মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ১৮ দিনে গ্রেফতার ১০৯
১৮জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ১০৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পুলিশ সদর দপ্তর এ তথ্য জানায়। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা জানান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মহাসড়কে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে অভিযান শুরু করে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি থেকে অবৈধভাবে চাঁদা তোলার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ১০৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ যানবাহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ লক্ষে সড়ক ও পরিবহণ মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সভায় আলোচনার পর তিনি পুলিশের ইউনিটগুলোকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। যানবাহনে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
হামলা মোকাবিলায় সক্ষম আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই
১৮জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রযুক্তি নির্ভর অত্যাধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে প্রচেষ্টার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হামলা হলে যেন যথাযথভাবে তার মোকাবিলা করতে পারি, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেই রকম আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বানৌজা সংগ্রাম এর কমিশনিং অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না, আমরা শান্তি চাই। আমরা শান্তি চাই এটা যেমন সত্য, আবার যদি কেউ আমাদের ওপর হামলা করে, তা যেন আমরা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারি। তাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেখানে আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে রাখছি- আমাদের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যেন আধুনিক জ্ঞান সম্পন্ন হয়। সমুদ্রসীমা ও সম্পদ রক্ষায় শক্তিশালী নৌবাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সমুদ্রসীমা রক্ষার জন্য আমাদের নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন এবং ইতোমধ্যে আমরা অনেক আধুনিক সরঞ্জামাদি কিনেছি। এই সমুদ্রসীমা আমাদের রক্ষা করা, এই সমুদ্র সম্পদ আমাদের কাজে লাগানো, আমাদের অর্থনীতিতে সমুদ্র সম্পদ আমরা কীভাবে ব্যবহার করব, কীভারে রক্ষা করব, সেগুলো আমাদের প্রয়োজন ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে আমাদের দুই প্রতিবেশী একদিকে মিয়ানমার আরেকদিকে ভারত, দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেও আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে আমরা আমাদের সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। জাহাজশিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড নৌবাহিনীর হাতে দিয়ে দিই, পাশাপাশি ড্রাই ডক নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের দুইটা ড্রাইডকই আমরা নৌবাহিনীকে দিয়ে দিয়েছি। আমরা নিজেদের দেশে স্বল্প পরিসরে জাহাজ বানানো শুরু করেছি। মেরামতের কাজও আমরা করছি। বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে যৌথভাবে যেখানে যা প্রয়োজন আমরা করে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের নিজেদেরও শিখতে হবে, প্রস্তুত হতে হবে, জানতে হবে, প্রযুক্তি জানতে হবে, আগামীতে জাহাজগুলো আমরা যাতে নিজেরা তৈরি করতে পারি, আমরা প্রয়োজনে রপ্তানি করতে পারি, সেই চিন্তাটাও মাথায় থাকতে হবে। আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌবাহিনী এখন একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী। নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নৌবহরে সংযোজন করা হয়েছে নতুন এই করভেট ক্লাস যুদ্ধজাহাজ বানৌজা সংগ্রাম। চট্টগ্রাম বানৌজা ইশা খাঁ নৌ জেটিতে বানৌজা সংগ্রাম-এর কমিশনিং অনুষ্ঠান হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই যুদ্ধজাহাজটির কমিশনিং অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম বানৌজা ইশা খাঁ নৌ জেটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী জাহাজের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এফএম আরিফুর রহমান ভূঁইয়ার হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন। কমিশনিং শেষে জাহাজটি আগামী ৯ জুলাই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে লেবাননের উদ্দেশে যাত্রা করবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন এ যুদ্ধজাহাজটি দেশের সমুদ্রসীমা পেরিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবৈধ-অনৈতিক ওয়েব কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে : তথ্যমন্ত্রী
১৭জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, অবৈধ অনৈতিক ওয়েব কনটেন্টের বিরুদ্ধে সরকার আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি আজ দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সম্প্রতি কিছু ওয়েবসিরিজের আপত্তিকর দৃশ্যাবলী নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ও তথ্যসচিব কামরুন নাহার এসময় উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী ওয়েব সিরিজ নিয়ে এ ধরণের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কানোভাবেই এ ধরণের আপত্তিকর বা পর্নোগ্রাফির মতো কোনো কনটেন্ট আপলোড করা সমীচীন নয় এবং এটি ২০১২ সালে প্রণীত ভিডিও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যারা এগুলো করেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করা যাবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদন্ড -এটি ভিডিও পর্নোগ্রাফি আইনে বলা আছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার আগেও বিষয়টি আমাদের নোটিশে এসেছে এবং গ্রামীণ ও রবি দুটি মোবাইল কোম্পানির দুটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানীর মাধ্যমে আপলোড করা এ ধরণের যে কনটেন্টের ব্যাপারে অভিযোগ এসেছে, তা আমরা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশান রেগুলেটরি কমিশন -বিটিআরসিকে জানিয়েছি বলেন মন্ত্রী। প্রথমত: তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরণের কনটেন্ট আপলোড করার আইনগত অনুমোদন আছে কিনা সেটি আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছি উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, যদি আইনগত অনুমোদন না থাকে তাহলে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। আর যদি আইনগত অনুমোদন থাকেও, ভিডিও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কনটেন্টগুলোর আইনভঙ্গ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সুতরাং সরকার এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তথ্যমন্ত্রী এসময় করোনা সংক্রমণের জোন বিভাজন ও লকডাউনের বিষয়ে বলেন, করোনায় উচ্চ, মধ্য ও স্বল্প সংক্রমণ এলাকা চিহ্নিতের কাজ চলছে, আজ পর্যন্ত শুধু ঢাকার পূর্ব রাজাবাজার পরীক্ষামূলক লকডাউনে রয়েছে। ড. হাছান বলেন, আপনারা জানেন যে, আমরা একটা বৈশ্বিক মহামারির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছি। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন উন্নত দেশে এবং যে সমস্ত দেশে সংক্রমণ অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে গিয়েছে। তারাও জীবিকা রক্ষার তাগিদে সেখানে সবকিছু খুলে দিয়েছে। আজকের পত্রিকাতেই এসেছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের গত ১০০ দিনের মৃত্যুর হারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পৃথিবীতে সর্বনির দেশগুলোর মধ্যে একটি। জনজীবন রক্ষার নতুন পদক্ষেপ হিসেবে সরকার দেশকে বিভিন্ন জোনে-অতিসংক্রমিত, মধ্যম সংক্রমিত, কম সংক্রমিত বা সংক্রমণ হয়নি এমন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করার কাজ করছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও পর্যন্ত শুধু ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারকেই পরীক্ষামূলক ভাবে স্থানীয় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, অন্য কোথাও নয়। এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও যদি কোথাও লকডাউন ঘোষণা করা হয়, সেখানে কি কি করা যাবে সে নির্দেশনা দেয়া হবে। সবাইকে অনুরোধ জানাবো, ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে যাতে আমরা এমন কিছু না করি বা এমন কিছু না ছড়াই যাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সরকারের সমস্ত প্রচেষ্টার সাথে আমরা ব্যক্তিগতভাবে যদি সচেতন থাকি, তাহলেই আমাকে কোভিড-১৯ এর হাত থেকে রক্ষা করা সহজ হবে, স্মরণ করিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী।
রানি এলিজাবেথের জন্মদিনে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
১৭জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৯৪ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রানি এলিজাবেথকে পাঠানো পৃথক বার্তায় তারা এ শুভেচ্ছা জানান। বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্মদিন উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তার দীর্ঘায়ু, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী গত ১২ জুন রানিকে এ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের কারণে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ৯৪তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান বাতিল করেছে যুক্তরাজ্য। রানি এলিজাবেথের ৬৮ বছরের রাজত্বের ইতিহাসে এ প্রথম তার জন্মদিনের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
মুসাপুত্র হাজ্জাজের ভারতবিরোধী পাঁয়তারা কার মদদে
১৭জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ক্ষমতাসীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশের ভেতরে নানা ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও অপতৎপরতা চালাচ্ছেন মুসা বিন শমসেরের পুত্র ববি হাজ্জাজ। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভাঙার এজেন্ডা নিয়ে অপচেষ্টায় মেতেছেন অস্তিত্ব সংকটে ভোগা এই তরুণ। অভিযোগ আছে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ববির বাবা এবং সমালোচিত-বিতর্কিত অস্ত্র ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা চলছে। একই সাথে যুদ্ধাপরাধের মুসার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলমান রয়েছে। আর এসব কিছু থেকে সংশ্লিষ্টদের নজর অন্যত্র সরিয়ে নিতেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন মুসা পুত্র ববি। এই কাজে দ্রুত সফলতা পেতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে হেয় করার নীল নকশা এঁকেছেন ববি হাজ্জাজ। এরজন্য সহজতম টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করেছেন প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে। সম্প্রতি ভারত, ভারতীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতিসহ বেশকয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন ববি। নানান অগ্রহণযোগ্য বর্ণনায় মন্তব্য করছেন দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে নিয়েও। ব্যক্তিগতভাবে বা পারিবারিক ইতিহাসে অতীতে কখনও রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও রীতিমতো রাজনৈতিক বোদ্ধা সেজে সেসব মন্তব্য করছেন ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে। বাংলাদেশ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশের ভেতরে থেকেই ভারত ইস্যুতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছেন ববি হাজ্জাজ। অভিযোগ আছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা আরেক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের একটি মহলের মদদে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় এমন কর্মকাণ্ড ববির। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত এবং বাংলাদেশ যখন একসাথে কাজ করে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েও ভারতকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন অস্ত্র বিক্রির দালালি করে কথিত ধনী হওয়া মুসা পুত্র ববি। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের অসামান্য অবদান ভুলে গেলেও গেল মে মাসেই বাংলাদেশকে তৃতীয় দফায় করোনা শনাক্তকরণ কিট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছে দেশটি। দেশটির প্রধান দুই দল বিজেপি বা কংগ্রেস; ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন বাংলাদেশের পাশে সবসময়ই ছিল ভারত। আর সেই ভারতের বিরুদ্ধেই অনলাইন-অফলাইন দুই মাধ্যমেই অপপ্রচার চালাচ্ছেন ববি হাজ্জাজ এবং তার বিতর্কিত রাজনৈতিক দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। ২০১৯ সালের শেষ দিকে ভারতের সমালোচনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফাটল ধরাতে সীমান্ত অভিমুখে যাত্রা শিরোনামের কর্মসূচি দিয়ে চেষ্টা করেছেন দেশের ও দেশের বাইরে মনোযোগ আকর্ষণের। অবশ্য দেশের ভেতরেই জনগণের সাড়া না পাওয়ায় ভেস্তে যায় সেই কর্মসূচি। নিজের অবৈধ অর্থে কেনা গুটিকয়েক অনুসারী বাদে এনডিএমের সেসব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের কোনো উপস্থিতি ছিল না। কিছুই যখন কাজে আসছিল না তখন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেন ববি হাজ্জাজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট ইউটিউবে বিভিন্ন সময় ভারতবিদ্বেষী কনটেন্ট পোস্ট করে আসছেন তিনি। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব কনটেন্ট শেয়ার করে দ্রুত ভাইরাল করার অপচেষ্টাও করেন তিনি। তরুণ প্রজন্মের মাঝে প্রতিবেশী বিরোধী আক্রমণাত্মক মনোভাব জাগিয়ে তুলতেও চেষ্টা রয়েছে তার। আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, বাংলায় লেখা এধরনের বেশিরভাগ পোস্টের ইংরেজি অনুবাদও যুক্ত করে দিতেন ববি। অথচ নিজের ভেরিফায়েড পেইজের অন্যান্য স্বাভাবিক পোস্টে ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন না তিনি। গত ১ মার্চ নিজের পেইজে সে নো টু মোদী অর্থাৎ মোদীকে না বলুন শিরোনামে একটি পোস্ট করেন ববি হাজ্জাজ। দলের যুব নেতাদের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদানের আহবান জানান। অবশ্য সেখানেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গেল বছরের ৯ নভেম্বর ভারতের বিরুদ্ধে মনোযোগ আকর্ষণে ধর্মকে পুঁজি করে আরেকটি পোস্ট করেন ববি। তবে এতকিছু করেও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিনষ্ট করা যাবে না বলে দৃঢ বিশ্বাস পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের। ববির এহেন কর্মকাণ্ড নিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমি তার (ববি) এমন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না, এখনও সেগুলো দেখিনি। তবে এমন কর্মকাণ্ড যে বাংলাদেশ থেকে হচ্ছে না, তা না। অনেকেই অনেক জায়গা থেকে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্ক বিনষ্ট করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা সফল হবেন না এটাও বলে দিচ্ছি। ভারত, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক বোঝাপড়ার, পারস্পরিক শ্রদ্ধার। ববি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরও বলেন, আপনি (প্রতিবেদক) তার কার্যকলাপ সম্পর্কে যেমনটা বললেন, এমনটা হচ্ছে কিছু জ্ঞানপাপীর কাজ। সমাজের একজন পরিচিত মুখ যখন এমনটা করে থাকেন, তখন সেটা সত্যিই দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত। আমাদের পররাষ্ট্র নীতিই হচ্ছে, সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথেই বৈরিতা নয়। তাহলে কারও কারও এমন কার্যকলাপ মোটেই কাম্য নয়।- বাংলানিউজ
আইজিপির কঠোর নির্দেশে ৫২ মানবপাচারকারী আটক
১৬জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে ও সংবাদপত্রের খবরে বেরিয়ে আসে, দেশীয় দালালদের সহযোগিতায় মানবপাচারের শিকার হয়েছিলেন ওই ২৬ জন। গত ২৮ মের সেই ঘটনার পর মানবপাচারে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর নির্দেশনা দেন মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ৫২ মানবপাচারকারী গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, লিবিয়ায় মানবপাচারের শিকার ২৬ বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের পর এ বিষয়ে আয়োজিত এক ভিডিও কনফারেন্সে পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ মানবপাচারে যুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। দেশের প্রত্যেক মানুষের জীবনের মূল্য অপরিসীম এবং দেশে বা দেশের বাইরে বাংলাদেশের সম্মানিত কোনো নাগরিকের এমন মৃত্যুকে সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন আইজিপি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটসমূহের কমান্ডারদের এ সংক্রান্ত ব্যাপারে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। তার নির্দেশনার আলোকে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ইউনিটসমূহ ব্যাপক তৎপরতা চালায় এবং মানবপাচারের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত ২৬ মামলায় ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, ডিএমপি ও Rab সহ অন্যান্য ইউনিট।
করোনা আক্রান্ত বিচারকদের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি
১৬জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিচারকদের সাথে কথা বলেছেন এবং সার্বক্ষণিক তাদের খোঁজ খবর রাখছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানান। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতের ১৩ জন বিচারক এবং ২৬ জন কর্মচারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন। আদালতের বিচারক ও কর্মচারীদের বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত সারাদেশের অধঃস্তন আদালতের ১৩ জন বিচারক এবং ২৬ জন কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে আছেন আরো ৪ জন বিচারক। আক্রান্ত ১৩ জন বিচারকের মধ্যে দুই জন সুস্থ হয়ে আবার কাজে যোগদান করেছেন। তবে বর্তমানে একজন বিচারক ঢাকা সিএমএইচে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। তাকে প্লাজমা থেরাপি দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরো একজন বিচারক। এছাড়া করোনা আক্রান্ত ৯ জন বিচারক বর্তমানে নিজ নিজ বাসয় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র বলেন, করোনায় আক্রান্ত বিচারকদের সাথে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন কথা বলেছেন এবং সার্বক্ষণিক তাদের খবর রাখছেন। এছাড়া ২৬ জন কর্মচারীর চিকিৎসা বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিমকোর্ট থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা জজগণকে অনুরোধ করা হয়েছে। আর প্রধান বিচারপতির নির্দেশে করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান বিচারপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী অধস্তন আদালতের বিচারকদের করোনা সংক্রান্ত চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আর একটি কমিটি সার্বক্ষণিক দায়েত্ব পালন করছে।
৮ পণ্যের লাইসেন্স বাতিল করলো (বিএসটিআই)
১৬জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় ৬টি প্রতিষ্ঠানের ৮টি পণ্যের অনুকূলে প্রদত্ত লাইসেন্স বাতিল করেছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন-২০১৮ এর ১৬(৫) ধারা এবং লাইসেন্সিং এগ্রিমেন্ট মোতাবেক এসব লাইসেন্স বাতিল করা হয়। আজ মঙ্গলবার বিএসটিআই থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈধ লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে এসব পণ্য বিক্রয়-বিতরণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ প্রদান করা হলো। একইসাথে ক্রেতা সাধারণকে এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। এতে বলা হয়, বৈধ লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে এসব পণ্য বিক্রয়-বিতরণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ প্রদান করা হলো। একইসাথে ক্রেতা সাধারণকে এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। লাইসেন্স বাতিল করা পণ্যগুলো হলো- রংপুর কোতয়ালীর গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোল্ট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের বাসমতি ব্র্যান্ডের ফর্টিফাইড এডিবল রাইস ব্রান অয়েল, সাভারের আশুলিয়ার ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টস লিমিটেডের ইফাদ সলিড গোল্ড ব্র্যান্ডের ফর্টিফাইড এডিবল রাইস ব্রান অয়েল, ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পিউরিভা ও রাইপ ব্র্যান্ডের ফর্টিফাইড এডিবল রাইস ব্রান অয়েল, নরসিংদীর শিবপুরের গ্রিন ট্রেড হাউজের টেস্টি ব্র্যান্ডের ফর্টিফাইড পাম অলিন, চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের ওকে ব্র্যান্ডের ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল ও ফর্টিফাইড পাম অলিন এবং রংপুরের মিঠাপুকুরের আরডি জুসিলা ও আরডি ফজলী ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংকস।