ব্রেকিং নিউজ


add_27
রোজা কেবলই আল্লাহর জন্য

০২ এপ্রিল ২০২২,ডেস্ক রিপোর্ট, নিউজ একাত্তর ডট কম :রোজা এমন এক ইবাদত যার প্রতিদান ফেরেশতারা লিখতে অপারগ। কলমের কালি যার হিসাব লিখতে অক্ষম। রোজার প্রতিদান নিয়ে ভাবনা সাধ্য কার! মহান রবের বিশালতার সাথে রোজার প্রতিদানও মিশে আছে। রোজা একমাত্র মহান রবের জন্য। মহান আল্লাহ নিজ হাতে তার প্রতিদান দেবেন। এমন বরকতময় রমজান প্রতিবার আমাদের কাছে আসে মাস পেরিয়ে আবার সে এক বছরের জন্য বিদায় নেয়। এভাবে আমাদের জীবনে অনেক রমজান পেরিয়ে আমরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ি। পৃথিবীর সব আমল শেষ হয়ে যায়। শুরু হয় তার ফল লাভ, তার প্রাপ্তি, তার পুরস্কার। পুরো মাস আমার আত্মার চিকিৎসা করলাম। কিন্তু আত্মার রোগ বালাই দূর হলো না। আমার আত্মা পরিশুদ্ধ হলো না। আমার মাওলা আমাকে আত্মশুদ্ধির জন্য ঠিকই প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন। কিন্তু আমি ওষুধ সেবনে ভুল করে চলছি, নিয়মিত, নিয়মমতো ওষুধ সেবনে আমার যথেষ্ট খামখেয়ালি রয়েছে। তাই আমার রোগ ভালো তো হয়ই না উল্টো অনেক সময় রোগ আরো বেড়ে যায়। আসুন আমার অবস্থা আমি নিজে যাচাই করি, নিজেকে একট ঝালাই করে নেই, নিজেকে একটু যাচাই করি- রমজান সংযম, না কি অপচয়ের মাস : রোজাকে আমরা সবাই সংযমের মাস বলি। আসলে রোজা সংযমের মাস। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায় রোজাকে আমরা অপচয়ের মাস বানিয়ে নিয়েছি। রমজান এক উৎসবের মাসে রূপ নিয়েছে। এই মাসে খরচ বেশি। এই মাসে বাজার বেশি। রোজার মাসে আমরা সবচেয়ে বেশি খাবার খাই। সবচেয়ে বেশি খাবার নষ্ট করি। ইফতারি আর সাহরিতে এত আইটেম আর এত খাবার তৈরি হয়, যা আমরা প্রচুর খেয়েও শেষ করতে পারি না। অনেক খাবার নষ্ট হয়। অপর দিকে, অনেক মানুষ এমন আছে না খেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে তাদের খবর রাখারও সুযোগ হচ্ছে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অপচয়কারীকে ভালোবাসেন না। কেননা অপচয়কারী শয়তানের ভাই। শয়তানের ভাই সেজে আমি কিভাবে মাওলার প্রিয় হতে পারি? বেশি খাওয়া নয়। অপচয় নয়। তবেই রমজান হবে সংযমের মাস। এটি কি খেলাধুলার মাস : রমজানে একটি নফল আদায় করলে অন্য মাসের একটি ফরজ আদায়ের সওয়াব পাওয়া যায়। একটি ফরজ আদায় করলে অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায়ের সওয়াব পাওয়া যায়। এই মাসে যত বেশি ইবাদত করা যাবে ততই বেশি লাভ হবে। কিন্তু আমরা রমজানকে আমোদ প্রমোদ, বিনোদন আর খেলার মাস বানিয়ে নিয়েছি। সময় কাটানোর জন্য আমরা ক্রিকেট খেলা দেখাসহ আরো বিভিন্ন খেলায় লিপ্ত থাকি। রমজানকে খেলার মাস বানিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা করা কি কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে? এটি কি পাপপূর্ণ বিনোদনের মাস : রমজান মাসে অন্য মাসের তুলনায় একটু অবসর বেশি। অফিস সময় কম। ব্যবসায় সময় কম। এই অবসর সময়কে নিয়ামত মনে না করে কষ্টকর মনে করি। তাই এই সময় কাটানোর জন্য টিভি দেখা, ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচলিত পাপপূর্ণ বিনোদনে মত্ত হই। আমার উচিত ছিল, এই অবসর সময়ে ইবাদতের মিষ্টতা গ্রহণ করা। এটি কি অন্যের কষ্ট বাড়ানোর মাস : রমজান মাস অন্যের কষ্ট অনুধাবন করার মাস। অন্যের কষ্ট দূর করার মাস। কিন্তু রমজান মাসে আমার ইফতার সাহরিতে এত বেশি আইটেম থাকতে হয় যে, ঘরের মা, বোন, স্ত্রী, মেয়ে তাদের সারাদিন এই রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তারা কোনো ইবাদতের সুযোগ পান না। তার পরও আমার মন ভরে না। আমরা তাদের কষ্ট কমাতে পারি। এতে তাদেরও লাভ হয়। আমারও লাভ হয়। রমজান দানের মাস নাকি বেশি লাভ করার মাস : রমজান মাস দানের মাস। রাসূলুল্লাহ সা: এই মাসে সবচেয়ে বেশি দান করতেন। তিনি প্রবাহিত বায়ুর চেয়ে আরো বেশি প্রসারিত, মুক্ত হস্তে দান করতেন। এই মাসে সব ভালো কাজেই বেশি সওয়াব। কিন্তু আমরা দানের পরিবর্তে এই মাসকে ব্যবসায় বেশি লাভের মাস বানিয়ে নিয়েছি। একটু ভাবুন তো, এ অবস্থায় আমি কিভাবে রমজানের বরকত লাভে ধন্য হতে পারি! রমজান অন্যের কষ্ট বোঝার মাস নাকি ঘুমানোর মাস : রমজান গরিবের ক্ষুধার জ্বালা, অনাহারের কষ্ট বোঝার মাস। কিন্তু আমি যদি সারাদিন ঘুমিয়ে কাটাই তবে আমার পক্ষে তাদের কষ্ট বুঝা সম্ভব হবে? কোনোভাবেই না। আমরা অনেকেই রমজানের অবসর ঘুমিয়ে কাটাই। অন্যের কষ্ট অনুধাবন করতে হলে আমাকে অবশ্যই দিনের ঘুম ছেড়ে দিতে হবে। ক্ষুধার কষ্ট অনুধাবন করার চেষ্টা করতে হবে। রমজান কাজের মাস নাকি ফাঁকি দেয়ার মাস : আল্লাহর প্রিয় বান্দাহগণ কর্মীদেরকে কাজ কমিে দেন। আমাদের দেশে রমজানে অফিস সময়ও কম। কিন্তু এই অফিস সময়ের মধ্যে আমরা অনেকেই রোজার দোহাই দিয়ে আরো কাজ কম করতে চাই। রমজানের কষ্ট বলে চালিয়ে দেই। একটু লক্ষ করলে দেখতে পাই, রমজান সবচেয়ে বেশি কষ্ট করার মাস। এই মাসে রাসূলুল্লাহ সা:-এর নেতৃত্বে মুসলমানদের প্রথম যুদ্ধ বদরের বিজয় অর্জিত হয়েছে। এই মাসেই ইসলামের চূড়ান্ত বিজয় মক্কা বিজয় সাধিত হয়েছে। এই মাসে মহাবীর তারিক বিন জিয়াদ রাহ:-এর নেতৃত্বে স্পেনের মাটিতে কালিমার বিজয় পতাকা পতপত করে উড্ডীন হয়েছে। এই বরকতময় মাসে মুহাম্মদ বিন কাসিম রাহ: আমাদের এই প্রিয় ভারত ভূমি জয় করেছেন। তাই এই মাস কাজ কম করার মাস নয়। গল্প নয় কুরআন পড়ার মাস রমজান: আমরা সবাই জানি রমজান কুরআনের মাস। এই কুরআনের কারণেই রোজার মাসের এত সম্মান এত মর্যাদা। এই রমজানে কি আমি কুরআনকে আপন করে নেই? আমি কি কুরআনের সাথে কথা বলি? আমি কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে আলাপন করি। আমার ভাব, চাওয়া-পাওয়া, আকুতি-কাকুতি নিবিড়ভাবে মাওলার সাথে আদান-প্রদান করি। হ্যাঁ, সারা বছর কুরআনের সাথে না থাকলেও বেশি সওয়াবের আশায় কুরআন কিছুটা হলেও তিলাওয়াত করি। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কুরআনের দাবি এটা নয় যে, আমি বেশি সওয়াব পাবো এ জন্য কুরআন তিলাওয়াত করি। বরং আমার উচিত বছরের প্রতিটি দিনকে কুরআনের সংস্পর্শে বরকতময় করে তোলা।

add_28

নিউজটি শেয়ার করুন

Facebook
এ জাতীয় আরো খবর..
add_29
সর্বশেষ আপডেট
জনপ্রিয় সংবাদ

add_30
add_31
add_32

সংবাদ শিরোনাম ::