ইংরেজী উচ্চারণে যারা বাংলা বলে তাদের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী
২১ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে যারা এদেশে জন্মেও ইংরেজী উচ্চারণে বাংলা বলে তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে থেকে যারা বাংলা ভাষা ভুলে গিয়ে বাংলা ভাষার মতো বাংলা বলতে পারে না, ইংরেজী অ্যাকসেন্টে কথা বলে, তাদের প্রতি করুণা করা ছাড়া আর কিছুই বলার নেই। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বরং তাঁর নিজের দেশের নিজের গ্রামের মানুষের মতো কথা বলতেইতো বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানীর সেগুন বাগিচাস্থ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অমর একুশে ফেব্রুয়ারী এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ছেলে-মেয়ে বাংলা ভাষায় কথা বা নিজের এলাকার কথা বলাটা (আঞ্চলিক ভাষা) ভুলে গিয়ে কেমন যেন ইংরেজী অ্যাকসেন্টে বাংলা বলার চেষ্টা করে। মনে হচ্ছে বাংলা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যারা এই দেশেই লেখাপড়া শিখেছে। তিনি এ সময় ৭৫ সালে জাতির পিতার হত্যাকান্ডকে সমগ্র জাতির মতো তাঁদের ব্যক্তি জীবনের দুর্ভাগ্য উল্লেখ করে বলেন, জাতির পিতা হত্যাকান্ডের পর দেশে আসতে না পারায় তাঁদের ছেলে-মেয়েদের বিদেশে থেকে বিদেশের স্কুলে পড়তে হলেও তাঁরা দুই বোন (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা) সবসময় চেষ্টা করেছেন তাঁদের ছেলে মেয়েরা যেন সঠিকভাবে বাংলা বলতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি ও রেহানা সবসময়ই ছেলে-মেয়েদের বাংলা শেখাবার চেষ্টা করেছি এবং ঘরে বাংলায় কথা বলেছি। কারণ বাংলা ভাষাটা শিখতে হবে। নিজেও ভালভাবে কথা বলার ক্ষেত্রে গোপালগঞ্জ এবং ঢাকার ভাষা মিলিয়েই কথা বলে থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু ছোটবেলায় ঢাকায় চলে এসেছি সেই ভাষার একটা প্রভাব, আর টুঙ্গীপাড়ায় জন্মেছি তাঁর একটা প্রভাব-সব মিলিয়েই বলি, যার মধ্যে কোন লজ্জা নেই। বন্ধবন্ধু কন্যা জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জাতির পিতা সেই ভাষণে গোপালগঞ্জের শব্দ বলে গেছেন অকাতরে যা মানুষের ভেতর একটা আবেদন সৃষ্টি করেছিল। ‘জাতির পিতা দ্রুত মানুষের হৃদয়ে, মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। মানুষের কথা বলতে পেরেছিলেন। সেটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে তিনি যে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষ সেটা কিন্তু গ্রহণ করেছে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটে একটি ট্রাষ্ট ফান্ড গঠন করে সেখান থেকে ফেলোশিপ প্রদানেও তাঁর সরকারের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান। যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও এটি আর কেউ বন্ধ করতে না পারে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং হেড অব দ্যা অফিস এন্ড ইউনেস্কো রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজ বিয়ট্রিজ কালডুন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতার সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং আন্তজাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আন্তজাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে বিশ্বের সকল মাতৃভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহন করায় বিভিন্ন দেশের কোমলমতি শিশুরা নিজস্ব মাতৃভাষায় অনুভূতি ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিজর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা অটিজম আন্দোলনের অগ্রপথিক সায়মা ওয়াজেদ হোসেন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, মন্ত্রি পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক এবং মিশন প্রধানসহ উন্নয়ন সহযোগি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ,একুশে পদক বিজয়ী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সমবেত কন্ঠে সকলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয় এবং এরপরই অমর একুশের গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি বাজানো হয়। শহীদদের স্মরণে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটে পৌঁছেইএর সম্মুখ দেওয়ালে জাতির পিতার একটি ম্যুরাল উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইমেন্ট অফিসার আরিফুজ্জামান নূরুন্নবী যার ভাস্কর। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালায় (ইন্টারন্যাশনাল ফোনেটিক অ্যালফাবেট-আইপিএ) লিপান্তর এবং ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের ভাষণ ইশারা ভাষায় ও ব্রেইল লিখন-বিধিতে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানের শেষে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিউট ভবনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির কার্যালয় পরিদর্শন করেন।বাসস
বিএনপি গণমানুষের রাজনীতি করতে ব্যর্থ হয়েছে
২১ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বিএনপি গণমানুষের রাজনীতি করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। আজ শুক্রবার একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পিত শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার এই দেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত করা। তিনি বলেন, বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা করাও সরকারের লক্ষ্য। ‘সরকার ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধকে লুণ্ঠিত করে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের বলেন, আলমগীর সাহেব সবসময় এমন কথা বলেন। কিন্তু, বিএনপি গণমানুষের রাজনীতি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের নেত্রীর মুক্তি নিয়েই শুধু কথা বলে তারা। মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এগারো বছর ধরে তাদের আন্দোলন দেখছি, গণমানুষের দাবি নিয়ে তো তাদের কোনো কর্মসূচি নেই। অথচ, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির একটিই পথ আইনি পথ। আর তাদের নেত্রী বেগম জিয়া বাংলা ভাষাকে কতটুকু ধারণ করেন সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন। তার (খালেদা জিয়া) মেট্রিকের রেজাল্ট উর্দুতে পাস ও বাংলায় ফেল। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও আফজাল হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পুষ্পার্পণ শেষে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন তারা।
বাংলাদেশে ইউএনডিপির ফান্ডের যথাযথ ব্যবহার করা হয়
২১ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:উন্নয়নশীল দেশের জন্য উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা প্রতি বছর ব্যয় করে প্রায় ১৫৬ বিলিয়ন ডলার। এলডিসিভূক্ত ৪৮টি দেশের জন্য ব্যয় করে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার যা এসডিজি অর্জনে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ। এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাত, এনজিওসহ দেশী-বিদেশী অংশীদারিত্ব চায় সরকার।শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে ইউএনডিপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৭০ ভাগ যুবক। তাদেরকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ করে দিতে চায় সরকার। বাংলাদেশে প্রায় ছয় লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের শিক্ষিত যুবসমাজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ইউএনডিপির ফান্ডের যথাযথ ব্যবহার করা হয়।
ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার এলাকায় মানুষের ঢল
২১ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরেই প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তবে ভোর থেকেই সর্বস্তরের মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন। দিনের আলো দেখা দিতেই শহীদ মিনার এলাকায় নামের মানুষের ঢল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকার শহীদ মিনার অভিমুখী রাস্তায় দেখা যায় মানুষের মিছিল। নীলক্ষেত, আজিমপুর কবরস্থান থেকে পলাশী হয়ে মানুষের দীর্ঘ লাইন চলে গেছে শহীদ মিনারের পাদদেশে। শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দোয়েল চত্বর ও টিএসসি ক্রসিং দিয়ে বের হচ্ছেন শ্রদ্ধা নিবেদনকারীরা। ঢাকা শহরের নানান প্রান্তের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। অনেকে কালো ব্যাজ ধারণ করে বাসা থেকে খালি পায়ে শহীদ মিনারে এসেছেন ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে।
বাংলা ভাষায় ওয়েবসাইট চালু করল যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস
২১ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বাংলা ভাষার ওয়েবসাইট চালু করেছে। এটি দূতাবাসের ইংরেজি ওয়েবসাইটটির অনেকটাই অনুরূপ। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগের দিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) জোয়ান ওয়াগনার দূতাবাসের এই বাংলা ভাষার ওয়েবসাইট চালু করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, এটি দূতাবাসের ইংরেজি ওয়েবসাইটটির প্রায় অনুরূপ। বাংলা ওয়েবসাইটটি বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সব বাংলাভাষীর জন্য নানা ধরনের বিষয়বস্তু পরিবেশন করবে। দূতাবাসকে বাংলাদেশিদের সঙ্গে আরো কার্যকরভাবে যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রসারিত করতে সহায়তা করবে এই ওয়েবসাইট। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, মিডিয়া নোট, প্রেস বিবৃতি, সংবাদবিষয়ক অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা ও জরুরি বার্তা, বক্তৃতা, মিডিয়া সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য বার্তা ইংরেজি এবং বাংলা উভয় ভাষায়ই পোস্ট করা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দুই ভাষার মানুষের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ভিসা এবং শিক্ষাগত ও পেশাগত এক্সচেঞ্জ কর্মসূচিসহ অনেক বিষয়ে তথ্য পাওয়া নিশ্চিত হয়, সেজন্য বাংলা ও ইংরেজি উভয় ওয়েবসাইটই নিয়মিত আপডেট করা হবে। বাংলা ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিডিএ ওয়াগনার বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাংলাদেশে এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই জাতিসংঘকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রবর্তনে উৎসাহিত করে। অতীতে সংঘটিত এই ঐতিহাসিক বাংলাভাষা আন্দোলনকে শ্রদ্ধা জানাতে দূতাবাসের পক্ষে এর নতুন বাংলা ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা আমার জন্য সম্মান এবং আনন্দের। এদিকে বৈঠকের কারণে বাংলাদেশের বাইরে থাকায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তবে নতুন ওয়েবসাইট সম্পর্কে তিনি একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের নতুন বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটের উদ্বোধন ঘোষণা করতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা আশা করি, এ অসাধারণ জাতি যে ভাষাটির মর্যাদা রক্ষার জন্য বীরত্বের সঙ্গে লড়েছে সেই বাংলা ভাষার নতুন ওয়েবসাইট বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করবে। তিনি বলেন, ঢাকা দূতাবাসের বাংলা ওয়েবসাইটটি চালু করা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা, সংলাপ ও পারস্পরিক সমঝোতাকে এগিয়ে নেয়া এবং একটি স্বাধীন উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের একটি।
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
২১ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে যারা বুকের রক্ত ঢেলে দিতে কার্পণ্য করেননি, একুশের প্রথম প্রহর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতির পক্ষে তাদের স্মরণ করলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এসময় বীর শহীদদের স্মরণে তারা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন।এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নেতাদের পক্ষ থেকে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।এরপর একে একে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, তিন বাহিনী প্রধান, পুলিশের আইজি, RAB মহাপরিচালক, উপাচার্যের নেতৃত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সংগঠন।রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সাধারণ মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনারে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে ফুলে ফুলে ভরে উঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির আত্মত্যাগের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান শহীদ দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস,ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা
২১ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মায়ের ভাষার দাবিতে বাঙালির আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এদিন। বাঙালির আত্মগৌরবের স্মারক অমর একুশের গৌরবময় এদিনে জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে মহান ভাষা শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছিলাম মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। যাদের ত্যাগে বাংলা বিশ্ব আসনে পেয়েছে গৌরবের অবস্থান। একুশের প্রথম প্রহর থেকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে মহান ভাষা শহীদদের। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে বেতার, টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। এদিকে গতকাল এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিকের হাতে একুশে পদক তুলে দিয়েছেন। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২-এ জীবন দিয়েছিল সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউল্লাহসহ নাম না জানা অনেকে। তাদের রক্তের বিনিময়েই আজকে মুখে মুখে বাংলা ভাষা। বাংলায় রচিত হচ্ছে হাজারো গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস আর অজস্র কথামালা। আজকের দিনটি শুধু সেই বীর ভাষাসৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর, যারা ভাষার জন্য অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। আজকের দিনটি কেবল বাংলাদেশে নয় বিশ্বের সব প্রান্তে পালিত হচ্ছে বীরের রক্তস্রোত আর মায়ের অশ্রুভেজা অমর একুশে। বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয়ে আসছে দিনটি। এই দিনে বাংলার সংগ্রামী ছেলেরা যে ত্যাগ ও গৌরবগাথা রচনা করেছিলেন, তারই পথ ধরে আমরা মুখোমুখি হই স্বাধীনতা সংগ্রামে। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। লাভ করি লাল সবুজের পতাকা। ১৯৫২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত বাঙালি রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে হরতালের প্রস্তুতি চলতে থাকে। সরকার ২০শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় একটানা এক মাসের জন্য ঢাকা জেলার সর্বত্র হরতাল, সভা, মিছিলের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে। এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছাত্ররা দলে দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হয়। ঐতিহাসিক আমতলায় ছাত্রদের সভা থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিকল্পনা করা হয়, চারজন চারজন করে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার। ছাত্ররা মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাকে তুলতে থাকে। বিকাল ৩টায় গণপরিষদের অধিবেশনের আগেই শুরু হয়ে যায় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ। বিকাল ৪টায় পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রদের ওপর গুলি চালায়। বুলেট কেড়ে নেয় জব্বার ও রফিকের প্রাণ। গুলিবিদ্ধ আবুল বরকত রাত পৌনে আটটায় হাসপাতালে মারা যান। তাদের মৃত্যু সংবাদে বাংলা ভাষার প্রাণের দাবি সারা দেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভাষার দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এরপর থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারি অমর ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। শহীদদের স্মরণে সারা দেশে তৈরি হয় অসংখ্য শহীদ মিনার। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোর সাড়ে ছয়টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাতটায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাত ফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেইট থেকে প্রভাত ফেরি শুরু হবে। এছাড়াও, মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আগামীকাল বিকাল তিনটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ সংগঠনের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এ ছাড়াও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জাতীয় জাদুঘর, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, শিশু একাডেমিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কঠোর নিরাপত্তা: শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা দেয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল সকাল থেকেই পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়। দেয়া হয়েছে নিরাপত্তা মহড়া। ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, শহীদ মিনার এলাকায় প্রবেশের আগে প্রত্যেক দর্শনার্থীকে একাধিক আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে নিরাপত্তা দেবে বলে জানিয়েছে Rapid Action Battalion RAB। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান RAB মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।
টিআইবির নতুন চেয়ারপারসন ড. পারভীন হাসান
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- এর ট্রাস্টি বোর্ডের নতুন চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান । তিনি আগামী ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এছাড়া, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বোর্ডের নতুন মহাসচিব হিসেবে এবং অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট সুস্মিতাচাকমা নতুন সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ টিআইবির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বোর্ডের ১০৩তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের এইপদে নির্বাচন করা হয়। টিআইবির উদ্যোগে পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে বিদায়ী চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এছাড়া, বোর্ড বিদায়ী সদস্য জনাব এম. হাফিজউদ্দিন খান ও ড. আকবরআলি খানকে টিআইবির কার্যক্রমে ভূমিকা ও অবদান রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, ট্রাস্টি হিসেবে মেয়াদ শেষ হলেও তারা সাধারণপর্ষদের সদস্য হিসেবে টিআইবির সাথে সংযুক্ত থাকবেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগেরসাবেক শিক্ষক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্থাপত্য বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে এবং রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশবিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রিঅর্জন করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম আদিবাসী নারী আইনজীবি। তিনিজেলা আইনজীবি সমিতি, রাঙ্গামাটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান সদস্য। আইনপেশার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন যাবত মানবাধিকার, সুশাসন ও নারী অধিকারবিশেষ করে আদিবাসী নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। উল্লেখ্য, ট্রাস্টি বোর্ড টিআইবির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। বোর্ডেরঅন্যান্য সদস্যরা হলেন মাহফুজ আনাম, সিনিয়র অ্যাডভোকেট তৌফিক নেওয়াজ, সৈয়দা রুহী গজনবী, পারভিন মাহমুদ এফসিএ, আবুল মোমেন এবং অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম।
বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলব
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিকে সারা বিশ্বে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাঙালি, আমাদের সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত থাকবে। আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতি এটা যেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তার লাভ করে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন ভাষার জন্য ত্যাগের ইতিহাস জানবে সে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে স্বাধীন জাতি। প্রকৃতপক্ষে এই একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করার, একুশ শিখিয়েছে আত্মমর্যাদাবোধ, এই একুশে রক্ত অক্ষরে লিখা হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। আমাদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত গৌরবের আমরা চাই এই গৌরবের ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষ যেন জানে। ভাষায় মর্যাদা সব সময় অক্ষুন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনাচক্রে অনেক কারণে মানুষকে বাইরে থাকতে হয় তারপরেও ভাষার মর্যাদা সবসময় অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। জীবন জীবিকার জন্য, যেহেতু পৃথিবী এখন আর একটি দেশ নিয়ে চলতে পারে না, সারা বিশ্বকে নিয়ে চলতে হয়। অন্য ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা আছে তাই বলে নিজের ভাষাকে ভুলে যাওয়া বা নিজের ভাষা বিচ্যুত হওয়া এটা আমাদের জন্য মোটেও ঠিক না। তিনি বলেন, আমাদের ভাষা কৃষ্টি আমাদের সংস্কৃতি জাতিসত্তা এর মর্যাদা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে পাশাপাশি বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলব। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০ গুণী ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে এবার একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুণীজনদের হাতে এসব পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২০ সালের জন্য ভাষা আন্দোলনে মরহুম আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর),শিল্পকলায় (সংগীত) ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক, শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান, শিল্পকলায় (অভিনয়) এম এম মহসীন,শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে মরহুম আক্তার সরদার (মরণোত্তর), মরহুম আব্দুল জব্বার (মরণোত্তর), মরহুম ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম; সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে ড. নূরুন নবী, মরহুম সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর) ও নাজমুন নেসা পিয়ারি; চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতারকে একুশে পদক দেওয়া হয়। এছাড়া গবেষণায় ২০২০ সালে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। পুরস্কার প্রদান শেষে পদকপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা, বিচারক, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা প্রধান, কূটনীতিকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর