলি গ্রে (নেলি সেনগুপ্ত) ছিলেন আরেক বিখ্যাত মানুষ রাজনীতিক ও সমাজকর্মী। তিনিও হেঁটেছিলেন স্বামীর পথ ধরে।ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভানেত্রী হয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক মানবিক বরমার সেন পরিবারের মানুষ উপমহাদেশের রাজনৈকিত সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং শিক্ষাবিস্তারে যে অবদান রেখে গেছেন তা ইতিহাসের অংশ। আজীবন মানুষ তাদেরকে স্মরণ করে রাখবে। সেই ইতিহাসের কথা ভুলার নয়।বই পুস্তকে লিপিবদ্ধ আছেন।যা আমাদের জন্য শিক্ষনীয়। ইতিহাস হচ্ছে বড়ই নিষ্ঠুর আর খামখেয়ালি।তাদের অনেক সম্পদ রয়েছে কিন্তু শুনেছি তাদের অবশিষ্ঠ সব সম্পদ বেদখল হয়ে গেছে।এলাকার প্রভাবশালী লোকেরা তা দখল করে আছে যা আমাদের জন্য লজ্জার।এই লজ্জা রাষ্ট্র,সমাজ, সভ্যতার,আমাদের সবার।যা আমাদের কাছে দায়বদ্ধতা থেকে যায়।আমরা যত্রীন্দ্র সেন গুপ্তের পরিবারের জন্য কিছুই করতে পারিনি। সবকিছু চিন্তাভাবনা করলে দেখতে পাব আসলে সত্যে একদিন বেরিয়ে এসেছে। এ সত্যের জন্য আমাদের রাজনীতি করি আর সমাজের অসংগতি গুলো তুলে ধরে যত্রীন্দ্র সেন গুপ্তের পরিবারের জন্য কিছুই করার জন্য সরকারের প্রতি দষ্টি আকর্ষণ করছি। অবশ্য তার পরিবারের সব সুযোগ সুবিধা ও জায়গা সম্পত্তি উদ্ধার করে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। তাহলে যত্রীন্দ্র সেন গুপ্তের আক্ত্বা শান্তি পাবে।লেখক -তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর