মুভমেন্ট পাস- লাগবে না যাদের
১৫,এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা সংক্রমণ রোধে সারাদেশে চলছে- সর্বাত্মক লকডাউন। চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে জরুরি সেবা খাতগুলো খোলা রয়েছে। ব্যাংক, শিল্পকারখানা ও হাসপাতালে কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বের হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। অবশ্য কোনো কোনো পেশার লোকজনের ক্ষেত্রে এই পাস নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে পুলিশ এমন অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, যারা জরুরি সেবার আওতায় পড়েছেন। এ নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝির ঘটনাও ঘটছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, বিধিনিষেধের আওতামুক্ত ব্যক্তি কারা ও প্রতিষ্ঠান কোনগুলো। তাদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করতে- মুভমেন্ট পাস-এর প্রয়োজন নেই। শুধু পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলেই চলবে। চেকপোস্টে যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্রিফিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। বিধিনিষেধের আওতামুক্ত যারা: ১. ডাক্তার, ২. নার্স, ৩. মেডিকেল স্টাফ, ৪. কোভিড টিকা/চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি/স্টাফ, ৫. ব্যাংকার, ৬. ব্যাংকের অন্যান্য স্টাফ, ৭. সাংবাদিক, ৮. গণমাধ্যমের ক্যামেরাম্যান, ৯. টেলিফোন/ইন্টারনেট সেবাকর্মী, ১০. বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, ১১. জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা/কর্মচারী, ১২. অফিসগামী সরকারি কর্মকর্তা, ১৩. শিল্পকারখানা/গার্মেন্টস উৎপাদনে জড়িত কর্মী/কর্মকর্তা, ১৪. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ১৫. ফায়ার সার্ভিস, ১৬. ডাকসেবা, ১৭. বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি/কর্মকর্তা ও ১৮. বন্দর–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/কর্মকর্তা।
সংসদের উত্তর প্লাজায় হচ্ছে অফিস-কার পার্কিং
১৫,এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রকল্পের আওতায় অফিসে রূপান্তর করা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজা। এছাড়া বিশাল এলাকাজুড়ে কার পার্কিং ও বিভিন্ন প্রবেশ পথে অভ্যর্থনা কক্ষসহ সেন্ট্রি পোস্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সংসদ ভবন এলাকায় ছাদ থেকে পানি পড়া সমস্যা সমাধানের জন্য উত্তর প্লাজার সব ব্রিক ও মার্বেল প্রতিস্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে। এছাড়া মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সংসদ সদস্য ভবনের জন্য প্রি-ইঞ্জিনিয়ার্ড স্টিল স্ট্রাকচারের কার পার্কিং শেড নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজাকে অফিসে রূপান্তরসহ আনুসাঙ্গিক কাজ- শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে মোট ব্যয় করা হবে ৪৯ কোটি টাকা। মার্চ ২০২১ থেকে জুন ২০২২ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজার নিচে সুপরিসর জায়গাকে অফিসে রূপান্তরের মাধ্যমে সংসদ সচিবালয়ের অফিস স্পেস বৃদ্ধি করা। সংসদ সচিবালয়ের কার্যক্রমে গতিশীলতা ও সংসদ সদস্য ভবনের ব্যবহার উপযোগিতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। প্রকল্পের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর পরেই চূড়ান্ত করা হবে প্রকল্পটি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন খসরু এমপির মৃত্যুতে ওয়াসিকা আয়শা খান এমপির শোক প্রকাশ
১৫,এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক, সরকারি ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি একাদশ জাতীয় সংসদের ২৫৩ কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য,সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক আইনমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন খসরু এমপি-র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং তাঁর শােক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১বছর ২মাস ২দিন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন খসরু এমপি। এর মধ্যে সপ্তম জাতীয় সংসদে (১৯৯৬-২০০১) আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমান সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদনে পোশাক কারখানা
১৫,এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৮ দিনের কঠোর লকডাউন চলছে। বুধবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ দফার লকডাউন চলবে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত। লকডাউনে চলাচলে বিধিনিষেধ মানাতে মাঠে রয়েছে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে মুভমেন্ট পাস অ্যাপ থেকে পাস নিয়ে বের হতে হচ্ছে। বাইরে বের হলে পড়তে হচ্ছে পুলিশি চেকপোস্টে। সেখানে মুভমেন্ট পাস দেখাতে ব্যর্থ হলে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে দেশের অর্থনীতি ও রফতানিমুখী শিল্পের কথা ভেবে সেগুলোতে লকডাউন শিথিল করেছে সরকার। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া নিশ্চিত করতে হবে। কঠোর লকডাউনের মাঝেও দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলছে নির্দেশনার আলোকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার স্বাস্থ্যবিধি মানতে ব্যর্থ হলে কারখানা চালাতে পারবেন না। তবে মুভমেন্ট পাস নিতে কিছুটা ঝামেলা হচ্ছে। বার বার এটা নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিকরা বলছেন, প্রথমে কিছুটা ভয় কাজ করলেও কারখানায় এসে সেটি দূর হয়েছে, রয়েছে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা। নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি কারখানা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে। এ এলাকায় সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলছে। প্রতিটি কারখানার প্রবেশ পথে রয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। প্রায় প্রতিটি কারখানাতেই প্রবেশপথে একাধিক সাবান ও বেসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারখানায় প্রবেশ করতে হচ্ছে ব্লিচিং পাউডার ও জীবানুনাশক মেশানো পাপোশে পায়ের জুতা ভিজিয়ে। এ বিষয়ে বিকেএমইএর সহ-সভাপতি এবং ফতুল্লা অ্যাপারেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলে শামীম এহসান বলেন, কঠোর লকডাউনের মাঝে কারখানা খোলা। এ নিয়ে আমাদের বাড়তি সতর্কতা আছে। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিটি শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখা। আমার শ্রমিকরা ভালো থাকলেই কারখানা ভালো থাকবে।
বৈশ্বিক এই মহামারির সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইবাদত-বন্দেগি করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
১৪,এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বৈশ্বিক মহামারি করোনার এই সময়ে পবিত্র রমজান মাসে যথাযথ স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাবিধি মেনে ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি সমাজের সচ্ছল জনগোষ্ঠীকে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আজ এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উন্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। তিনি বলেন, বছর ঘুরে বরকতময় মাহে রমজান আমাদের মাঝে সমাগত। অশেষ বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের এ মাস মহান আল্লাহর নৈকট্য এবং তাকওয়া অর্জনের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমালাভের জন্য যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সমগ্র মুসলিম উন্মাহ এ মাসটি পালন করে থাকে। সিয়াম ধনী-গরীব সকলের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রপতি বলেন, রমজানের পবিত্রতা ও তাৎপর্য অনুবাধন করে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এর সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সকলে অবদান রাখবেন এ প্রত্যাশা করি। আবদুল হামিদ বলেন, এবার পবিত্র রমজান মাস আমরা এমন একটি সময়ে পালন করছি যখন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত। তিনি রমজান মাসে যথাযথ স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাবিধি মেনে ইবাদত-বন্দেগি করা এবং সচ্ছল জনগোষ্ঠীকে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রমজানের মহান শিক্ষা সমাজের সকল স্তরে ও সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। রমজানের পবিত্রতায় সকলের জীবন ভরে উঠুক। পরম করুণাময় যেন বিশ্ববাসীকে এ মহামারি থেকে রক্ষা করেন এই প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
মধ্যপ্রাচ্যসহ সিঙ্গাপুরে শিগগিরই বিশেষ ফ্লাইট চালু
১৪,এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুরের জন্য শিগগিরই বিশেষ ফ্লাইট চালু করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নিশ্চিত করবে। জানা গেছে, রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহ বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা নেগেটিভ সনদসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এয়ারপোর্টে আনার দায়িত্ব পালন করবে। প্রবাসী কর্মীরা কেবল জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের ছাড়পত্র গ্রহণ করে এবং দেশে প্রযোজ্য কোয়ারেন্টাইনের শর্ত মেনে কোভিড নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে আসতে পারবেন। বুধবার (১৪ এপ্রিল) পররাষ্ট্র সচিবের সভাপতিত্বে লকডাউনকালে বিদেশগামী কর্মীদের গন্তব্য দেশে যাওয়া বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা, সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান, বিমানের এমডিসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিলেন আইজিপি
১৪,এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি বিধিনিষেধ কঠোরভাবে প্রতিপালনসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে পুলিশের সব ইউনিটের কর্তাদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিলেন বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। মঙ্গলবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধ এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষে সব পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও থানার অফিসার ইনচার্জদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেন তিনি। বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা। অফিসারদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ চলাকালে বিনা প্রয়োজনে কেউ ঘরের বাইরে যাবেন না। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে পুলিশের মুভমেন্ট পাস নিয়ে চলাচল করবেন। জরুরি কাজে ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ধৈর্য ধরে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সরকারি বিধিনিষেধ প্রতিপালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি। তিনি বলেন, খাদ্যপণ্য, ওষুধ, উৎপাদন সামগ্রী ও অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রমণ, লকডাউন, রমজান উপলক্ষে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোড করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট না করতে পারে তা নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি।
শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, সরকার পাশে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী
১৩,এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারিতে মানুষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, মানুষের জীবন-জীবিকা যাতে সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে না পড়ে সেদিকে সরকার কঠোর দৃষ্টি রাখছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবাইকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আপনাদের শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ১৪২৮ নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি আমাদের অর্থনীতি, মানুষের জীবন-জীবিকা যাতে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে না পড়ে সেদিকে আমরা কঠোর দৃষ্টি রাখছি। সবার সহযোগিতায় আমরা বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলাম। যার ফলে গত বছর করোনা ভাইরাস মহামারিজনিত প্রভাব আমরা সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। সরকারপ্রধান বলেন, আপনাদের শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর আমি দরিদ্র-নিম্নবিত্ত মানুষদের সহায়তার জন্য কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা ইতোমধ্যে পল্লী অঞ্চলে কর্মসৃজনের জন্য ৮০৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং পবিত্র রমজান ও আসছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৬৭২ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। এর মাধ্যমে দেশের প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪২ হাজার নিম্নবিত্ত পরিবার উপকৃত হবেন। গত বছর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে ভিজিএফ, টেস্ট রিলিফসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হয়েছে। করোনায় অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার চার মূলনীতিতে কাজ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গত বছর আমরা চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণ করেছিলাম। চারটি কার্যক্রম হচ্ছে: ১) সরকারি ব্যয় বাড়ানো: সরকরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকেই প্রাধান্য দেওয়া; (২) আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন: অর্থনৈতিক কর্মকা-পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা; (৩) সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো: দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো। (৪) মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানো: অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বাড়ানো যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চার মূলনীতির ভিত্তিতে আমাদের কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। কলকারখানায় যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয় সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, হকার, রিকশাওয়ালা, দোকান কর্মচারী, স্কুল শিক্ষক, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন, অন্য ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবাদানকারী, নিম্নআয়ের নানা পেশার মানুষকে সহায়তা দিয়েছি। প্রায় আড়াই কোটি মানুষকে বিভিন্ন সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।
চৈত্র সংক্রান্তি আজ
১৩,এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামীকাল বুধবার ১৪২৮-এর প্রথম দিন পয়লা বৈশাখ, বাঙালির সর্বজনীন উৎসবের দিন। বাংলা বছরের শেষ দিন। চৈত্র মাসের এই দিনটিকে বলা হয় চৈত্র সংক্রান্তি। বাংলার বিশেষ লোকজ উৎসব এই চৈত্র সংক্রান্তি। আবহমান বাংলার চিরায়িত নানা ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসে এ দিনটি। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরনোকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে নানা অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। তবে প্রতি বছর নাচ, গান, আনন্দ-উল্লাসসহ নানা আয়োজনে চৈত্র সংক্রান্তি পালনের মধ্য দিয়ে পুরনো বছরকে বিদায় জানালেও বৈশ্বিক মহামারি কারণে গত বছরের মতো এবারও চৈত্র সংক্রান্তিতে থাকছে না কোনো কার্যক্রম। গত বছরের মতো এবারও বর্ষবরণ উৎসবের উপর সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লোক সমাগম এড়িয়ে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। একাত্তরের পর গত বছর নববর্ষের প্রথম প্রহরে রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান হয়নি। তারই ধারাবাহিকতায় এবছরও থাকছে না ছায়ানটের নতুন বছরের আয়োজন। এবারও পহেলা বৈশাখে হচ্ছে না মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রদর্শন ও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।