কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার চায় রাওয়া
১০আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনের প্রত্যাহার দাবি করেছে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার নুরুল আফসার। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সিনহার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাওয়ার চেয়ারম্যান এ দাবি জানান। তিনি বলেন, মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। তবে বিচার প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত হয় সেটি আমরা চাই। কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সংশ্লিষ্ট সব পুলিশ সদস্যের অস্ত্র সিজ (জব্দ) করতে হবে। এর পাশাপাশি যাতে এটাই বিচার বহির্ভূত শেষ হত্যাকাণ্ড হয়, আর কোনো মায়ের বুক যাতে খালি না হয়, সেটা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি, যোগ করেন তিনি।
আবারও ৭ দিনের রিমান্ডে সাহেদ
১০আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পদ্মা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দায়ের করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েস শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে দুই দফায় সাহেদের ৩৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। আদালত সূত্র জানায়, আজ দুপুর ১২টায় বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাহেদকে আদালতে হাজির করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই শুনানি শুরু হয়। উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ আদালতে আসামি সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত সাহেদের উপস্থিতিতে ১০ আগস্ট শুনানির এদিন ধার্য করেন। গত ২৭ জুলাই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে সাহেদ, ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. মাহবুবুল হক চিশতী, বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক চিশতি, রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রিজেন্ট হাসপাতালের জন্য ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখা থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে এমআরআই মেশিন কেনার জন্য দুই কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন মো. সাহেদ। অথচ ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও ক্রেডিট রিস্ক গ্রেডিং নিরূপণ না করেই ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. মাহবুবুল হক চিশতী ঋণ অনুমোদন করেন। পরে ওই বছরের ১৫ জানুয়ারি ২১তম সভায় সাহেদের অনুকূলে দুই কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন হয়। যা পে-অর্ডারের মাধ্যমে ও এমআরআই মেশিন কেনা হয়েছে এমন জাল কাগজপত্র দেখিয়ে ২১ জানুয়ারি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা মহিলা শাখার মাধ্যমে দুই কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে শর্তানুযায়ী ১ কোটি টাকার এফডিআর করতে হয় সাহেদকে। কোনো কিস্তি পরিশাধ না করায় ঋণ হিসাবটি অনিয়মিত হওয়ার কারণে ব্যাংকের কাছে থাকা ওই এফডিআর থেকে এক কোটি টাকা সমন্বয় করা হয়। আর বাকি ১ কোটি টাকা আনাদায়ী থেকে যায়। যা এখন সুদসহ ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা হয়েছে। সাহেদ ঘুষ বাবদ ৩৫ লাখ টাকা বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমেটেড নামের প্রতিষ্ঠানের হিসাব নম্বরে (হিসাব নম্বর-০১১১১০০০০২৩৬৩) জমা করেন। যে প্রতিষ্ঠানটির এমডি রাশেদুল হক চিশতি। প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই Rabর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এই সময় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয় Rab। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়। এরপর থেকে সাহেদ পলাতক ছিল। গত ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে Rab। হাসপাতালে অভিযানের পর থেকে সাহেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে দুদকে অভিযোগ আসতে শুরু করে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি। কমিশনের উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। এ দলের অন্য সদস্যরা হলেন- মো. নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা।
করোনা আক্রান্ত রোগীর সহায়তায় বিমান বাহিনীর পরিবহন সেবা
১০আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দিনাজপুর জেলার জ্যেষ্ঠ জেলা জজ আজিজ আহমেদ এবং তার স্ত্রী মিসেস মৌসুমি আক্তারকে রোববার (৯ আগস্ট) জরুরী ভিত্তিতে দিনাজপুর হতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। রোববার (৯ আগস্ট) আইএসপিআর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারর আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত কল্পে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জরুরী বিমান পরিবহন এবং মেডিক্যাল ইভাকোয়েশন সেবা পেশাদারিত্বের সঙ্গে অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনায় উক্ত মেডিক্যাল ইভাকোয়েশন মিশন পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই মেডিক্যাল ইভাকোয়েশন মিশনের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দিনাজপুর জেলার জ্যেষ্ঠ জেলা জজ আজিজ আহমেদ এবং তার স্ত্রী মিসেস মৌসুমি আক্তারকে রোববার দিনাজপুর হতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টারযোগে জরুরী ভিত্তিতে ঢাকায় আনা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ভারপ্রাপ্ত করে ফের প্রজ্ঞাপন
১০আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার মহামারীর মধ্যে গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগের একদিন পরেই নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে (৩৮০১৩) স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়। এরপর ২৬ জুলাই তিনি তার যোগদানের পত্রেও মহাপরিচালক হিসেবেই স্বাক্ষরও করেন। তবে নিয়োগের প্রায় দুই সপ্তাহ পর তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক করে পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। একই নম্বর ও তারিখের স্থলাভিষিক্ত শিরোনামের নতুন প্রজ্ঞাপনে আগের প্রজ্ঞাপন জারির তারিখই (২৩ জুলাই) ব্যবহার করা হয়েছে।
মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেটে হবে আরবান হাসপাতাল : মেয়র আতিক
০৯আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমানে করোনা আইসোলেশন সেন্টার হিসাবে ব্যবহৃত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মহাখালীস্থ মার্কেটকে ৫০০ শয্যার আরবান হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম আজ মহাখালীতে ডিএনসিসি করোনা আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শনকালে এ কথা জানান। পরিদর্শনকালে মেয়র আইসোলেশন সেন্টারটি ঘুরে দেখেন এবং কোভিড টেস্ট করাতে আসা মানুষের সাথে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে মেয়র সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, ৭.১৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেটটির আয়তন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ বর্গফুট। যেহেতু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কোন ধরনের আরবান হাসপাতাল নেই, এটিকে কিভাবে আরবান হাসপাতাল এ রূপান্তর যায়, আমরা তার পরিকল্পনা করছি। এই ভবনকে আমরা যদি আরবান হাসপাতাল এ রূপান্তর করতে পারি, তাহলে নগরবাসীর জন্য অনেক সুবিধা হবে। আতিকুল ইসলাম বলেন, মিরপুরে আরেকটি মার্কেট আছে, প্যারিস মার্কেট। সেটাকেও কিভাবে হাসপাতালে রূপান্তর করা যায় তা চিন্তাভাবনা করছি। এই দুটি ভবনকে হাসপাতালের রূপান্তর করার জন্য খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা আমরা জমা দেব। তিনি বলেন, এখানে বেড থেকে শুরু করে সকল ধরনের ইকুইপমেন্ট মোটামুটি রয়েছে। ছয়তলায় ইংল্যান্ড থেকে আনা উন্নত মানের ২৫টি আইসিইউ রয়েছে। আমরা এটিকে অচিরেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নগরবাসীর জন্য একটি আধুনিক মাপের হাসপাতাল করার ইচ্ছা পোষণ করছি। কাউন্সিলরগণও এতে মত দিয়েছেন। আমাদের সবই আছে। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ডাক্তার, নার্স পেয়েছি, সিএমএইচ থেকে ১৯ জন অফিসার পেয়েছি। আমরা সবাই মিলে চাই নগরবাসীকে একটি সুন্দর হাসপাতাল উপহার দিতে। আমি মনে করি এখানে হাসপাতাল হলে নগরবাসী উপকৃত হবে। মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, ডিএনসিসি মার্কেট মূলত পাইকারি কাঁচাবাজারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এটি বাজারে বাস্তবায়ন করা যায়নি। ৭০০ দোকান বিক্রয়ের পরিকল্পনা নিয়ে গত বছর আমরা সিটি কর্পোরেশনের বাজেট প্রণয়ন করেছিলাম। কিন্তু এর মাঝে কোভিড এলো। কোভিড আমাদের অনেক বড় শিক্ষা দিয়ে গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব কোন হাসপাতাল নেই। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন যখন দুই ভাগ হয় তিনটি হাসপাতালই দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে পড়েছে। মার্চের শুরুতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে আমরা বলেছিলাম প্রয়োজন হলে এই মার্কেটকে আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তর করা হবে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটি আর্মড ফোর্স ডিভিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর্মড ফোর্স ডিভিশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে আমি একটি মিটিং করে কাজ শুরু করি। তিনি বলেন, যারা বিদেশ যাচ্ছেন, তারা করোনা পরীক্ষা নিয়ে সমস্যার মধ্যে থাকেন। তাই এই মার্কেটটিকে পরবর্তীতে কোভিড টেস্টের জন্য রূপান্তর করা হয়। যারা বিদেশ যাবেন, তারা যাতে করোনা টেস্টের সনদ নিতে পারেন। এ ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। আমরা এখান থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড টেস্টের ফল দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। প্রথম দিন ২০ জুলাই এখানে ১২৩ জন পরীক্ষা করতে এসেছিল। আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল যারা বিদেশ যাবেন তারা যেন নির্বিঘে, কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই করোনা টেস্ট করতে পারেন। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার করোনা টেস্ট করা যায়। এই ক্যাপাসিটি আমরা অর্জন করেছি। এখানে সমগ্র দেশ থেকেই মানুষ আসে করোনা পরীক্ষা করার জন্য। মানুষ যতই অনলাইনে ফরম ফিলাপ করে অনলাইনে টাকা জমা দিতে পারে, সে ব্যবস্থা করার জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছি। আমরা চাই নগরবাসীকে যথাসম্ভব কষ্ট কম দিতে। পরিদর্শনকালে আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জুবায়েদুর রহমান, আর্মড ফোর্স ডিভিশনের মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্ল্যানিং) এ এন এম মঞ্জুরুল হক মজুমদার, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, আঞ্চলিক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুর মিছিলে নতুন ৩৪ জন
০৯আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে করোনা সংক্রমণের পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও থামছে না মৃত্যুর মিছিল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ৩৪ জন। এসময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৪৮৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশে গত ৮ই মার্চ প্রথম করোনা রোগী চিহ্নিত হয়। শুরুতে পরীক্ষার হার ছিল একেবারেই কম। মাঝে টেস্টের সংখ্যা মোটামুটি বেড়েছিল। একদিনে ১৮ হাজারের বেশি নমুনা টেস্টও হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক সপ্তায় একটি নির্দিষ্ট ছকে চলছে টেস্ট। ১০ থেকে ১৫ হাজারের মধ্যেই থাকছে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা। কখনো কখনো তা আরো কমতির দিকে পৌঁছায়। টেস্টের সংখ্যা কমলেও রোগী শনাক্তের হার কমছে না। ২০ থেকে ২৫ ভাগের মধ্যেই থাকছে তা। মাঝে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশে করোনার সংক্রমণ কমতির দিকে দাবি করলেও বিশেষজ্ঞরা তা নাকচ করে দেন। তারা বলছেন, টেস্টের সংখ্যা না বাড়ালে দেশে করোনার চিত্র বুঝা যাবে না।
বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা: ওবায়দুল কাদের
০৯আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। গতকাল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন তিনি। সকাল ৯টায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ওবায়দুল কাদের। শ্রদ্ধা জানানো শেষে মোনাজাত, মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে শুধু বাঙালির জাতির পিতা আর বাংলাদেশের স্রষ্টাই হননি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক। আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তারই সহধর্মিণী ও বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি বলেন, বঙ্গমাতা বেগম মুজিবের সঙ্গে বিশ্বের আরেক খ্যাতিমান নারী এলিনর রুজভেল্টের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। এলিনর রুজভেল্ট যুক্তরাষ্ট্রের চারবার নির্বাচিত ও দীর্ঘকালীন সময়ের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের স্ত্রী। বেগম মুজিব আর এলিনর রুজভেল্ট দুজনই শৈশবে তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন, দুজনই তাদের চাচাতো ভাইকে বিয়ে করেছিলেন আর দুজনই তাদের স্বামীর রাজনীতিতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে তাদের দুজনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একটা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছিলেন, আর এলিনর রুজভেল্টে তা হয়নি। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক অর্থাৎ ৭ মার্চের ভাষণের আগ মুহূর্তে বঙ্গমাতাই জাতির পিতাকে চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। জাতির পিতার আমৃত্যু সঙ্গী মহীয়সী নারী, দেশের স্বাধীনতাসহ সব গৌরব অর্জনের নেপথ্য প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা মুজিব। প্রসঙ্গত, ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তার ডাক নাম রেনু। তার বাবা শেখ জহুরুল হক ও মা হোসনে আরা বেগম। তবে মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি বাবা ও পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান। দাদা শেখ কাসেম কিশোরী বয়সেই শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বেগম ফজিলাতুন্নেছার বিবাহ দেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে নিহত হন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বঙ্গমাতা রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দিয়েছেন
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তাঁর মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতির যে কোনও কঠিন সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, তাঁর (বঙ্গমাতার) বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারা বদলে দিয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমার মায়ের অবদান সম্পর্কে সবচেয়ে আকাঙ্খিত বিষয়টি হল আমার মা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে, আমি দুঃখের সাথে বলছি, অনেক বড় নেতাই তা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানে গোলটেবিল আলোচনায় যোগ দেয়ার জন্য প্যারোলে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির প্রস্তাব দেয়া হলে জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তা প্রত্যাখ্যান করে তিনি (বঙ্গমাতা) সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এই সঠিক ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত আইয়ুব খানকে (আগরতলা ষড়যন্ত্র) মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিল এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পথও বদলে দিয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, তিনি (বঙ্গমাতা) দলকে যোগ্যতার সাথে পরিচালনা করতেন (বিশেষত বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকাকালীন) এবং সঠিক সিদ্ধান্ত দিতেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্য কন্যা শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে গণভবন থেকে যোগদান করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গোপালগঞ্জ থেকে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা সংযুক্ত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, পাকিস্তানী সামরিক জান্তা বঙ্গমাতাকেও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল। যে কারণে তাঁকে (বঙ্গমাতাকে) বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। তিনি বলেন, বঙ্গমাতা জানতেন এবং তাঁর বড় মেয়ে হিসেবে আমিও বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছিলাম। কিন্তু তিনি কখনও মনোবল হারাননি। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতাকে প্যারোলে মুক্তি দিলে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বাকী আসামীদের কি হবে সেটা সব সময়ই বঙ্গমাতার চিন্তায় ছিল, কেননা ৩৫ জন আসামীর মধ্যে সার্জেন্ট জহুরুল হককে কারাগারেই হত্যা করেছিল পাকিস্তানী সামরিক জান্তা। এ সময় জাতির ক্রান্তিলগ্নে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রদানের সময়ও বঙ্গবমাতা যে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন তার উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি কোন লিখিত ভাষণ ছিল না বা এজন্য বঙ্গবন্ধু কোন রিহার্সেলও করেননি। ভাষণ দিতে যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুকে একটি কক্ষে খানিকটা বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়ে বঙ্গমাতা তাঁকে একান্তে যে কথা বলেন, সে সময়ে সে কক্ষে উপস্থিত পরিবারের অপর সদস্য শেখ হাসিনা সে কথাও ভাষণে তুলে করেন। বঙ্গমাতা বলেছিলেন,তুমি বাংলার মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছ কাজেই তুমি জান কি বলতে হবে। তোমার মনে যা আসে তাই বলবে, কারো কথা শোনার দরকার নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জাতির পিতার ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে ইউনেস্কো কতৃর্ক বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে তাঁর স্থান করে নিয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বঙ্গমাতার অবদান স্মরণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনে বঙ্গমাতার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল যেখানে সে সময়কার অনেক বড় বড় নেতারাও বিভ্রান্তিতে পড়ে গিয়েছিলেন। শিশু একাডেমি প্রান্ত থেকে বঙ্গমাতার জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে একশ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ল্যাপটপ, দরিদ্র, অসহায় নারীদের মধ্যে ৩২শ সেলাই মেশিন এবং ১৩শ দরিদ্র নারীকে নগদ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা করে প্রদান করেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তন প্রান্ত থেকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তারও বক্তৃতা করেন। গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। এছাড়া অনুষ্ঠানে সংযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার জীবন ও কর্মের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়। ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাতির পিতার সহধর্মিনী এবং শেখ হাসিনার মা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের নির্মম বুলেটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারের নিহত তিনি। বঙ্গমাতার সংগ্রাম ও ত্যাগের কিছু খন্ড চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ত্যাগের মধ্যে দিয়ে একটা সংসারকে সুন্দর করা যায়, একটা প্রতিষ্ঠানকে সুন্দর করা যায়, একটা দেশকে সুন্দর করা যায়। তিনি বলেন, আব্বার যে আর্দশ, সেই আর্দশটা তিনি খুব সঠিক ভাবে তিনি ধারণ করেছিলেন। আর সেটা ধারন করেই তিনি নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করে দিয়ে গেছেন। চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে উঠে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার চেয়ে বড় আর কিছু হয় না। আমার মা সেই দৃষ্টান্তই দেখিয়ে গেছেন, যোগ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, মহীয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর এবং বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা। বঙ্গমাতা অসাধারণ বুদ্ধি, সাহস, মনোবল, সর্বসংহা ও দূরদর্শিতার অধিকারী ছিলেন এবং আমৃত্যু দেশ ও জাতি গঠনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বঙ্গমাতার জন্মদিন। সেই জন্মের পর ৩ বছর থেকেই পিতা মাতা সব হারিয়ে সারাটা জীবন শুধু সংগ্রামই করে গেছেন। কষ্টই করে গেছেন। কিন্তু এই দেশের স্বাধীনতা, এই স্বাধীনতার জন্য তিনি যে কত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন সেটা আমরা জানি। সংসার সামলে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তার সহধর্মিনী সহযোগিতা করতেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কাজে আমার মাকেও দেখেছি বাবার পাশে থেকে থেকে সহযোগিতা করেছেন। কখনো সংসারের কোন সমস্যা নিয়ে বিরক্ত করেননি বা বলেনও নি। তিনি বলেন, বেশির ভাগ সময়ই তো আমার বাবা কারাগারে ছিলেন। একটানা দুই বছরও তিনি কারাগারের বাইরে থাকেন নি। কিন্তু আমার মা যখন কারাগারে দেখা করতে যেতেন তখন মা নিজেই বলতেন, চিন্তার কিছু নেই। সব কিছু তিনি নিজেই দেখতেন । আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমাদের মানুষ করার দায়িত্ব আমার মায়ের হাতেই ছিল। তার পাশাপাশি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ প্রতিটি সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। নির্দেশনা দেওয়া বা বাইরের অবস্থা জেলখানায় থাকা আব্বাকে জানানো, বাবার নির্দেশনা নিয়ে এসে সেগুলো পৌঁছে দেওয়া। এই কাজগুলো তিনি খুব দক্ষতার সঙ্গে করতেন। বঙ্গমাতার মধ্যে কোন অহমিকা বোধ ছিল না, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা যখন প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফিরে এলেন তখনও কিন্তু আমার মায়ের মধ্যে এই অহমিকা বোধ কখনো ছিল না এবং তিনি কখনো সরকারি বাস ভবনে বসবাস করেননি। কাজের জন্য আমার বাবা সকালে চলে আসতেন, বাড়ি থেকে নাস্তা করে চলে আসতেন। আবার দুপুরে আমার মা নিজের হাতে রান্না করে টিফিন ক্যারিয়ারে করে খাবার পাঠিয়ে দিতেন। রান্নাটা সব সময় নিজের হাতে করতেন। তিনি যে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী পাকের ঘরে গিয়ে রান্না করবেন সেই সমস্ত চিন্তা তার কখনো ছিল না, বলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের মায়ের হাতের রান্না সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার মায়ের হাতের রান্না খুবই সুস্বাধু ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শিক্ষা পেয়েছি বাবা-মায়ের কাছ থেকে মাটির দিকে তাকিয়ে চলার। অন্তত তোমার চেয়ে খারাপ অবস্থায় কে আছে তাকে দেখো। উপরের দিকে না, তোমার চেয়ে কে ভালো আছে সেটা তোমার চেয়ে খারাপ যারা আছে তাদের দিকে দেখো এবং সেটাই উপলব্ধি করো। কখনো নিজের দৈন্যতার কথা বলতেন না। কখনো কোন চাহিদা ছিল না। নিজে কোন দিন কিছু চাননি। সব সময় তিনি দিয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন তাঁর মা গণভবনে বা সরকারি বাস ভবনে না থাকার কারণ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বলতেন (বঙ্গমাতা) আমার ছেলে মেয়েকে নিয়ে সরকারি বাস ভবন বা শানশওকতে থাকবো না। তারা বিলাসী জীবনে অভ্যস্থ হোক সেটা আমি চাই না। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, বিলাসিতায় আমরা যেন গা না ভাসাই সেটার ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। তিনি সব সময় আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছেন। বঙ্গমাতার দৃঢ়চেতা মনভাবের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট বেগম ফজিলতুন নেছা মুজিব খুনিদের কাছে জীবন ভিক্ষা চাননি। নিজেও বাঁচতে চাননি। তিনি সাহসের সঙ্গে একথাই বলেছেন-আমার স্বামীকে হত্যা করেছো, আমি তাঁর কাছেই যাব। শেখ হাসিনা বলেন, সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কাজেই জীবনে-মরণে তিনি আমার বাবার একজন উপযুক্ত সাথী হিসেবেই চলে গেছেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর