বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
মানুষের কল্যাণে সকল প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
২২সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, দেশের মানুষের কল্যানে কোনো প্রকল্পে উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়ন না পেলেও সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তা বাস্তবায়ন করবে। তিনি আজ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুওরেস্ট (আইএসপিপি) যত্ন প্রকল্পের গুড প্র্যাকটিসেস এন্ড লেসন লার্নড শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের জন্য যা মঙ্গলকর এবং লাভজনক এমন প্রকল্পে যদি বিদেশি কোনো সংস্থা অর্থায়ন না করে তাহলে আমরা কি সেই প্রকল্প নিবো না ? অবশ্যই নিতে হবে এবং সরকার তা নিচ্ছে, কারণ সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। তিনি বলেন, দেশ ও মানুষের উন্নয়নে অনেক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ সকল প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। শুধু প্রকল্প নিয়ে নিলেই হবে না, এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্প নেওয়া হয় আবার শেষও হয়। কিন্তু প্রকল্প থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং প্রকল্পের গুড প্রাক্টিসগুলো পরবর্তীতে কাজে লাগাতে হবে। মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষই সম্পদ। প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সেই সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি উক্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ পেয়ে বলেছিলেন, দেশে কিছু থাক আর না থাক আমার মাটি ও মানুষ আছে। সেই মাটি ও মানুষকে সম্পদে রূপান্তরিত করে দেশ গড়ার কাজ শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। যত প্রকল্পকে একটি ব্যতিক্রম প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং তার শিশু যারা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তাদের স্বাস্থ্য সেবায় সরাসরি অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। এই প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও যত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক দীপক চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার ড্যানডেন চেন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী। স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত প্রকল্পটি রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের সাতটি জেলার ৪৩ টি উপজেলায় ৪৪৪ টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প এলাকার অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অন্তঃসত্ত্বা কালীন সময়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সভা, শূন্য থেকে সাত মাস বয়সের শিশুদের ওজন ও উচ্চতার পরিমাপ এবং শিশুদের দৈহিক বিকাশ ও বৃদ্ধির জন্য অর্থ সহায়তা পেয়ে থাকেন। নিউজ একাত্তর/বিল্পব
জাতীয় প্রেস ক্লাব ও প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
২২সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : জাতীয় প্রেস ক্লাব ও প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার মধ্যে দুই ক্লাবের সদস্যদের পরস্পরের ক্লাব সুবিধা ব্যবহার সম্পর্কিত এক সমঝোতা স্মারক স&;াক্ষরতি হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া, দিল্লির সভাপতি উমাকান্ত লাখারিয়া দুই ক্লাবের পক্ষে সম্প্রতি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। সমঝোতা অনুযায়ী দুই ক্লাবের সদস্যরা পরস্পরের ক্লাব সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে পেশাগত নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার আমন্ত্রণে ক্লাবে বঙ্গবন্ধু মিডিয়া সেন্টার স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুই ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি জেনারেল বিনয় কুমার, সাবেক সভাপতি গৌতম লাহিড়ীসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সমঝোতা স্মারকপত্রটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানের হাতে তুলে দেন সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। ব্যবস্থাপনা কমিটি এই উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, আগামী দিনগুলোতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সম্প্রীতি, মৈত্রী ও সৌহার্দ্য আরো সুদৃঢ় হবে। নিউজ একাত্তর/বিল্পব
আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নীল অর্থনীতিতে মার্কিন বিনিয়োগ আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
২২সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিশীল খাত যেমন আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, নীল অর্থনীতি, পর্যটন ও হাইটেক পার্কের জন্য মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ এক ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আইসিটি, নবায়নযোগ্য জালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, নীল অর্থনীতি, পর্যটন, জ্ঞানভিত্তিক হাই-টেক শিল্পসহ অন্যান্য লাভজনক খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আমন্ত্রন জানাচ্ছি। বর্তমান বাসস্থান লোট নিউইয়র্ক প্যালেস থেকে ভাচ্যুয়ালি এই গোলটেবিল বৈঠকে এ যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে আরো উচ্চ পরিসরে উন্নীত করতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারে। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন বাজারে অন্যান্য বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার হতে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে বাংলাদেশ ফরওয়ার্ড: দ্য ফ্রন্টিয়ার ফর গ্রোথ শীর্ষক ভার্চুয়াল গোলটেবিল আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি নিশা বিসওয়াল, গোলটেবিল পরিচালনা করেন এবং উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দও এতে অংশ নেন। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ)র বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। বৈঠকে মূল-প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সঠিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ)-র বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানী, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কারণে অবশ্যই বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। উল্লেখকৃতখাত ছাড়াও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে এফডিআই সুবিধা দিতে বাংলাদেশ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সরবারাহে উন্নয়ন ঘটাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব অভিন্ন মূল্যবোধ ও স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আমাদের এই পারস্পারিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী আশা করেন যে-যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্ক-মুক্ত প্রবেশ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক অগ্রাধিকারের মাধ্যমেই বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি অবস্থান থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি ভিত্তি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রয়োজন হবে। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ এবং ইউএস এন্ড বাংলাদেশ বিজনেস ওয়ার্ল্ডের নেতারা এই গোলটেবিলে অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের জন্য ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল ও এর সভাপতি নিশা বিসওয়ালকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় শেখ হাসিনা ২০২১ সালের ৬ এপ্রিল ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উদ্বোধনের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সংগঠনটির অন্যতম প্রথম কাজ ছিল বাংলাদেশে কোভিড-১৯ ওষুধ সরঞ্জামাদির চালান পাঠানো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি শুধুমাত্র আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও, বাংলাদেশের ২৮টি হাই-টেক পার্কে মার্কিন বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অব্যহতভাবে আমাদের শারীরিক, আইনী ও আর্থিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাচ্ছি এবং এছাড়াও পদ্মা সেতু ও ঢাকা মেট্রো-রেলের মতো বিভিন্ন সড়ক ও রেল যোগাযোগও বৃদ্ধি করছি। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেরই সবচেয়ে মুক্ত বিনিয়োগ-নীতি রয়েছে, যার ফলে বিদেশী বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে। বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ পার্লামেন্টের আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্বারা সুরক্ষিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানী খাত সহযোগিতা ও বিনিয়োগের স্বীকৃতি দিচ্ছে- এই সাহায্যের ফলেই আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বক্ষমতা এখন ২৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এখন আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে মার্কিন বিনিয়োগ কামনা করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত-বর্ধিষ্ণু আইসিটি খাত এখন ৬০টি দেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের আইসিটি পণ্য সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের আইসিটি শিল্প ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছুবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৬ লক্ষাধিক ফ্রি-ল্যান্স আইটি প্রফেশনালদের কারণে বাংলাদেশ এখন আইসিটি খাতে বিনিয়োগের জন্য আদর্শ স্থান। শেখ হাসিনা বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেন প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতেই দক্ষ জন-সম্পদ পেতে পারেন, সেজন্য আমরা জনশক্তিকে দক্ষ করার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক উত্তরণের ক্ষেত্রে সমৃদ্ধির লক্ষ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। আমাদের দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতি গ্রহণের জন্য বিজনেস কাউন্সিল মার্কিন সরকারকে রাজি করাবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এই কাউন্সিলকে আমাদের জনগণের জীবন-মান উন্নয়নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছি। এডিবি আউটলুক ২০১৯ এর বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দ্রুততম অর্থনৈতিক উন্নয়নের দেশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এডিবি এই সাফল্যের জন্য বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সুশাসন, সরকারের স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী ম্যাক্রো-ইকোনোমিক নীতি ও সঠিক উন্নয়ন প্রাধান্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ন, বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি, দারিদ্রতার সীমা থেকে উত্তরণ করে ব্যাপক মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে প্রবেশ, বিশাল আঞ্চলিক বাজারগুলোর সাথে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি বাংলাদেশকে বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত-বার্ষিকী উদযাপন করছে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ সোনার বাংলা, একটি বঞ্চনা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের সরকারের লক্ষ্য। শেখ হাসিনা বলেন, বিগত এক দশক ধরে সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এর ফলে আমরা সমৃদ্ধির পথে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি এবং বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দরবারে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। তিনি বলেন, বিশ্বও আজ বাংলাদেশের শক্তিশালী টেকসই অর্থনীতির স্বীকৃতি দিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারিতেও বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকে আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর এজন্য জাতিসংঘ এ বছর বাংলাদেশকে এলডিসি স্টেটাস থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত জাতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ভালভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক চলমান প্রকল্প রয়েছে, বিশেষত ডেল্টা প্ল্যান ২১০০। নিউজ একাত্তর/বিল্পব
চলতি বছরের শেষে ৫জি চালু হবে : জয়
২২সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ওয়াজেদ জয় বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে ৫জি সেবা চালু করা হবে। নিউইয়র্কে বিজনেস রাউন্ড টেবিলে তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের ৫জি প্রযুক্তি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, যেহেতু সরকার শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ সে হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ব্যান্ডউইথের ঘাটতিও নেই। তিনি বলেন, আমাদের প্রচুর সক্ষমতা ও অপটিকেল ফাইবার রয়েছে। জয় আরো বলেন, শেষ প্রান্তের ব্যবহারকারীরা ফিক্সড লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। তারা মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, এ জন্য আমরা স্পেকট্রাম ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতির চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি। ঘন-জনবসতির কারণে আমাদের ব্যাপক জায়গায় এই সংযোগ দিতে হবে এবং অতিরিক্ত সংযোগ নিলামের মাধ্যমে দিতে হবে। আর এ জন্য আমরা মোবাইল অপারেটরদের জন্য অধিক স্পেকট্রাম অবাধ করে দিচ্ছি। তারা কয়েক বছর আগে ৪জি চালু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা আরো বলেন, আমরা আশা করছি যে-অতিরিক্ত স্পেকট্রাম ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটরগুলো দুর্গম গ্রামীণ এলাকাগুলোতে (শেষ প্রান্তে) ৪জি চালু করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, একত্রে ৪জি ও ৫জির মাধ্যমে আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শেষ সীমানা পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেহেতু দেশের মধ্যেই প্রচুর সক্ষমতা ও ফাইবার আছে। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে বিজেনস রাউন্ড টেবিলের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড: দি নিউ ফ্রন্টিয়ার ফর গ্রোথ শীর্ষক রাউন্ড টেবিলে ভার্চুয়ালি যোগ দেন। জয় বলেন, বিগত দুই বছরে তারা অনলাইন আইডেন্টিটি (কেওয়াইসি) চালু করেছে এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই আরেকটি সেবা চালু করেছে। যার ফলে বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংক একাউন্টে তাৎক্ষণিক পেমেন্ট করা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা আরো বলেন, এখন পর্যন্ত অর্থাৎ এই সেবা শুরুর আগে, এই পেমেন্ট করতে দুই দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত। জয় রাউন্ড টেবিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা অনলাইনের মাধ্যমে এই সেবা গুলো থেকে বঞ্চিত হবেন না। আপনাদের সিস্টেম এই সেবাগুলোর সাথে সংযোগ ঘটাতে সক্ষম। জয় বলেন, আরো কিছু ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমেরও পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এদের মধ্যে একটি হচ্ছে আইডিপিপি-যার ফলে দেশে আন্তসংযোগের জন্য এমএফএস করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, তাই আমরা এই সেবাগুলো চালু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি এবং আপনাদের সাথে এ ব্যাপারে কাজ করতে পেরে আনন্দিত। আপনাদের এ ব্যাপারে কোন পরামর্শ থাকলে দিতে পারেন। নিউজ একাত্তর/বিল্পব
পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর জন্য পাঁচ প্রস্তাব শেখ হাসিনার
২১সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : করোনা মহামারিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক দেশের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসডিজি অর্জনে একটি সাহসী ও উচ্চাভিলাসী রূপরেখা তৈরি করতে হবে। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইর্য়কে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে (ভার্চ্যুয়াল) তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারির আগেই বহু দেশ এসডিজি অর্জনের পথ থেকে ছিটকে পড়ে। এ মহামারি তাদের আরও পেছনে ফেলে দিয়েছে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোকে ফিরিয়ে আনতে আমাদের একটি সাহসী এবং উচ্চাভিলাসী বৈশ্বিক রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে- যাতে কেউ পেছনে পড়ে না থাকে। তিনি বলেন, কোনো দেশ একা এসডিজি অর্জন করতে পারে না। এই এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে আমাদের বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং সংহতি প্রয়োজন। এসডিজি অর্জনের পথে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোকে সামনে আনতে শেখ হাসিনা পাঁচটি প্রস্তাব পেশ করেন। প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এসডিজি অর্জনের সফলতা নির্ভর করছে মহামারি থেকে টেকসই উত্তরণ। এ সময়ে সত্যিকারের জরুরি বিষয় হলো সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে সম্পদের বিশাল ব্যবধান কমিয়ে আনার কথা বলেন শেখ হাসিনা। তৃতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, চলমান বৈশ্বিক মহামারির আঘাতে ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক দারিদ্র নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। চতুর্থ প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে করোনা থেকে পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যাতে ভবিষ্যতে যেকোন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়। পঞ্চম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী এসডিজি বাস্তবায়নে মনিটরিং এবং সহায়তা বাড়ানোর কথা বলেন। এসজিডি বাস্তবায়নে জাতিসংঘকে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। ২০৩০ এজেন্ডাকে একটি বৈশ্বিক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এসডিজি টেকসই বৈশ্বিক উন্নয়নের একটি ব্লুপ্রিন্ট। কোনো দেশ একা এই এজেন্ডা অর্জন করতে পারবে না। এই এজেন্ডা অর্জনে আমাদের বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সংহতি বাড়াতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সবুজ উন্নয়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জন, লবণাক্ততা সহিষ্ণুতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে প্রাধান্য দিয়ে- মুজিব ক্লাইমেট প্রোসপারিটি প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২১ এর বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৫ সাল থেকে এসডিজি সূচকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি লাভ করেছে। বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে প্রথম পাঁচটি দ্রুততম অর্থনৈতিক অগ্রগতির দেশের মধ্যে অন্যতম এবং জিডিপিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১তম বলে জানান শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ এ বছর বাংলাদেশকে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের স্বীকৃতি দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্য-আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ-আয়ের দেশে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে সরকার। ডেল্টা-প্ল্যান ২১০০ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপক বদ্বীপ তৈরি করে যেতে চাই। বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা অবকাঠামো প্রকল্প চালু করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাইজেশন ও সংযোগে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ডিজিটাল অর্থনীতি, তরুণদের নেতৃত্বে উদ্ভাবন এবং রূপান্তরমূলক আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনকে উৎসাহিত করেছে। এটি এখন আমাদের করোনা মহামারিকে আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, আমাদের তরুণদের সংখ্যা প্রচুর। ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সর্বাধিক সুবিধা পেতে তাদের সহায়তা করার জন্য আমরা তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা বিকাশে প্রচুর বিনিয়োগ করেছি। বিগত বছরগুলোতে টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জনের জন্য- এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশন নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন), গ্লোবাল মাস্টার্স অব ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ইনস্টিটিউট ও সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কার দেয়। অনুষ্ঠানে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশন নেটওয়ার্কের (এসডিএসএন) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জেফরি ডি. স্যাক্স। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুয়েল ইন দ্য ক্রাউন অব দ্য ডে হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের অধীনে ২০১২ সালে এসডিএসএন প্রতিষ্ঠা করা হয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য বাস্তবভিত্তিক সমাধানে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে থাকে এসডিএসএন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে নিউইর্য়ক যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে ফিনল্যান্ড হয়ে নিউইর্য়ক আসেন প্রধানমন্ত্রী। নিউজ একাত্তর/ভুঁইয়া
জাতীয় জাদুঘরের টিকিট অনলাইনে, দিনে সুযোগে পাবে ৬০০ দর্শনার্থী
২১সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। চলছে জাতীয় জাদুঘরসহ অন্যান্য জাদুঘরও। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রতিদিন ৬০০ দর্শনার্থীকে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ দিচ্ছে সরকার। টিকিটও কাটতে হচ্ছে অনলাইনে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। গত এপ্রিলে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অন্যান্য সবকিছুর সঙ্গে জাতীয় জাদুঘরসহ অন্যান্য জাদুঘরও বন্ধ করে দেয় সরকার। গত ১১ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ তুলে দেয় সরকার। সংক্রমণ কিছুটা কমে এলে ২৩ আগস্ট থেকে খুলে দেওয়া হয় জাদুঘর। নিউজ একাত্তর/ভুঁইয়া
রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন মিলার
২১সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি কক্সবাজার সফর করেন। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এ তথ্য জানায়। রাষ্ট্রদূত মিলার কক্সবাজারে ১৩তম সফরকালে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ও আইইডিসিআরের মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষাগারে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প, রত্নাপালংয়ে নারী নেতৃত্বে পরিচালিত কমিউনিটি সেন্টার ও খুরুশকুলে ইউএসএআইডি বাংলাদেশের ইকোফিশ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সহায়তাকারী সরকারি কর্মকর্তা ও মানবিক ত্রাণ সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া রাষ্ট্রদূত মিলার রোহিঙ্গা সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শরণার্থী জনগোষ্ঠী ও আশ্রয়দানকারী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশের শরণার্থী কার্যক্রম, যাকে তিনি দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন, সেই কার্যক্রমের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৃতজ্ঞতা ও অব্যাহত শক্তিশালী সহায়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে শরণার্থী ও আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা দিতে বৃহত্তম আন্তর্জাতিক দাতা দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ১.৩ বিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে। নিউজ একাত্তর/ভুঁইয়া
প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘের এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার প্রদান
২১সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) দারিদ্র্য দূরিকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সকলের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সার্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সঠিক পথে অগ্রসরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার প্রদান করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ পুরস্কার গ্রহণ করে বলেন, তিনি বাংলাদেশের জনগণকে এটি উৎসর্গ করছেন। মোমেন সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের পর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে (এসডিজি) দ্রুত এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে এ পুরস্কার পাওয়াকে দেশের সফলতার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন কৌশলবিদ অধ্যাপক জেফ্রি ডি. সচর নেতৃত্বে জাতিসংঘ মহাসচিবের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১২ সালে এসডিএসএন প্রতিষ্ঠা করা হয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য বাস্তব ভিত্তিক সমাধান জোরদারে বিশ্বের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানোই এ প্লাটফর্মের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক শেখ হাসিনাকে জুয়েল ইন দি ক্রাউন অব দি ডে হিসেবে তুলে ধরেন এবং সচ বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাস চলাকালেও এসডিজি প্রচারণা কার্যক্রম চালাতে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এ পুরস্কার হচ্ছে এসডিজির লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে জোরালো দায়িত্ব পালনের একটি প্রমাণপত্র। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ফাঁকে আজ আরো কয়েকটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ব্রিটেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের যৌথভাবে আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সরকার প্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। নিউজ একাত্তর/ভুঁইয়া
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বেঞ্চ উৎসর্গ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা : প্রধানমন্ত্রী
২১সেপ্টেম্বর ২০২১, নিজেস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সম্মানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উত্তর লনের বাগানে একটি বেঞ্চ উৎসর্গ এবং সেই সঙ্গে একটি বৃক্ষ রোপনকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গতকাল নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১ টায় তিনি এই বৃক্ষ রোপন করেন। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বৃক্ষটাও শতবর্ষের ওপর টিকে থাকবে এবং শান্তির বারতাই বয়ে বেড়াবে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা সবসময় শান্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই ছিল তাঁর এই সংগ্রাম। সেখানে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের কথাও যেমন তিনি ভেবেছেন, তেমনি সারাবিশে^র ক্ষুধা ও দারিদ্র জর্জরিত, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কথাও তিনি বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের সাথে বন্ধুত্ব করো সঙ্গে বৈরিতা নয়, এটাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। কারণ, এতে করেই শান্তি আসবে এবং শান্তির সন্ধানেই তিনি ছিলেন। শান্তির জন্যই তিনি সংগ্রাম করেছেন। আর শান্তি ছাড়া কখনো কোন দেশের উন্নতি হয় না। এটা আমরা খুব ভালো বুঝি, একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই উন্নতি হওয়া সম্ভব, বলেন তিনি। তিনি বলেন, আজ এখানে একটি বৃক্ষরোপন করা হলো সেই সেপ্টেম্বর মাসে যেমাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় (১৭ সেপ্টেম্বর) এবং তাঁর পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে আসেন এবং এখানে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন (২৫ সেপ্টেম্বর)। কাজেই, সেই মাসে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উত্তরের লনের বাগানে বৃক্ষরোপন করা হলো এবং একটি চেয়ার উৎসর্গ করা হলো। এই বৃক্ষটাও শতবর্ষের ওপর টিকে থাকবে এবং শান্তির বারতাই বয়ে বেড়াবে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বৃক্ষ যেমন পরিবেশ রক্ষা করে তেমনি মানুষকে খাদ্য ও ছায়া দেয়। আর মানুষের জীবনকেও রক্ষা করে। এজন্য তিনি জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিসহ প্রবাসী বাংলাদেশীদের ধন্যবাদ জানান। এরআগে প্রধানমন্ত্রী সকালে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের অংশগ্রহণে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। তিনি রোববার জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগদানের জন্য ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি হয়ে নিউইয়র্ক পৌঁছেন। নিউজ একাত্তর/ভুঁইয়া

জাতীয় পাতার আরো খবর