শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়তে এক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
২৪,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২৪ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এমন আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মুজিব চিরন্তন প্রতিপাদ্যে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার ৮ম দিন আজ। এ দিনের থিম- শান্তি, মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এই শুভ মুহূর্তে আমি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক নেতা এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি একটি শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের বসবাস। এ অঞ্চলে যেমন সমস্যা রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা। আমাদের এ অঞ্চলের মানুষের রয়েছে অসম্ভব প্রাণশক্তি, উদ্ভাবন ক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে জয় করে টিকে থাকার দক্ষতা। পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রাপ্ত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আমরা সহজেই দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটাতে পারি। আমরা যদি আমাদের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যই লড়াই করেননি। তিনি বিশ্বের সব নিপীড়িতবঞ্চিত মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। তিনি শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ভুটান আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী বন্ধু-রাষ্ট্র। ভৌগোলিক নৈকট্য ছাড়াও আমাদের রয়েছে প্রায় একই ধরনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের অবস্থান প্রায় এক এবং অভিন্ন। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বহু প্রাচীন। ১০ম শতাব্দীতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী বৌদ্ধ ধর্মগুরু মহাসিদ্ধ তিলোপা তিব্বত-ভুটানে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভুটানের প্রয়াত মহামান্য তৃতীয় রাজা জিগমে দোর্জি ওয়াংচুক এবং সে দেশের জনগণ স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের শুধু সমর্থনই দেননি, সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভুটানের তরুণরা ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আহত এবং অসুস্থ বাঙালি শরণার্থীদের সেবা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ভুটানই প্রথম দেশ যে নাকি স্বাধীন বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় লাভের আগেই ৬ ডিসেম্বর ভুটান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। আমরা ভুটানের জনগণের সে অবদানের কথা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করি। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য আমরা ২০১২ সালে ভুটানের মহামান্য তৃতীয় রাজা জিগমে দোর্জি ওয়াংচুককে- বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার সম্মাননায় ভূষিত করেছি। দুই দেশের ব্যবসা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং ভুটানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভুটানি ছাত্র-ছাত্রী বাংলাদেশে চিকিৎসাশাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। আজকের সম্মানিত অতিথি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় গ্রাজুয়েশন করেছেন। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। ভুটানের মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগী হতে পেরে আমরা গর্বিত। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং বক্তব্য রাখেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে বন্ধু রাষ্ট্র ভুটানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।
বাজারে আসছে ৫০ টাকার তিন ধরনের নতুন মুদ্রা
২৪,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ টাকা মূল্যমানের স্মারক নোট ও ৫০ টাকা মূল্যমান রৌপ্য স্মারক মুদ্রা চালু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা শুধু সংগ্রহের জন্য নেওয়া যাবে। এছাড়া ৫০ টাকা মূল্যমানের প্রচলনযোগ্য স্মারক ব্যাংক নোটও বাজারে ছাড়বে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা দিয়ে কেনাবেচাসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে। ২৮ মার্চ থেকে এসব নোট বাজারে ছাড়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো তারা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসংবলিত বর্তমানে প্রচলিত ৫০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটে বিদ্যমান রং ও নকশা ডিজাইন (সম্মুখভাগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং পেছন ভাগে মই দেওয়া জলরং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন) অপরিবর্তিত রেখে নোটের সম্মুখভাগের ডান দিকে জলছাপ এলাকার কাছে লাল-সবুজ রঙে একটি পৃথক স্মারক লোগো সংযোজন করা হয়েছে। শতভাগ কটন কাগজে মুদ্রিত এবং গভর্নর ফজলে কবির স্বাক্ষরিত ৫০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ব্যাংক নোটটিতে ব্যাংক নোটের অন্য সব নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকবে। এই নোট ৫০ টাকা বিনিময়ের কাজে ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০ টাকা মূল্যের অন্য যে স্মারক নোট ছাড়বে তা শুধু সংরক্ষণের জন্য। এ স্মারক নোটের সামনের দিকের বামপাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি এবং নোটের ডানদিকে জলছাপ এলাকার নিকটে স্মারক লোগো মুদ্রিত রয়েছে। ৫০ টাকা মূল্যমান রৌপ্য স্মারক মুদ্রার ওজন ৩০ গ্রাম। স্মারক মুদ্রাটির সম্মুখভাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি (৭ মার্চের ভাষণ), প্রতিকৃতির নিচে মূল্যমান কথায় ও অঙ্কে পঞ্চাশ ৫০ টাকা এবং প্রতিকৃতির ওপরে অর্ধবৃত্তাকারভাবে- স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ১৯৭১-২০২১ লেখা রয়েছে। স্মারক মুদ্রার পেছন ভাগে ইংরেজিতে ৫০ এবং ঙ এর মাঝখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম ও এর নিচে ১৯৭১-২০২১ মুদ্রিত রয়েছে। রৌপ্য স্মারক মুদ্রাটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে স্মারক বাক্সসহ ৪,০০০ টাকা।- সূত্র : আরটিভি অনলাইন।
ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি ট্রেনের প্রস্তাবিত নাম মিতালী এক্সপ্রেস
২৪,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ২৭ মার্চ উদ্বোধন করা হবে ঢাকা থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি রুটে- মিতালী এক্সপ্রেস নামে ট্রেনের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রেনটির নাম দিয়েছেন- মিতালী এক্সপ্রেস। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের আপত্তি না থাকলে এই নামটিই চূড়ান্ত হবে। ট্রেনটি দুই দেশ থেকে সপ্তাহে দুদিন করে চলাচল করবে। বাংলাদেশ থেকে সোমবার এবং বৃহস্পতিবার ট্রেনটি যাত্রা করবে। অন্যদিকে ভারত থেকে রবিবার ও বুধবার যাত্রার প্রস্তাব করা হয়েছে। মঙ্গলবার রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, বাংলাদেশে সুর্বণজয়ন্তীর স্বাধীনতার ৫০ বছরে আগামী ২৭ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধনের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি রুটে নতুন আন্তঃদেশীয় মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভারতীয় রেকে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে সপ্তাহে রবিবার, বুধবার ও সোম ও বৃহস্পতিবার চলাচল করবে। মোট যাত্রীবাহী কোচ থাকবে আটটি। চারটি কেবিন কোচ ও চারটি এসি চেয়ার কোচ। ভাড়া রাখা হয়েছে এসি চেয়ার ২২ ডলার, এসি সিট ৩৩ ডলার ও এসি কেবিন (বার্থ) ৪৪ ডলার। সূত্র মতে, ট্রেনটি বাংলাদেশের নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি রেলপথ দিয়ে চলাচল করবে। এতে নীলফামারীর চিলাহাটি স্টেশনের জন্য দুটো পৃথক কোচ বরাদ্দ থাকবে। সমগ্র উত্তরবঙ্গের মানুষ চিলাহাটি থেকে ট্রেনে উঠে নিউ জলপাইগুড়ি যেতে পারবে এবং নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চিলাহাটি এসে নামতে পারবে।
৭ মার্চের ভাষণ সার্বজনীন মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার সমার্থক : ইউনেস্কো
২৪,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিক্ষা সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সার্বজনীন মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও মর্যাদার সমার্থক বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক সংস্থার (ইউনেস্কো) মহাসচিব আদ্রে আজোউলে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার ৭ম দিনে এক ভিডিও বার্তায় ইউনেস্কো মহাসচিব এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক এ গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেশটির স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়ায় বাংলাদেশ এবং বিশ্ব এই দিনটি উদযাপন করছে। ইউনেস্কো যে কারণে এই ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে, সেই একই কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে যোগ দিয়েছে। ইউনেস্কো মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের কয়েক বছর পরেই ইউনেস্কোতে যোগ দেয়। বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপনের আজ সেই ঐতিহাসিক দিন। আদ্রে আজোউলে বলেন, আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে, বিশেষত কন্যা শিশু এবং নারীদের অত্যন্ত সমৃদ্ধ সহযোগিতার ইতিহাসের উদযাপন করছি। তিনি বলেন, সহযোগিতার মধ্যে আরও রয়েছে- পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ শহর এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং বেশ কয়েকটি বাঙালি ঐতিহ্যের পাশাপাশি জামদানি শাড়ি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিশেষ করে বহুসংস্কৃতিবাদের ক্ষেত্রে ইউনেস্কো-বাংলাদেশ সহযোগিতা একটি নমুনা বলে উল্লেখ করেন মহাসচিব। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে ঢাকায় ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট রয়েছে এবং বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাই এজন্য যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে। আদ্রে আজোউলে বলেন, আমরা সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরষ্কার চালু করে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এই প্রতিশ্রুতি আরও জোরদার করব। বাংলাদেশ এবং ইউনেস্কোর এই বন্ধুত্ব আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ইউনেস্কো মহাসচিব। তিনি বলেন, আসুন এই মুহূর্তে আমরা আশাবাদী হই এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করি এজন্য যে, মানবতার পক্ষে এই লড়াই, একই সঙ্গে অধিকার বা স্বাধীনতার পক্ষে।
হাসিনা বেগমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
২৩,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজকের বিজনেস বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক, সাবেক ছাত্রনেতা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক মোঃ মেহেদী হাসান বাবুর রত্মগর্ভা মা ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এর সভাপতি এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেনের বড় বোন হাসিনা বেগমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার পালিত হয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের ২২ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। দীর্ঘদিন লিভারের জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। হাসিনা বেগম ছিলেন একজন সুগৃহীনী, পরোপকারী নারী। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ, নিউজ একাত্তর পরিবারসহ নানা সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ শোক পালন করেন। এ উপলক্ষ্যে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়িতে কোরআন খানী, মিলাদ মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করে তার পরিবার ।
জাতীয় বীরদের প্রতি ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
২৩,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্প স্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে আজ সকাল সাড়ে দশটায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতি সৌধে পৌঁছান। স্মৃতিসৌধে লোটে শেরিংকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল শাহীনুল হক, ঢাকার পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট মো. মারুফ হোসেন সরদার এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ। বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময়ে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। স্মৃিতসৌধে শেরিং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। ভুটনের প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইতে লেখেন, মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশের সাহসী সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমার জন্যে সম্মানের বিষয়। তাদের এই ত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় সমুজ্জ্বল থাকুক। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে তিনি একটি লটকন ফল গাছের চারাও রোপন করেন। এর আগে আজ সকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে যোগ দিতে তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকা এসে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ সময়ে রাষ্ট্রীয় অতিথির সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়।
ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী
২৩,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোতে শেরিং। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা এসেছেন তিনি। শেরিংকে বহনকারী বিমানটি আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বাংলাদেশ ও ভুটানের দুই নেতার সম্মানে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সফরকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ ছাড়া জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আজ বিকেলে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। লোতে শেরিং আজ সন্ধ্যায় সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত নৈশ ভোজে অংশ নেবেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ওই বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এরপর বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সন্ধ্যায় ঢাকায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে- মুজিব চিরন্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দেশটির রয়াল একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টসের (রাপা) ২২ জন শিল্পী এবং চার জন সাংবাদিক গত সপ্তাহে ঢাকায় এসেছেন। সফরকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করবেন। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সফর শেষে ভুটানে ফিরে প্রধানমন্ত্রীসহ প্রতিনিধিদলের সবাই ২১ দিন বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।
বঙ্গবন্ধুকে গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করায় বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা
২৩,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারত সরকার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। সোমবার (২২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক গান্ধী শান্তি পুরস্কার দিয়েছে। গান্ধী শান্তি পুরস্কার ভারত সরকার থেকে প্রদত্ত মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৯৫ সালে মহাত্মা গান্ধীর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গান্ধীজির মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারত সরকার এই পুরস্কার চালু করে। ২০১৯ সালে এই পুরস্কার পেয়েছেন ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাদ আল সাইদ।
দল-মত নির্বিশেষে হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
২২,মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার ও রাজনৈতিক দল যখন সততা, আন্তরিকতা দিয়ে জনস্বার্থে কাজ করে তখন জাতির উন্নতি ও কল্যাণ নিশ্চিত হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে দল-মত নির্বিশেষে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। মুজিববর্ষে এটাই হবে সবচেয়ে বড়ো অর্জন। সোমবার (২২ মার্চ) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ১০ দিনের আয়োজনের ষষ্ঠ দিনে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সোমবার আয়োজনের থিম: বাংলার মাটি আমার মাটি। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার পথে দ্রুত অগ্রসরমান। জলে-স্থলে-আকাশে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি দেশকে সোনার বাংলা হিসাবে গড়তে চেয়েছিলেন। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই আরাধ্য কাজ সম্পন্ন করেছেন, বাংলাদেশের স্থল ও সমুদ্রসীমা স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করেছেন। ৫৭তম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে যা সফলভাবে কাজ করছে। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার। তারই দেখানো পথে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে অযুত বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়। বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা, একটি ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে জাতি এগিয়ে যাক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে।

জাতীয় পাতার আরো খবর