করোনায় মারা যাওয়া ৩ সাংবাদিকের পরিবারের পাশে আইজিপি
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিন সাংবাদিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পুলিশ মহাপরির্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের তিনি দিয়েছেন আর্থিক অনুদান ও ঈদ উপহার। বুধবার দুপুরে পুলিশ সর প্তরে আইজিপির পক্ষ থেকে লাখ টাকার চেক ও উপহার তুলে দেন অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্ব) এস এম রুহুল আমিন। গত ২৮ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান দৈনিক সময়ের আলোর নগর সম্পাদক হুমায়ুন কবির খোকন। পরে ৬ মে একই পত্রিকার সেন্ট্রাল ডেস্কের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহমুদুল হাকিম অপু ও ৭ মে ভোরের কাগজের অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক আসলাম রহমান করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের পরিবারকে বুধবার দেওয়া হয় এই সহায়তা। এ সময় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু, পুলিশ সদর প্তরের সহকারী মহাপরির্শক (গণমাধ্যম) সোহেল রানা, জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সমকাল। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক আসলাম রহমানের স্ত্রী আইজিপির পক্ষ থেকে দেওয়া চেক গ্রহণ করেন। আর হুমায়ুন কবির খোকন ও মাহমুদুল হাসান অপুর পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ থাকায় তাদের পক্ষে চেক নেন ক্র্যাব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ সদর প্তর জানিয়েছে, সাংবাদিকদের যে কোনো সংকটে পাশে থেকেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গে মারা যাওয়া তিন সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন আইজিপি।
ঘূর্ণিঝড় আম্পান,বাংলাদেশে ৫ জনের মৃত্যু
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বাংলাদেশ অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এতে এরই মধ্যে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতদের মধ্যে দুজন পটুয়াখালীর, দুজন ভোলার এবং একজন সন্দীপের। এদিকে সাতক্ষীরা, মোংলা, হাতিয়ার চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস। বাগেরহাটের শরণখোলায় দুই কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। আম্পানের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। সাতক্ষীরায় প্রচণ্ড দমকা হাওয়ার সঙ্গে অশান্ত নদীগুলো। স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ থেকে ৭ ফুট বেড়েছে নদীর পানি। সেইসঙ্গে বাধ ভেঙ্গে যাওয়ার উৎকণ্ঠা। এমন পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা বালুর বস্তা ফেলে বেড়িবাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালান। হুহু করে পানি বাড়ায় সাথে সাথে প্লাবিত হতে থাকে পটুয়াখালীর নিম্নাঞ্চল। মুহূর্তেই জেলার ১৭টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। কলাপাড়া উপজেলার ধানখালি এলাকায় সাইক্লোন শেল্টারে লোকজনকে নিয়ে আসার সময় নৌকা ডুবিতে মারা গেছেন সিপিপির টিম লিডার শাহ আলম। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় গাছ পড়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে ভোলায় ট্রলারডুবে একজন এবং গাছ পড়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খুলনা উপকূলে দিনভর ভারী বৃষ্টি সেইসঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বইছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপকূলের কাছাকাছি আসার সাথে সাথে বাড়তে থাকে তাণ্ডব। কোথাও কোথাও ৭ থেকে ৮ ফুট উঁচুতে জলোচ্ছ্বাস হয়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভোলায় টানা ধমকা হাওয়া বইছে। বড় বড় ঢেউ আছরে পড়ে নদীর তীরে। জোয়ারের পানি বেড়ে ২০টি চর প্লাবিত হওয়ায় ২৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগেরহাটের শরণখোলায় বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয় স্থানীয়দের। সন্ধ্যার পরে বরিশালে ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকে বাতাস। ঘূর্ণিঝড় থেকে বাচতে নিরাপদ আশ্রয় নেন এলাকাবাসী। এসময় বিদ্যুৎ চলে যায় অনেক এলাকায়।
প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করলেন চীনের প্রেসিডেন্ট
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে একটি অভিজ্ঞ দল পাঠানোর ইচ্ছা পোষণ করেছে বেইজিং। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বুধবার (২০ মে) বিকেলে টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে চীন থেকে অভিজ্ঞ দল পাঠাতে প্রস্তুত চীন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার বিকেল ৫টার পর শি জিনপিং ও শেখ হাসিনা টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় দুই শীর্ষ নেতা প্রায় ২৫ মিনিট ধরে নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে সহায়তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন গতিশীল করতেও চীন প্রস্তুত রয়েছে বলে শেখ হাসিনাকে জানান শি-জিনপিং৷ মহামারির এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও চীন বাংলাদেশের জন্য সমর্থন দিয়ে সহায়তা করবে বলেও আশ্বস্ত দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে। টেলিফোন সংলাপে দুই নেতা করোনা সামাল দিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের উপর গুরুত্বারোপ করেন। কথোপকথনে শেখ হাসিনা, বিভিন্ন সময়ে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সুরক্ষা সরঞ্জামসহ চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহের জন্য ধন্যবাদ জানান শি জিনপিংকে। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত কূটনৈতিক সম্পর্কের আওতায় আরও কাজ করার বিষয়েও ঐক্যমত্য প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা ও শি-জিনপিং৷
প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের শুধু জীবন নয়, জীবিকা রক্ষারও পদক্ষেপ নিয়েছেন
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকা রক্ষা, মসজিদে নামাজ আদায় সম্ভবত: বিএনপির সহ্য হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ দপ্তর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মন্ত্রীর পারিবারিক সংস্থা এনএনকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়া এবং আংশিক বোয়ালখালী উপজেলার সকল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ঈদ উপহার ও ইফতারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবার পর সাংবাদিকদের একথা বলেন। লকডাউন শিথিল করে সরকার ভয়াবহ ভুল করেছে-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এ বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ছোট দোকানদারা কিছু বিক্রি করে যে তাদের বাচ্চা-কাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য কিছুটা হলেও মুনাফা পাচ্ছে, জীবিকা নির্বাহ করার সুযোগ পাচ্ছে, মানুষ যে মসজিদে গিয়ে শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ পড়ছে- এগুলো সম্ভবত তাদের (বিএনপির) সহ্য হচ্ছে না। তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের শুধু জীবন নয়, জীবিকা রক্ষারও পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছেন, ইতোমধ্যেই এক-তৃতীয়াংশ জনগণ যার আওতায় এসেছে, পাশাপশি আওয়ামী লীগের ত্রাণ পেয়েছে ১ কোটিরও বেশি মানুষ। মনে রাখতে হবে, এদেশের কোটি কোটি খেটেখাওয়া মানুষ প্রাত্যহিক উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। সেটি মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে কিছু দোকানপাট খুলে দেয়া, লকডাউন কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ড. হাছান বলেন, একইসাথে মানুষ যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে বারংবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। অথচ এগুলো বিএনপির সহ্য হচ্ছে না বলেই মঙ্গলবার ফখরুল সাহেব ও আগে বিএনপির অন্যান্য নেতারা সরকারের এই কার্যক্রমের সমালোচনা করেছে। বিশ্বের দিকে তাকিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে ভারতে প্রতিদিন ১ শর বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করছে, সেখানেও বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেখানে এখনো প্রতিদিন শতশত মানুষ মৃত্যুবরণ করছে, সেখানেও মানুষের জীবিকার কথা চিন্তা করে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। আমাদের দেশেও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে, তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে দোকান বা মার্কেট বন্ধও করে দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বিএনপিকে এ ধরণের সমালোচনা না করে একসাথে জনগণকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য কাজ করার অনুরোধ জানান। এই পরিস্থিতিতে আলেম-ওলামাদের যাতে অসুবিধা না হয়, সেটি মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রায় সবগুলো কওমি মাদ্রাসায় সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন, তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আজ আমাদের পারিবারিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমার নির্বাচনী এলাকার সমস্ত মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের হাতে আমরা ইফতার ও ঈদ উপহারসামগ্রী তুলে দিচ্ছি, বলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম তালুকদার, পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার, ড. হাছান মাহমুদের পারিবারিক সংস্থা এনএনকে ফাউন্ডেশনের অন্যতম পরিচালক মো. খালেদ মাহমুদ, শিক্ষক আবদুর রউফ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দীন তালুকদার, প্রচার সম্পাদক এমরুল করিম রাশেদ, মওলানা আইয়ুব নূরসহ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনবৃন্দ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।
করোনা উপসর্গ নিয়ে ফটো সাংবাদিকের মৃত্যু
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের উপসর্গে চলে গেলেন দৈনিক বাংলাদেশের খবরের ফটোগ্রাফার এম মিজানুর রহমান খান। তিনি বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-সম্পাদক। বুধবার (২০ মে) দুপুরে তিনি মারা যান। বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য বিপ্লব দীক্ষিত জানান, করোনাভাইরাসের উপসর্গে মারা গেছেন এম মিজানুর রহমান খান।তিনি বলেন, সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। সেখানে অপেক্ষারত অবস্থায় তিনি অসুস্থবোধ করেন। একপর্যায়ে পড়ে যান সেখানে। এরপর তাকে ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আম্পানের ক্ষতি মোকাবিলায় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আম্পানের ক্ষতি মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে ধেয়ে আসা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলার সার্বিক তদারকির অংশ হিসেবে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের বৈঠকে একথা বলেন তিনি। গণভবনে বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এই উচ্চপর্যায়ের সভা। এতে অংশ নেন ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সদস্যরা। সভায় প্রলয়ঙ্করী এই ঝড় থেকে জানমাল রক্ষাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়-আম্পানের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষতি সামাল দিতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা জারি রেখেছেন শেখ হাসিনা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে অধিবাসীদের সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশে শনাক্তের নতুন রেকর্ড
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৮৬ জনে। সেই সঙ্গে করোনা ভাইরাস শনাক্তে মোট ৪৩টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ১৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ১০ হাজার ২০৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে আরো ১ হাজার ৬১৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৭৩৮ জনে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, নতুন মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী এবং ৭ জন ঢাকার ভেতরের ও ৯ জন ঢাকার বাইরের। পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২১৪ জন সুস্থ হয়েছেন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২০৭ জনে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তারপর দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও।
আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮ লাখ মানুষ
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত ১৮ লাখ ৬১ হাজার ৬০ জন মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫০৫টি গবাদি পশু আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে। বুধবার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলী রেজা মজিদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র বেড়ে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬৩৬টি হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজনকে আনা হবে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বুধবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান বুধবার বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
মোংলা থেকে মাত্র ২৯০ ও কক্সবাজার থেকে ৪৭০ কি.মি. দূরে আম্পান, উত্তাল হচ্ছে সাগর
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাইক্লোন আম্পান বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় সুন্দরবনের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম শুরু করবে। এসময় বাতাসের গতি আগের অন্যসব ঝড়ের চেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। মোংলা ও পায়রা বন্দরে আগের মতোই ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আম্পান বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করবে। উপকূল অতিক্রম করার সময় অনেকখানি সময় ব্যয় হবে। তবে এতে আম্পানের শক্তি কমে যাবে এটা বলা যাবে না। এর বাতাসের গতি অন্যসব ঝড়ের চেয়ে বেশি। এটি এখন পর্যন্ত যে গতিতে আসছে তাতে সুন্দরবন দিয়ে অতিক্রম করবে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ফেনীতে ৭৫ মিলিমিটার। এছাড়া গোপালগঞ্জে ২১ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ৪২ মিলিমিটার, দিনাজপুরে ২৪, মোংলায় ৫৮, সাতক্ষীরায় ৩৫, বরিশালে ৪৯ এবং পটুয়াখালীতে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আম্পান উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ২০ মে বিকাল বা সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। সতর্ক সংকেতে আরও বলা হয়, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় জনিত জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে থেকে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। জোয়ারের পানি ৫-১০ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়ে আঘাত করছে ঝাউবিথীতে। এর ফলে ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পান কক্সবাজার থেকে ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। যার কারণে কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে কক্সবাজারে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি, ঝড়ো বাতাস ও সাগরের পানির উচ্চতা বেড়েছে। এটি সন্ধ্যা নাগাদ পুরোপুরি আঘাত হানতে পারে। তখন সাগরের জোয়ারের পানি ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ইতিমধ্যে উপকূলের ১৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে খাদ্য সামগ্রীও দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রায় ৭৫ হাজার জেলে এখন উপকূলে নিরাপদ আশ্রয় চলে এসেছে। আর ৫৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ ২২১টি স্কুল কলেজ আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। জেলা ও উপজেলাসমূহে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্মিলিতভাবে ঘূর্ণিঝড় আম্পানকে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় পাতার আরো খবর