আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস,ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা
২১ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মায়ের ভাষার দাবিতে বাঙালির আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এদিন। বাঙালির আত্মগৌরবের স্মারক অমর একুশের গৌরবময় এদিনে জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে মহান ভাষা শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছিলাম মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। যাদের ত্যাগে বাংলা বিশ্ব আসনে পেয়েছে গৌরবের অবস্থান। একুশের প্রথম প্রহর থেকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে মহান ভাষা শহীদদের। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে বেতার, টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। এদিকে গতকাল এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিকের হাতে একুশে পদক তুলে দিয়েছেন। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২-এ জীবন দিয়েছিল সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউল্লাহসহ নাম না জানা অনেকে। তাদের রক্তের বিনিময়েই আজকে মুখে মুখে বাংলা ভাষা। বাংলায় রচিত হচ্ছে হাজারো গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস আর অজস্র কথামালা। আজকের দিনটি শুধু সেই বীর ভাষাসৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর, যারা ভাষার জন্য অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। আজকের দিনটি কেবল বাংলাদেশে নয় বিশ্বের সব প্রান্তে পালিত হচ্ছে বীরের রক্তস্রোত আর মায়ের অশ্রুভেজা অমর একুশে। বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয়ে আসছে দিনটি। এই দিনে বাংলার সংগ্রামী ছেলেরা যে ত্যাগ ও গৌরবগাথা রচনা করেছিলেন, তারই পথ ধরে আমরা মুখোমুখি হই স্বাধীনতা সংগ্রামে। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। লাভ করি লাল সবুজের পতাকা। ১৯৫২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত বাঙালি রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে হরতালের প্রস্তুতি চলতে থাকে। সরকার ২০শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় একটানা এক মাসের জন্য ঢাকা জেলার সর্বত্র হরতাল, সভা, মিছিলের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে। এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছাত্ররা দলে দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হয়। ঐতিহাসিক আমতলায় ছাত্রদের সভা থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিকল্পনা করা হয়, চারজন চারজন করে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার। ছাত্ররা মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাকে তুলতে থাকে। বিকাল ৩টায় গণপরিষদের অধিবেশনের আগেই শুরু হয়ে যায় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ। বিকাল ৪টায় পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রদের ওপর গুলি চালায়। বুলেট কেড়ে নেয় জব্বার ও রফিকের প্রাণ। গুলিবিদ্ধ আবুল বরকত রাত পৌনে আটটায় হাসপাতালে মারা যান। তাদের মৃত্যু সংবাদে বাংলা ভাষার প্রাণের দাবি সারা দেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভাষার দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এরপর থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারি অমর ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। শহীদদের স্মরণে সারা দেশে তৈরি হয় অসংখ্য শহীদ মিনার। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোর সাড়ে ছয়টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাতটায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাত ফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেইট থেকে প্রভাত ফেরি শুরু হবে। এছাড়াও, মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আগামীকাল বিকাল তিনটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ সংগঠনের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এ ছাড়াও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জাতীয় জাদুঘর, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, শিশু একাডেমিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কঠোর নিরাপত্তা: শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা দেয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল সকাল থেকেই পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়। দেয়া হয়েছে নিরাপত্তা মহড়া। ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, শহীদ মিনার এলাকায় প্রবেশের আগে প্রত্যেক দর্শনার্থীকে একাধিক আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে নিরাপত্তা দেবে বলে জানিয়েছে Rapid Action Battalion RAB। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান RAB মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।
টিআইবির নতুন চেয়ারপারসন ড. পারভীন হাসান
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- এর ট্রাস্টি বোর্ডের নতুন চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান । তিনি আগামী ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এছাড়া, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বোর্ডের নতুন মহাসচিব হিসেবে এবং অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট সুস্মিতাচাকমা নতুন সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ টিআইবির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বোর্ডের ১০৩তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের এইপদে নির্বাচন করা হয়। টিআইবির উদ্যোগে পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে বিদায়ী চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এছাড়া, বোর্ড বিদায়ী সদস্য জনাব এম. হাফিজউদ্দিন খান ও ড. আকবরআলি খানকে টিআইবির কার্যক্রমে ভূমিকা ও অবদান রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, ট্রাস্টি হিসেবে মেয়াদ শেষ হলেও তারা সাধারণপর্ষদের সদস্য হিসেবে টিআইবির সাথে সংযুক্ত থাকবেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগেরসাবেক শিক্ষক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্থাপত্য বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে এবং রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশবিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রিঅর্জন করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম আদিবাসী নারী আইনজীবি। তিনিজেলা আইনজীবি সমিতি, রাঙ্গামাটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান সদস্য। আইনপেশার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন যাবত মানবাধিকার, সুশাসন ও নারী অধিকারবিশেষ করে আদিবাসী নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। উল্লেখ্য, ট্রাস্টি বোর্ড টিআইবির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। বোর্ডেরঅন্যান্য সদস্যরা হলেন মাহফুজ আনাম, সিনিয়র অ্যাডভোকেট তৌফিক নেওয়াজ, সৈয়দা রুহী গজনবী, পারভিন মাহমুদ এফসিএ, আবুল মোমেন এবং অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম।
বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলব
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিকে সারা বিশ্বে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাঙালি, আমাদের সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত থাকবে। আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতি এটা যেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তার লাভ করে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন ভাষার জন্য ত্যাগের ইতিহাস জানবে সে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে স্বাধীন জাতি। প্রকৃতপক্ষে এই একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করার, একুশ শিখিয়েছে আত্মমর্যাদাবোধ, এই একুশে রক্ত অক্ষরে লিখা হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। আমাদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত গৌরবের আমরা চাই এই গৌরবের ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষ যেন জানে। ভাষায় মর্যাদা সব সময় অক্ষুন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনাচক্রে অনেক কারণে মানুষকে বাইরে থাকতে হয় তারপরেও ভাষার মর্যাদা সবসময় অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। জীবন জীবিকার জন্য, যেহেতু পৃথিবী এখন আর একটি দেশ নিয়ে চলতে পারে না, সারা বিশ্বকে নিয়ে চলতে হয়। অন্য ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা আছে তাই বলে নিজের ভাষাকে ভুলে যাওয়া বা নিজের ভাষা বিচ্যুত হওয়া এটা আমাদের জন্য মোটেও ঠিক না। তিনি বলেন, আমাদের ভাষা কৃষ্টি আমাদের সংস্কৃতি জাতিসত্তা এর মর্যাদা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে পাশাপাশি বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলব। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০ গুণী ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে এবার একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুণীজনদের হাতে এসব পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২০ সালের জন্য ভাষা আন্দোলনে মরহুম আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর),শিল্পকলায় (সংগীত) ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক, শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান, শিল্পকলায় (অভিনয়) এম এম মহসীন,শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে মরহুম আক্তার সরদার (মরণোত্তর), মরহুম আব্দুল জব্বার (মরণোত্তর), মরহুম ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম; সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে ড. নূরুন নবী, মরহুম সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর) ও নাজমুন নেসা পিয়ারি; চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতারকে একুশে পদক দেওয়া হয়। এছাড়া গবেষণায় ২০২০ সালে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। পুরস্কার প্রদান শেষে পদকপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা, বিচারক, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা প্রধান, কূটনীতিকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
২১ ফেব্রুয়ারিতে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটি সুশৃঙ্খলভাবে পালনের জন্য রাজধানীতে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এ নির্দেশনা মেনে চলতে নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টার থেকে বলা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত জনসাধারণ ও সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য এ নির্দেশনা দেয়া হলো। যেভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাবেন, পলাশী ক্রসিং, ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের এসএম হল ও জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে হবে। কোনোভাবেই অন্য রাস্তা ব্যবহার করা যাবে না। যেভাবে বের হবেন , দোয়েল চত্বরের দিকের রাস্তা অথবা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হতে পারবেন। প্রবেশপথ দিয়ে বের হওয়া যাবে না। যেসব রাস্তা বন্ধ থাকবে , ১। বকশিবাজার-জগন্নাথ হল ক্রসিং সড়ক। ২। চাঁনখারপুল-রোমানা চত্বর ক্রসিং সড়ক। ৩। টিএসসি-শিববাড়ী মোড় ক্রসিং। ৪। ঢাবির উপাচার্য ভবন-ভাস্কর্য ক্রসিং (ফুলার রোড)। যেসব রাস্তায় ডাইভারশন থাকবে , (ক) ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা পর্যন্ত রাস্তায় আল্পনা অঙ্কনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের রাস্তা বন্ধ থাকবে। ওই সময় শিববাড়ী, জগন্নাথ হল ও রোমানা চত্বর ক্রসিংগুলোতে গাড়ি ডাইভারশন দেয়া হবে। (খ) ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যত্রতত্র অনুপ্রবেশ বন্ধের লক্ষ্যে নীলক্ষেত, পলাশী মোড়, ফুলার রোড, বকশিবাজার, চাঁনখারপুল, শহীদুল্লাহ হল, দোয়েল চত্বর, জিমনেশিয়াম, রোমানা চত্বর, হাইকোর্ট, টিএসসি, শাহবাগ ইন্টারসেকশনগুলোতে রোড ব্লক করে গাড়ি ডাইভারশন দেয়া হবে। (গ) ২১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টায় সায়েন্সল্যাব থেকে নিউমার্কেট ক্রসিং, কাঁটাবন ক্রসিং থেকে নীলক্ষেত ক্রসিং এবং ফুলবাড়িয়া ক্রসিং থেকে চাঁনখারপুল ক্রসিং পর্যন্ত প্রভাতফেরি উপলক্ষে সকল প্রকার যাত্রীবাহী গাড়ি প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। গাড়ি পার্কিং , (ক) একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম মাঠে ভিআইপিদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। (খ) সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ নীলক্ষেত-পলাশী, পলাশী-ঢাকেশ্বরী সড়কসমূহে তাদের গাড়ি পার্কিং করতে পারবেন। নির্দেশনাবলী , (ক) কবরস্থান এবং শহীদ মিনারে যারা শ্রদ্ধার্ঘ‌্য ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যাবেন, তারা অনুগ্রহ করে অন্যদের অসুবিধার কথা ভেবে রাস্তায় বসা বা দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকবেন। (খ) সর্বসাধারণের চলাচলের সুবিধার জন্য ওপরে বর্ণিত রাস্তায় কোনো প্রকার প্যান্ডেল তৈরি না করার জন্য অনুরোধ করা হলো। (গ) শহীদ মিনারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আর্চওয়ের মাধ্যমে তল্লাশি করে সকলকে প্রবেশ করতে হবে। এক্ষেত্রে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হলো। (ঘ) শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে প্রচারকৃত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হলো। (ঙ) কোনো ধরনের ব্যাগ বহন না করার জন্য অনুরোধ করা হলো। (চ) যেকোনো পুলিশি প্রয়োজনে শহীদ মিনার এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হলো। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পবিত্রতা রক্ষায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে।
ধর্ষকের বিরুদ্ধে ১৪ দল যুদ্ধ ঘোষণা করেছে :নাসিম
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সভায় তিনি এ কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলনে, মুজিব মানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা। এই মুজিববর্ষে অসত্যকে দূর ও প্রতিহত করতে হবে। অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে মাঠে ময়দানে সব জায়গায় থাকবে ১৪ দল। ধর্ষকদের কোন ধর্ম নেই। তাদের দ্রুততার সঙ্গে বিচার না করলে সুযোগ পেয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৪ দল ও সমগ্র জাতি আছে। বাঙালি জাতির এসব শক্তির কাছে পরাজিত হতেই পারে না। এদেরকে পরাজিত করতেই হবে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেতে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, ধর্ষকের বিরুদ্ধে ১৪ দল যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি তাদেরকে আহ্বান করা হবে না। সারা দেশের সব অঞ্চলে এক সঙ্গে মিছিল করা হবে। এই মিছিল নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে। ওর্য়াকাস পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যোগদান করলেও পুরুষদের আদালেই তারা শাসিত হয়। অসুরের শক্তি পুনাবৃত্তি করতেই সমাজের অবক্ষয় হচ্ছে। এটার জন্য কাউকে দায়ি করলে হবে না। দীর্ঘদিন বিচার ব্যবস্থা রাখায় ধর্ষিতাদের অনেকের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি আর আদালতে আসতে চান না। তাই দ্রুত বিচার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সবচেয়ে দুঃখ জনক হলো মাদকাসক্তি এখন সমাজের বড় একটি ব্যাধি। সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক হনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
গ্রামীণফোনকে ১ হাজার কোটি টাকা বিটিআরসিকে দেয়ার নির্দেশ আপিল বিভাগের
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পুর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বাকী টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত সোমবার। এসময় আদালত বলেন, শুধু টাকা কামালে হবে না, দিতেও হবে। গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এর আগে নিরীক্ষা দাবির পাওনা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে গত ২৪ নভেম্বর গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। নির্দেশনায় দেয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে ২৩ ফেব্রুয়ারি। গ্রামীণফোন রোববারের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বাতিল হয়ে যাবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আদালতের বাইরে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণফোন। এর অংশ হিসেবে গতকাল ১০০ কোটি টাকা দিতে চেয়েছে কোম্পানিটি, যদিও তা প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আদালতের নির্দেশনার বাইরে সমঝোতার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের পরিচালক ও হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বলেন, বিটিআরসিকে ১০০ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু এ মুহূর্তে তারা তা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এখনকার পরিস্থিতিতে তারা টাকা নিতে পারে না বলে আমাদের জানিয়েছে। তাদেরও নিশ্চয়ই এক ধরনের চিন্তাভাবনার বিষয় আছে। তবে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাই আমরা। এর মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী। বিটিআরসির সঙ্গে আমাদের যে আলোচনাটা চলছে, সেটিকে আরো ত্বরান্বিত করতেই এ প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি বলেন, পথ দুটো, একটা আইনি, আরেকটা আলোচনার মাধ্যমে। দুটো ভিন্ন বিষয়। একটার সঙ্গে আরেকটাকে মিলিয়ে ফেলা যাবে না। আদালতের মাধ্যমে যে নির্দেশনা পাওয়া যাবে, সেটার ভিত্তিতে এগোতে হবে। দেশের আদালতের প্রতি আস্থা রাখছি, বিশ্বাস রাখছি। তবে আলোচনাও এগিয়ে নিতে চাই আমরা। আলোচনার মাধ্যমে একটা ট্রান্সপারেন্ট প্রক্রিয়ায় দুই পক্ষ মিলে যদি একটা সমাধানে পৌঁছা যায়, সেটা দারুণ একটা বিষয় হবে। কিন্তু তার পরও যেহেতু আমরা স্থগিতাদেশের জন্য আদালতে গিয়েছি ও রিভিউ পিটিশন সাবমিট করেছি, তাই আদালত থেকে নির্দেশনা আসবে সেটির ওপর ভিত্তি করে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, সেটা বুঝতে পারব।
একুশের গৌরবময় ইতিহাস সব প্রজন্মকে জানতে হবে
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একুশের গৌরবের ইতিহাস সব প্রজন্মকে জানতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক ২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকেই জাতির পিতা ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তবে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, একসময় তার নাম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস ইতিহাসই, তা কেউ মুছে ফেলতে পারে না। বাস্তবতা হলো, ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু যখন ভাষা আন্দোলন শুরু করেন, তখন থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী তার ওপর নজরদারি ও তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লিখতে শুরু করে। তিনি বলেন, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করতে। একুশের রক্তে লেখা হয়েছিল স্বাধীনতা। আমাদের জন্য এ দিনটি অত্যন্ত গৌরবের। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইবি (গোয়েন্দা) রিপোর্টে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলা হয়- ১৯৫২ সালে জেলে থেকেও তিনি ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। জেলে গিয়ে ছাত্ররা তার সঙ্গে দেখা করতেন। তারা দেখা করতে গিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে গিয়ে কী কথা বলতেন, তা শোনার জন্য বাইরে থেকে অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছু শুনতে পাইনি। দায়িত্বরত পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল: ছাত্ররা যেনো জেলে এসে বৈঠক করতে না পারে, কিন্তু পুলিশ তা শোনেনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীর কোনও দেশেই কোনও নেতার বিরুদ্ধে লেখা গোয়েন্দা প্রতিবেদন কেউ প্রকাশ করেনি। আমি এটা করেছি। কারণ, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সবকিছু থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার একটা চেষ্টা করা হয়েছে দীর্ঘ ২১ বছর। তাই আমি চেয়েছি, সত্যটা মানুষের জানা উচিত। এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের এর চার খণ্ড বই আকারে প্রকাশ হয়েছে। পঞ্চম খণ্ড প্রকাশ হচ্ছে। মোট চৌদ্দ খণ্ড প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশের যে ইতিহাস, তার বিরাট অংশ এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৭ সালে করাচিতে শিক্ষা সম্মেলন হয়, সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় যে- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। তখন থেকেই কিন্তু আন্দোলনের সূত্রপাত। তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিনের বাসায় মিছিল নিয়ে যায় ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসে। এরপর ১৯৪৮ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনে ভূমিকা রাখেন। এরপর থেকেই গোয়েন্দারা তার নামে গোপন প্রতিবেদন লিখতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার। আমরা চাই এই গৌরবের ইতিহাস আমাদের দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছে যাক। এখন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অন্য ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা আছে, তাই বলে নিজের ভাষাকে ভুলে যাওয়া ঠিক নয়। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেতে কানাডাপ্রবাসী আবদুস সালাম ও রফিকুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশে বলেন, ১৯৫২ সালের দুজন ভাষা শহীদের নামে আপনাদের নাম। আপনাদের মাধ্যমেই হয়তো ভাষা শহীদ ও দিবসের স্বীকৃতির উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসালাম। এর আগে, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২০ ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক-২০২০ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একুশে পদক ২০২০ প্রাপ্তরা হলেন- ভাষা আন্দোলনে প্রয়াত আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) বেগম ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক, শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান, শিল্পকলায় (অভিনয়) এম এম মহসীন, শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত হাজি আক্তার সরদার (মরণোত্তর), প্রয়াত আব্দুল জব্বার (মরণোত্তর), প্রয়াত ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে ড. নুরুন নবী, প্রয়াত সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর) ও বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি এবং চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার। পাশাপাশি গবেষণায় একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে :প্রধানমন্ত্রী
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশে পদক-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, অন্য ভাষা শেখার প্রয়োজন আছে, তবে মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এর আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ২০ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক-২০২০ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার যারা একুশে পদক পেলেন-ভাষা আন্দোলনে আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) বেগম ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক, শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান, শিল্পকলায় (অভিনয়) এম এম মহসীন, শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে হাজি আক্তার সরদার (মরণোত্তর), আব্দুল জব্বার (মরণোত্তর), ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে ড. নুরুন নবী, সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর) ও বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি এবং চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার। এ ছাড়া গবেষণায় একুশে পদক পেয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
রাষ্ট্রপতির কাছে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের পরিচয় পত্র পেশ
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বাংলাদেশে নবনিযুক্ত পাকিস্তানের আবাসিক হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকি বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে তার পরিচয় পত্র পেশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে পাক দূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে , সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়। বাংলাদেশ সবসময়ে সকল রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বাংলাদেশ সকল প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে এবং আঞ্চলিক পযার্য়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে বিশ্বাস করে। এ বছরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বাষির্কী উদযাপন করবে এবং আগামী বছরে দেশে ও বিদেশে, বিশেষ করে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপন করবে। নতুন পাক দূত বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সবধরনের সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। এর আগে পাক হাইকমিশনার বঙ্গভবনে এসে পৌছুলে রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর