ব্রেকিং নিউজ


add_27
রেল বিমান ও সড়ক যোগাযোগ খাত থেকে কালোবিড়াল তাড়াতে হবে

১১ মে ২০২২, নিউজ একাত্তর ডট কম, জামালউদ্দিন বারীঃ দেশ থেকে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা পাচার, ব্যাংক জালিয়াতি, দুর্নীতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দখলবাজি, লুন্ঠন, কালোবাজারি, অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি, সামাজিক-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, যুবসমাজের মাদকাসক্তি-অপরাধপ্রবণতা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মানহীনতা, পরিবেশ দূষণের মত মৌলিক সামাজিক-রাষ্ট্রীয় ইস্যুগুলো পাশ কাটিয়ে গত এক দশক ধরে সরকারের পক্ষ থেকে শুধু উন্নয়নের গলাবাজি শোনা যাচ্ছে। প্রায় দেড়কোটি প্রবাসী কর্মীর পাঠানো রেমিটেন্স এবং হাজার হাজার গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির উদ্যোক্তা শ্রমিকের ঘাম ঝরানো রফতানি আয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের বদলে একটি প্রভাবশালী মহলের আল্ট্রাধনীতে পরিনত হওয়া নিশ্চিত করছে। দেশ থেকে প্রতিবছর লক্ষকোটি টাকা পাচার হয়ে যাওয়ার তথ্য কোনো আকষ্মিক নতুন তথ্য নয়। এটা বন্ধ করার গরজ বা সক্ষমতা সরকারের থাকলে এতদিনে হয়তো তা অনেকটা কমে আসত। মানিলন্ডারিংয়ের আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ ৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান। একদিকে দেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষকোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে উচ্চাভিলাষী জাতীয় বাজেটের ব্যয় সংস্থান করতে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে থেকে সরকারকে লক্ষকোটি টাকা ঋণ নিতে হচ্ছে। এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে দেশের নাগরিকদের উপর মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের বোঝা ২০ গুণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে বৈদেশিক ঋণের পরিমান ৪,৯১০ কোটি টাকা থেকে ২০২২ সালে তা ৯৭,৭৪০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। জনগণের রাজস্ব ও বৈদেশিক ঋণের উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশই দুর্নীতি-অনিয়ম-লুটপাট, কমিশন ও ভাগাভাগির মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী গোষ্টির বিদেশি ব্যাংকের একাউন্টে চলে যাচ্ছে। প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের বৃহত্তম একক বরাদ্দ চলে যাচ্ছে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। যোগাযোগ অবকাঠামো খাত, সড়কপথের উন্নয়ন, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা ব্যয় এবং জাতীয় পতাকাবাহী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এভিয়েশন কোম্পানি বাংলাদেশ বিমানের ভর্তুকি ও লোকসানের নামে বছরের পর বছর ধরে জনগণের সম্পদ বেহাত হয়ে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে রেলওয়েতে বিপুল পরিমান উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়া হলেও রেলখাতে লোকসান হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ খাতের প্রত্যাশিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০১২ সালে সরকার রেল মন্ত্রনালয় গঠন করে আওয়ামীলীগের তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেন গুপ্তকে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর রেলের দুর্নীতি বন্ধের ব্যাপারে তাঁকে বেশ উচ্চকণ্ঠে কথা বলতে শোনা গেছে। রেলের কালোবিড়াল ধরতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই কালোবিড়াল হয়ে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। রেল মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে চারমাসের মাথায় ২০১২ সালে ৯ এপ্রিল সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের এপিএসসহ রেলের একজন কর্মকর্তা ৭০ লাখ নগদ টাকাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিল। মন্ত্রনালয়ের গাড়ীর ড্রাইভার টাকাসহ পিলখানার ভেতর ঢুকে পড়া এবং গাড়ীচালকের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার সেই ঘটনাটি ছিল রহস্যজনক। রেলে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসানের পেছনে এ খাতের রাঘব বোয়াল-আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দুর্নীতি লুটপাটের তুলনায় ৭০ লাখ টাকা খুব বড় অংক নয়। ঘটনার দায় মাথায় নিয়ে সুরঞ্জিত সেনের পদত্যাগ তার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ভাবমর্যাদার জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখা যেতে পারে। পদত্যাগের একদশক এবং সুরঞ্জিত সেনের মৃত্যুর ৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও রেলের সেই টাকার রহস্য ও দুর্নীতি মামলার নিস্পত্তি এখনো হয়নি। এরপর রেলমন্ত্রনালয়ের দ্বিতীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুল হক মুজিব। অকৃতদার মুজিব মন্ত্রী হওয়ার পর ৬৭ বছর বয়েসে হনুফা বেগমকে বিয়ে করে দেশে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন তুলেছিলেন। এরপর ৬৯ বছরে প্রথম কন্যা সন্তানের বাবা হওয়া এবং দ্বিতীয়বারে জমজ পুত্র সন্তানের বাবা হয়ে আলোচনায় আসেন মুজিবুল হক। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রেলপথ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম সুজনকে। তিনিও রেলমন্ত্রী হওয়ার পর ২০২১ সালে ৬৫ বছর বয়েসে বিয়ে করে দেশে আলোড়ন তুলেছিলেন। গত ঈদের পর রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়রা রেলে বিনা টিকেটে ভিআইপি ক্যাবিনে ভ্রমণ করতে গিয়ে একজন টিটিই’র হাতে জরিমানার শিকার হওয়ার পর সেই টিটিকে তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক অর্ডারে বরখাস্তের ঘটনায় রেলমন্ত্রী ও তার স্ত্রী শাম্মি আক্তার আবারো গণমাধ্যমের শীর্ষ সংবাদে পরিনত হয়েছেন। রেলের কালোবিড়াল সম্পর্কীত আলোচনায় আবারো রেলমন্ত্রী ও কতিপয় আমলা-কর্মকর্তার নাম উঠে আসার পর মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন অনেকে। গত মাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি বিশ্ব সংবাদ হচ্ছে, করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা অমান্য করায় বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং জনসনের স্ত্রীকে অর্থদণ্ড জরিমানা দিতে হয়েছে। জরিমানা দিয়ে তারা পার্লামেন্টের জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তারা পদত্যাগ না করায় বৃটিশদের মধ্যে ক্ষোভের কথাও জানা গেছে। বিপরীতে বাংলাদেশে বছরে হাজার কোটি টাকা লোকসান দেয়া রেলে একজন মন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়দের রেলের আইন ভঙ্গ করে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার শাস্তি হিসেবে জরিমানা আদায় করে ভিআইপি ক্যাবিন থেকে শোভন শ্রেণীতে পাঠিয়ে দেয়ার কারণে টিটি শফিকুল ইসলামকে চলতি পথে বরখাস্তের আদেশ জারি করেছে রেলের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগের কর্তৃপক্ষ। এরপর গত কয়েকদিনে রেলমন্ত্রীর বিতর্কিত কথাবার্তাগুলোকে সাংঘর্ষিক ও মিথ্যাচার বললে অত্যুক্তি হবে? ব্যাপক সমালোচনার মুখে রেলের টিটিই’র বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হলেও এ প্রসঙ্গে রেলের কালোবিড়ালের গোফগুলো অনেকটা আবারো দেখা গেছে। যেখানে বছরে হাজার কোটি টাকা লোকসানি রেলে বিনা টিকেটে ভ্রমণের শাস্তির বিধান জোরদার হওয়ার কথা, সেখানে মন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়দের জরিমানা করায় কোনো প্রকার প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই একজন টিটিই কে সাসপেন্ড করার সাথে যারা জড়িত তারাই রেলের কালো বিড়াল। যদিও মন্ত্রীর অজান্তে এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই। বিনা টিকিটে ভ্রমণ তথা রেলের আইন ভঙ্গের জরিমানা ও শাস্তি নিশ্চিত করতে মন্ত্রীর আত্মীয়দের সাথে আপস না করা টিটিইকে পুরস্কৃত করার বদলে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাকে বরখাস্তের ঘটনা থেকেই প্রমানিত হয় রেলের ক্রমবর্ধমান লোকসান ও অব্যবস্থাপনার জন্য কারা দায়ী। শিল্প বিপ্লবের পর পশ্চিমা দুনিয়ায় একটি আপ্তবাক্য চালু আছে, তা হলো উন্নয়ন নাকি রেলপথ ধরে আসে। এই দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার চেয়ে রেললাইন স্থাপন করাকেই সবদিক থেকে যুক্তিযুক্ত ও লাভজনক বলে মনে করেছিল বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা। এ কারণেই অষ্টাদশ শতকের শেষদিকেই উত্তর ভারত ও আসামবেঙ্গল রেলওয়ে স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছিল তারা। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করা এবং চা, পাট, নীলসহ এদেশ থেকে ইউরোপের ভোগ্যপণ্য ও শিল্প কারখানার জন্য কাচামাল সংগ্রহ ও পরিবহন সহজতর করা। ১৮৬২ সালে ইস্টার্ণ বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জাগতি পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলওয়ে চালুর মধ্য দিয়ে এ দেশে রেলপথের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। দেশভাগের পর পাকিস্তানের ২৩ বছরেও রেলওয়ের অগ্রযাত্রা কখনো থমকে দাঁড়ায়নি। কিন্তু স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে রেলওয়ের অগ্রযাত্রা শুধু থমকে দাঁড়ায়নি, সময়ের বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে রেলওয়ের সামগ্রিক অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা অনেকটাই সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছিল। সড়ক-মহাসড়ক নির্মান ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায়না। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে যোগাযোগের প্রতিটি সেক্টরকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা। সে ক্ষেত্রে শত বছরে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেলওয়েই হতে পারত সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। রেলপথকে দুর্নীতিবাজ, পাচারকারী মুনাফাবাজ চক্রের হাতে ছেড়ে দিয়ে সরকারের মন্ত্রী-আমলারা সড়কপথ উন্নয়নে প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে মূলত দুর্নীতি-লুটপাটের পথকেই প্রশ্বস্ত করেছেন। আমাদের দেশে বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যয়ে সর্বনিম্ন মানের সড়ক-মহাসড়ক নির্মিত হয়। কয়েক বছরে আগে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ভারত, চীন ও ইউরোপের সাথে তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে দেখানো হয়েছিল, সড়ক-মহাসড়ক ও অবকাঠামো নির্মানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যয় হয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশে নির্মান শ্রমিকের খরচ অন্যদেশ থেকে অনেক কম হলেও সড়ক অবকাঠামো নির্মানে ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের চেয়ে প্রায় ৬ গুণ এবং ইউরোপের দ্বিগুণের বেশি খরচ হয়। তবে বিশ্বের সর্বোচ্চ খরচ করে রাস্তা নির্মানের পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তা ভেঙ্গে খানা-খন্দকে পরিনত হয়ে যাচ্ছে। এভাবেই সড়ক-মহাসড়কে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে। সড়কের জন্য গাড়ী আমদানি এবং সড়ক পরিবহণে জনভোগান্তি, মাফিয়া চক্রের আধিপত্যের যে চিত্র গড়ে উঠেছে সে হিসাব ভিন্ন। পাটকল, গণপরিবহন, বিশ্ববিদ্যালয় ও এভিয়েশন থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই পাবলিক সেক্টরে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা গেলেও সব ক্ষেত্রে বেসরকারী সেক্টরের উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। শতগুণ বেশি বিনিয়োগ করেও পাবলিক সেক্টরের লোকসানের নামে লুটপাট বন্ধ না হলে স্বাধীনতার সুফল ও মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খিত সামাজিক-অর্থনৈতিক অর্জন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। উন্নয়নের নামে জাতিকে যা দেখানো হচ্ছে, তার নেপথ্যে আছে লক্ষকোটি টাকা লুটপাটের মহাযজ্ঞ। যেখানে বছরে দুই হাজার কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ করেও রেলপথে দেড়হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়। যেখানে বিশ্বের ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় আমাদের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকেনা। এখানে মোটা অংকের টাকা খরচ করার সামর্থ্য না থাকলে সাধারণ মানুষ আদালতে বিচার পায়না। এখানে প্রতিবেশি দেশগুলোর চেয়ে ১০গুণ বেশি টাকা খরচ করে সর্বনিম্ন মানের অবকাঠামো নির্মিত হয়। এখানে বিমান বা ট্রেন শিডিউল ঠিক রাখতে পারেনা। যেখানে দেশের কোটি কোটি মানুষ পরিবহন মাফিয়াদের হাতে জিম্মি হয়ে থাকে, সেখানে উন্নয়নের বাগাড়ম্বরতায় মানুষ বিরক্ত-বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়ার আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেটেড কারসাজি বন্ধ না হলে দেশে সামাজিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিমানের জন্য মিশর থেকে এয়ারক্রাফ্ট লিজ নিয়ে তা মাসের পর মাস গ্রাউন্ডেড করে রাখা এবং হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসানের জন্য কারা দায়ী তা ইতিমধ্যে সংসদীয় কমিটির দ্বারা চিহ্নিত হলেও কয়েক বছরেও তাদেরকে জবাবদিহিতা বা বিচারের সম্মুখীন হতে হয়নি। যে দেশে ১০-২০ হাজার টাকার কৃষিঋণ খেলাফের দায়ে কৃষকের কোমড়ে দড়ি বেধে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় সে দেশের হাজার কোটি টাকা লোপাট করে দিব্বি পার পেয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। যেখানে কিছু সংখ্যক মানুষ ঋণখেলাপি থেকে রাতারাতি হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যায় আর দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয় সেখানে কিসের উন্নয়ন! কার উন্নয়ন চলছে? রাজনৈতিক মামলায় বিরোধিদলের শীর্ষনেতা থেকে শুরু করে লাখ লাখ নেতাকর্মীর ঘুম হারাম করে দিচ্ছে পুলিশ। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় কোটি মানুষের সমর্থনপুষ্ট দেশের প্রধান বিরোধীদলের সত্তুরোর্ধ বয়েসী অসুস্থ নেত্রীকে সাজা দিয়ে জেলে ভরা হলেও একেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান ও তছরুপের সাথে জড়িত ও অভিযুক্তদের কিছুই হয়না। উন্নয়নের এমন বুজরুকি বিচারহীনতা দেশকে একটি অস্থিতিশীলতা ও বর্বরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্ব যেখানে ৪০০ কিলোমিটার বেগে চলা ম্যাগলেভ ট্রেনের যুগে প্রবেশ করেছে তখন আমাদের ট্রেনগুলো ঢাকা থেকে দিনাজপুর সাড়ে তিনশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ৮-১০ ঘন্টা সময় নিচ্ছে! সড়ক-মহাসড়কে বাসমালিক-শ্রমিকদের অরাজকতা-নৈরাজ্য, বর্বরতা, দুর্ঘটনা, অপমৃত্যুর ফিরিস্তি নতুন করে তুলে ধরার কিচ্ছু নেই। অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এ খাতের সিন্ডিকেটকে এখন ‘পরিবহন মাফিয়া’ নামে অভিহিত করা হয়। বেসরকারি গাড়ী আমদানিতে নানামুখী তেলেসমাতির কথা শোনা যায়। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির জন্য নিম্নমানের ভারতীয় গাড়ী আমদানি করে বাসডিপোগুলোকে অকেজো গাড়ির ডাম্পিং স্টেশনে পরিনত করার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে লুটপাটের মাফিয়া রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে রেলপথের লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা টিকিয়ে প্রয়োজন! এককোটির বেশি প্রবাসি কর্মী যাতায়াতের জন্য দেশের পতাবাহী বাংলাদেশ বিমানের উপর ভরসা করতে চায়। মাত্র তিরিশলাখ জনসংখ্যার দেশ কাতার এবং ৯০ লাখ জনসংখ্যার দেশ আরব আমিরাত অনেক উন্নত সেবা দিয়ে তাদের এয়ারলাইন্সকে লাভজনক করতে পারলেও এসব দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি প্রবাসি কর্মী নিয়েও বাংলাদেশ বিমান বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান দেয়ার নেপথ্যেও রেলের কালো বিড়ালদের স্যাঙ্গাতরা অন্ধকারের বাঘ-ভাল্লুকে পরিনত হয়ে লুটপাটে সক্রিয় রয়েছে। জনগণের সম্পদের এমন বল্গাহীন লুটপাটের চিত্র অব্যাহত রেখে কোনো উন্নয়নই জনগণের কল্যানে আসবে না। bari_zamal@yahoo.com

add_28

নিউজটি শেয়ার করুন

Facebook
এ জাতীয় আরো খবর..
add_29
সর্বশেষ আপডেট
জনপ্রিয় সংবাদ

add_30
add_31
add_32

সংবাদ শিরোনাম ::