৮৫ হাজার ল্যাপটপ কিনছে সরকার
১৮,মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে নেয়া শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন প্রকল্পের জন্য ৮৫ হাজার ল্যাপটপ কিনতে যাচ্ছে সরকার। ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার ৭৯১ টাকা টাকা ব্যয়ে ক্রয়ের তালিকায় রয়েছে পাঁচ হাজার ওয়েব ক্যামেরা; পাঁচ হাজার রাউটার এবং পাঁচ হাজার নেটওয়ার্ক সুইচসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। বুধবার (১৮ মার্চ) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন-২য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব প্রযুক্তি পণ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হয়। এসব প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহে টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। সভা শেষে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আকতার বলেন, সকল নিয়মনীতি মেনে সবচেয়ে কম দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে পণ্য সরবরাহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ২০২০ সালের ২৮ জুলাই একনেক বৈঠকে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন ২য় পর্যায় প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা বা সমপর্যায়ের প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পাঁচ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করছে সরকার। এর মধ্য থেকে প্রতিটি সংসদীয় আসনে একটি করে মোট ৩০০টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবকে- স্কুল অব ফিউচার এ রূপান্তরিত করা হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ শুরু অমর একুশে বইমেলা
১৮,মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বেলা তিনটায় গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে মেলা। তবে ছুটির দিনগুলোতে মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায়। অন্যান্য বছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে বইমেলা শুরু হলেও এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে তা হচ্ছে মার্চ মাসে। এবার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় বইমেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য সচেতনতায়। মাস্ক ছাড়া বইমেলায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি প্রবেশ পথে এ বিষয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। মাস্ক থাকলে তবেই একজন মেলায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন। এরপর তার শরীরের তাপমাত্রা মাপা হবে এবং তা ঠিক থাকলে স্যানিটাইজ করা হবে। সবশেষে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করে মূল মেলায় ঢুকতে পারবেন লেখক-পাঠক-দর্শনার্থীরা। এছাড়া মেলার ভেতর ঢোকার পর কেউ যেন মাস্ক না খুলে ফেলে, সে বিষয়টিও নজরদারিতে রাখবে প্রশাসন ও একাডেমি কর্তৃপক্ষ। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গা জুড়ে হবে এবারের মেলা। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৮০টি ইউনিট, মোট ৫৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৩৪টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৩টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে ১৩৫টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি ৫টি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৪০টি স্টল দেওয়া হয়েছে। একক ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন তাদের বই ও বিক্রি/প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির ৩টি প্যাভিলিয়ন, শিশু-কিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য ১টি এবং সাহিত্য মাসিক উত্তরাধিকার-এর ১টি স্টল থাকবে। এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রথম দিকে শিশুপ্রহর থাকবে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মেলায় প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব প্রান্তে এবার নতুন একটি প্রবেশ পথ করা হয়েছে। রমনা প্রান্তে একটি প্রবেশ পথ ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে ৩টি প্রবেশ পথ ও ৩টি বাহির পথ থাকবে। প্রত্যেক প্রবেশ পথে সুরক্ষিত ছাউনি থাকবে, যাতে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন। এছাড়া মাস্ক ছাড়া মেলায় প্রবেশ করা যাবে না। শরীরের তাপমাত্রা মেপে স্যানিটাইজ হয়ে তবেই ঢুকতে হবে মেলায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবার নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। এবারের মেলায় ঝড়ের আশঙ্কা থাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা বিবেচনায় রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এবার বৃষ্টির পানি মেলা প্রাঙ্গণ থেকে দ্রুত নিষ্কাশণের ব্যবস্থা থাকবে। লেখক বলছি মঞ্চ ও গ্রন্থ উন্মোচনের স্থান বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। নামাজের ঘর, টয়লেট ব্যবস্থা সম্প্রসারিত ও উন্নত করা হয়েছে। নারীদের জন্য সম্প্রসারিত নামাজ ঘর থাকবে। পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কাছে একটি ব্রেস্টফিডিং কর্নারও থাকবে। প্রতি বছরের মতো এবারও হুইল-চেয়ার সেবা থাকবে। তবে গতবারের চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবী এ-কাজে নিয়োজিত থাকবেন। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে থাকবে দুটি ফুডকোর্ট।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন হাসিনা-সলিহ
১৮,মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে বসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস জানান, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরুর আগে দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়। এর আগে দুদিনের সফরে বুধবার ঢাকায় পৌঁছান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অভিন্ন সত্তা : পর্যটন প্রতিমন্ত্রী
১৭,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অভিন্ন সত্তা। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, আমরা পেতাম না পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি। সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উপলক্ষে বুধবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও আয়োজিত শিশুদের রচনা প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ, এতিম ও দুস্থ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং মুজিব কর্নার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন গণমানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে ও উন্নয়নে কাজ করেছেন। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ও উন্নয়নের স্বার্থে তিনি উৎসর্গ করেছিলেন নিজেকে। এ দেশ ও দেশের মানুষকে তিনি স্থান দিয়েছেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদের পথ চলার আলোকবর্তিকা। তার আদর্শকে জেনে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার আদর্শকে সমুন্নত রেখে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন হচ্ছে আজ বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও বহুমাত্রিক নেতৃত্বের কারণেই আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের উন্নয়নে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমাদের দিয়েছেন দেশ ও পতাকা। জাতির পিতার আদর্শের আলোকে আমাদের শিশুদের গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা এদেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুকেশ কুমার সরকার, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জেনারেল ম্যানেজার কেভিন ওয়ালেস, হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার আসিফ আহমেদ প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
১৭,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এই মহান নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। এ সময় অন্যদের মধ্যে ছোট কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিবকে এম শাখাওয়াত মুন বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শাখাওয়াত মুন জানান, পুষ্পস্তবক অর্পণের পর স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে দেশের অব্যাহত, শান্তি ও সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়। পরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে ৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ পড়ে থাকার স্মৃতি বিজড়িত সিঁড়িতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের স্থপতির জন্মদিন
১৭,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন বুধবার (১৭ মার্চ)। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ দিন থেকে শুরু হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রাম টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দেন। মানুষের মুক্তির জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও বিশ্বনেতায় পরিণত হন। গত বছর ছিল বাঙালির এই অবিসংবাদিত নেতার জন্মশতবার্ষিকী। বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে মূল কর্মসূচি উদযাপন করা সম্ভব না হওয়ায় এ বছর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি ও মুজিববর্ষের কর্মসূচি যৌথভাবে উদযাপিত হবে। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশ নিচ্ছেন। বাংলার রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রায় দুইশ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে স্বাধীনতার জন্য উত্তাল ভারতের অগ্নিগর্ভে জন্ম নেন শেখ মুজিব। পরাধীন ভারতে জন্ম নেওয়া শেখ মুজিব শৈশব থেকেই জমিদার, তালুকদার ও মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ ও নির্যাতন দেখেছেন। মানুষের দুঃখ, কষ্ট দেখে তাদের মুক্তির সংগ্রামে ছাত্র জীবন থেকেই তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। ব্রিটিশ শাসন-শোষণের হাত থেকে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ মুক্ত হলেও বাঙালির ওপর জেঁকে বসে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ, নিপীড়ন-নির্যাতন। ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র শুরু থেকেই বাঙালির ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাতে থাকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তখন থেকেই প্রতিবাদী হয়ে ওঠে বাঙালি। দীর্ঘ আন্দোলন আর লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিক পথ পেরিয়ে শেখ মুজিব বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ৭১ এর ৭ মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, তোমাদের যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়েই প্রস্তুত থাক, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। বঙ্গবন্ধুর এই চূড়ান্ত নির্দেশই জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে শক্তি ও সাহস জোগায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের তৃতীয় সন্তন। ৭ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুল, গোপালগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল ও পরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৯৪২ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতার বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন তিনি এবং এই কলেজের বেকার হোস্টেলে আবাসন গ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে শেখ মুজিব বিএ পাশ করেন। তিনি ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই সময়ে তিনি হোসেন সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিমের মতো নেতাদের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় শান্তি স্থাপনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অসম সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন শেখ মুজিব। ভ্রান্ত দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব বাংলা সফরে এসে উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ তথা বাঙালি জাতি প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে, আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর নেমে আসে জেল-জুলুম নির্যাতন। রাজনৈতিক জীবনে এক যুগেরও অধিককাল তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। দুইবার তিনি ফাঁসির কাষ্ঠে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, ১৮ বার কারাবরণ করেছেন। পাকিস্তাানি শাসক চক্রের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে সকল আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য তৈরি করেছেন। ৫২, ৫৪, ৬২, ৬৬ এর আন্দোলন আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ৭০-এর নির্বাচনে বিজয় সবই জাতির সংগ্রামী ইতিহাসের একেকটি মাইলফলক। আর এই সংগ্রামের নেতৃত্ব ও বলিষ্ঠ ভূমিকায় ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় লাভের পর পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি লাভ করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসেন। দেশে এসেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনগর্ঠন ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি অর্থাৎ দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের এই মহান স্থপতিকে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় মানবতার শত্রু, স্বাধীনতাবিরোধী, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ঘাতক চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।
স্পিকারের সাথে কাতারের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
১৬,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আহমেদ বিন মোহামেদ আল-দেহাইমি সোমবার (১৫ মার্চ) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। স্পিকারের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা দুই দেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, মুজিব শতবর্ষ পালন ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। শিরীন শারমিন বলেন, কাতার বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র। মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে দুই দেশ দীর্ঘদিন সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তিনি ভবিষ্যতেও এ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং টিকা গ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় স্পিকার বলেন যে, বাংলাদেশ সফলতার সাথে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে চলেছে এবং সরকার ধাপে ধাপে সকল জনগণের জন্য টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আহমেদ বিন মোহামেদ আল-দেহাইমি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পাওয়া বাংলাদেশর জন্য গৌরবের বিষয়। বঙ্গবন্ধু বিশ্ববরেণ্য নেতাদের মধ্যে অন্যতম। স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। বঙ্গবন্ধুর কৌশলী নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এ সময় রাষ্ট্রদূত স্পীকারকে মজলিস আস-শুরার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘর পাবেন ৩০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা
১৬,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাদের বিধবা স্ত্রী ও সন্তানদের ৩০ হাজার ঘর বা বীর নিবাস নির্মাণ করে দেবে সরকার। তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে উপহার হিসেবে বীর নিবাসগুলো দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ শীর্ষক একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) অনুমোদন হতে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (মহানগর সংশ্লিষ্ট) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে খরচ হবে ৪ হাজার ১২২ কোটি ৯৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। পুরো অর্থই সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করা হবে। দেশের ৬৪টি জেলার সব উপজেলা ও মহানগরে বাস্তবায়িত হবে প্রকল্পটি।
নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ- প্রত্যয় দেশে ফিরেছে
১৫,মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স এক্সিবিশন ও নেভি ডিফেন্স এক্সিবিশনে সফলভাবে অংশগ্রহণ শেষে সোমবার (১৫ মার্চ) দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ প্রত্যয়। এ সময় কমান্ডার বিএন ফ্লিটের চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মোস্তফা জিল্লুর রহিম খান জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। জাহাজটি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকালে ভারতের মুম্বাই এবং শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রা বিরতি করে। ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বানৌজা প্রত্যয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গত ২০-২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স এক্সিবিশন ও নেভি ডিফেন্স এক্সিবিশনে অংশগ্রহণ করে। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর জাহাজ, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক, সমরবিশারদ এবং সামরিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত মানোন্নয়নের পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সুসম্পর্ক জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।