এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতির শোক
৪,মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (০৩ মার্চ) রাতে আলাদা শোক বার্তায় তারা এ দুঃখ প্রকাশ করেন। বঙ্গভবন প্রেস উইং জানায়, শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এইচ টি ইমামের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে আজীবন কাজ করে গেছেন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সদ্য স্বাধীন দেশে সরকার পরিচালনায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারালো। রাষ্ট্রপতি মরহুম এইচ টি ইমামের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, এইচ টি ইমামে মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোক বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ প্রশাসনিক সার্ভিসে জনাব এইচ টি ইমামের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে প্রবাসী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের পুরো সময়টাও তিনি একই পদে থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে জনাব ইমাম আমার প্রশাসনিক উপদেষ্টা হিসেবে এবং ২০১৪ সাল থেকে আমৃত্যু রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত প্রজ্ঞার সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে কাজ করেন। জাতির পিতার আদর্শের এই কর্মী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য হিসেবে দলকেও সমৃদ্ধ করেছেন। শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বুধবার (০৩ মার্চ) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এইচ টি ইমাম। মৃত্যুকালে হোসেন তৌফিক ইমামের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি কিডনির জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তাকে অসুস্থ অবস্থায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছিল।
এইচ টি ইমাম আর নেই
৪,মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানান, ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (০৩ মার্চ) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে হোসেন তৌফিক ইমামের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি কিডনির জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তাকে অসুস্থ অবস্থায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছিল। এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এইচ টি ইমাম। এর আগে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। প্রথমে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এইচ টি ইমামের জন্ম ১৯৩৯ সালে। বাবার চাকরি সূত্রে তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। শিক্ষা জীবনে এইচ টি ইমাম ম্যাট্রিক পাস করেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে। এরপর রাজশাহী কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি নেন। পড়াশোনা শেষে রাজশাহী সরকারি কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে পাকিস্তানে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। লন্ডনের স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে এইচ টি ইমাম পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এইচ টি ইমাম। এইচ টি ইমাম স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হন এবং ১৯৭৫ সালের ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি যোগাযোগ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিবও হন। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর এইচ টি ইমাম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন এইচ টি ইমাম। এই কমিটির চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
টিকাদানে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে: জেরেমি
৩,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার। বুধবার (৩ মার্চ) সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, হাইকমিশনার বলেছেন, টিকাদানে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এ সময় করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসাও করেন অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূত। অন্য বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে তিনিও ঢাকায় করোনার ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন বলে জানান জেরেমি। এদিকে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাইকমিশনারকে বলেন, সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সবাইকে কাজে লাগিয়ে সময়োচিত পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন সেক্টরে সহযোগিতা জোরদারে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথা জানান হাইকমিশনার। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে অনুষ্ঠেয় জাহাজ যোগে সমুদ্রযাত্রায় অংশগ্রহণে তিনি তার দেশের আগ্রহের কথা জানান। এ সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রশংসা করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল এ বছর টি-২০ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর করবে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় যে সব দেশ বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেয়, তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অন্যতম। এ সময় ক্রিকেটের উন্নয়নে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা পেয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী। আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সফল প্রত্যাবাসনে আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। সাক্ষাৎকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।
ভাসানচর পৌঁছাল আরও ২২৬০ রোহিঙ্গা
৩,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজার থেকে ভাসানচর স্থানান্তরের পঞ্চম দফার প্রথম দিনে আরও ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা ভাসানচর পৌঁছেছে। সকাল ১০ টা ২০ মিনিটে নৌবাহিনীর ছয়টি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এটি একদিনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গার নতুন আবাসস্থলে গমন। চট্টগ্রাম বোট ক্লাব জেটিঘাটে জাহাজের বহরকে বিদায় জানান ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া তদারকি করেন চট্টগ্রাম নৌ-অঞ্চলের প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম মোজাম্মেল হক ও নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। জানা যায়, ঘন কুয়াশার কারণে আজ জাহাজ ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। জাহাজের বহরটি দুপুর আড়াইটার দিকে পর্যায়ক্রমে ভাসানচর পৌঁছে। এ ছয়টি জাহাজের সাথে রোহিঙ্গাদের মালামালবোঝাই আরো একটি জাহাজ রয়েছে। এসব মালামালের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সাথে অনেকেই তাদের পালিত হাঁস-মুরগীও নিয়েছেন। আগামীকাল পঞ্চম দফার দ্বিতীয় দিনে আরো দুহাজার রোহিঙ্গা ভাসানচর যাবে। বোট ক্লাব জেটিতে অপেক্ষমাণ রোহিঙ্গারা জানায়, অত্যধিক শরণার্থীর চাপে উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয় শিবিরগুলোতে তাদের জীবন-যাপন দুর্বিষহ ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাসের প্রেক্ষিতে উন্নত পরিবেশে বসবাসের আশায় তারা স্বেচ্ছায় ভাসানচর যাচ্ছে। আজ জাহাজ ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হলেও কারো চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ দেখা যায়নি। বরং পুরোটা সময় নিজেরা খোশগল্পে মেতেছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৫০ টিরও বেশি বাসে করে এদের চট্টগ্রামে আনা হয়। গভীর রাতে পৌঁছে পতেঙ্গাস্থ বিএএফ শাহীন কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পে খাওয়া-দাওয়াশেষে তারা সেখানে রাত্রি যাপন করে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচর স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর। প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যায়। দ্বিতীয় ধাপে ২৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮০৫ জনকে ভাসানচর নেয়া হয়। তৃতীয় ধাপে ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি দুইদিনে ৩ হাজার ২০০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পৌঁছে দেয়া হয়। চতুর্থ ধাপের প্রথম দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি ২ হাজার ১৪ জন ও দ্বিতীয় দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ৮৭৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচর স্থানান্তরিত হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চম ধাপের দ্বিতীয় দিনের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ হলে ১৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার থেকে ভাসানচর পৌঁছাবে। সরকার মোট এক লক্ষ রোহিঙ্গাকে ভাসানচর স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের জন্য পরিচ্ছন্ন গুচ্ছ আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।
ভ্যাকসিন প্রদানে সফলতা দেখিয়েছে স্বাস্থ্যখাত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৩,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত করোনা ভ্যাকসিন প্রদানে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সফলতা দেখিয়েছে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন প্রদানে বিশ্বের বহু দেশ এখনও হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু দেশের স্বাস্থ্যখাত এই ভ্যাকসিন প্রদানে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সফলতা দেখিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে আগামীতেও ভ্যাকসিন প্রদানে দেশের সুনাম বিশ্বব্যাপি অক্ষুন্ন থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডিপ্লয়মেন্ট ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, গত ১ মাস দেশব্যাপি ভ্যাকসিন প্রদানে বাংলাদেশের প্রশংসা কেবল দেশেই নয়, বিদেশ থেকেও হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশের ৪৫ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষ ভ্যাকসিন নিতে রেজিস্ট্রেশন করেছে এবং ইতোমধ্যেই ৩৩ লাখ ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই দেশের ১ হাজার ৭টি ভ্যাকসিন বুথে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। আগামী জুলাই পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে কোভ্যাক্স এর ১ কোটি ৯ লাখ ভ্যাকসিনসহ মোট ৪ কোটি ভ্যাকসিন দেশের মানুষের শরীরে প্রদানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন প্রদানে ভবিষ্যতে যাতে কোন রকম সমন্বয়হীনতা দেখা না দেয় সেজন্য প্রতি ১৫ দিন পর পর সচিবালয়ে অন্তত একটি করে ভ্যাকসিন আপডেট সভা করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরবর্তী ধাপে দেশের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট একটি অংশসহ দেশে থাকা বিদেশি নাগরিকদের, বিভিন্ন বন্দরে কর্মরত ব্যক্তিদের, দেশের পাঁচ তারকা হোটেলে কর্মরত ব্যক্তিদেরকেও ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। আগামীতে আরো ভ্যাকসিন ক্রয় করতে বিশ্বের বিভিন্ন দাতা সংস্থাসমূহ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা প্রদানে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন হাতে চলে এলে ভ্যাকসিন প্রদানে ৪০ বছরের বাধ্যবাধকতা কমিয়ে আনা হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন।
অপরাজিতা সম্মাননা পেলেন ১০ বিশিষ্ট নারী
৩,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ বিশিষ্ট নারীকে দেয়া হয়েছে অপরাজিতা-২০২১ সম্মাননা। স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে প্রথমবারের মতো এবার ভিন্নধারায় এ সম্মাননা দেয়া হয়। এ বছর অপরাজিতাদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নারী। তারা হলেন- আয়েশা বেগম, মুস্তারী শফি, রিজিয়া বেগম, হাফিজা বেওয়া ও শিল্পী শাহিন সামাদ। অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন কথা সাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, নারী উদ্যোক্তা মৌসুমি ইসলাম, প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, পর্বত আরোহী নিশাদ মজুমদার ও ফিফা রেফারি জয়া চাকমা। মঙ্গলবার (২ মার্চ) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আমিন জুয়েলার্স ও বাঘবাংলা এন্টারটেইনমেন্টের আয়োজনে অপরাজিতা-২০২১ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আমিন জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আমিনুল ইসলাম, কাজী এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইসমত আরা জাকিয়া, এনটিভির পরিচালক আসফাক উদ্দিন আহমেদ, বাঘবাংলা এন্টারটেইনমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব ইবনে সুলতান প্রমুখ।
ঢাকা-জলপাইগুড়ি ট্রেন উদ্বোধন করবেন হাসিনা-মোদি
২,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে সরাসরি ভারতের নিউ জলপাইগুড়িতে যাত্রীবাহী রেল চালু হচ্ছে। এ দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর উদ্বোধন করবেন। মঙ্গলবার (২ মার্চ) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করবেন। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন একটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ঢাকা থেকে সরাসরি ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি রেল জংশন পর্যন্ত নীলফামারী জেলার চীলাহাটি-হলদিবাড়ী রুটে চালানোর জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। সপ্তাহে কত দিন রেল চলবে, রেল ছাড়া ও পৌঁছানোর সময়, ভাড়া, ইমিগ্রেশন, রেলের নাম- এসব বিষয় উভয় দেশের রেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাদ্য-গৃহায়ণ-টিকায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
২,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারির এই সময়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি সরকার মানুষের জীবিকা, খাদ্য, স্বাস্থ্য, গৃহায়ণ এবং কোভিড-১৯ টিকার বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (০২ মার্চ) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় (ভার্চ্যুয়াল) এ কথা বলেন তিনি। প্রাণঘাতী করোনা মহামারির কারণে চলমান অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য উন্নয়ন কাজের চেয়ে সরকার খাদ্য, গৃহায়ণ এবং ভ্যাকসিনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ যেন খাদ্য, বাসস্থান এবং চিকিৎসায় কোনো কষ্ট না পায়। জনগণ যাতে সহজভাবে জীবন-জীবিকা চালিয়ে যেতে পারে। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত টিকা দিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন আমরা কিনেছি, সামনে আরও নিতে হবে। ১৭ কোটির মতো আমাদের মানুষ। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত টিকা দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন। এ জন্য আমাদের টাকা রাখতে হবে। আরও ভ্যাকসিন কিনতে হবে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট-বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছি। বাজেট-বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
নির্বাচন কমিশনকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
২,মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। মঙ্গলবার (২ মার্চ) জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় ভোটার দিবস ২০২১ উদযাপনের উদ্যোগকে রাষ্ট্রপতি স্বাগত জানান। তিনি ভোটারদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, এবারের জাতীয় ভোটার দিবসের প্রতিপাদ্য বয়স যদি আঠারো হয় ভোটার হতে দেরি নয় খুবই যথার্থ ও সময়োপযোগী হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় একজন ভোটার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন এবং তার নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়মিত ভিত্তিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে আসছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের হালনাগাদকরণ কার্যক্রমে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধিতদের এবং ২০২১ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত হালনাগাদ কার্যক্রমে নিবন্ধিতদের রিভাইজিং অথরিটির নিকট উত্থাপিত দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ একটি প্রশংসনীয় অর্জন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকাভুক্তির পাশাপাশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রও প্রদান করে থাকে। আঠারো বছরের বেশি বয়সী সকল নাগরিকের ছবি ও আঙুলের ছাপের বায়োমেট্রিক তথ্যসহ কম্পিউটার-ভিত্তিক ডাটাবেইজ নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত করছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ব্যক্তির সঠিক পরিচয় যাচাই করে সকল সরকারি চাকরিজীবীর বেতন, পেনশন, মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ও বিধবাভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সেবাপ্রদান সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সকল পর্যায়ের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন তাদের সেবা কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভোটগ্রহণ পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার শুরু করেছে, যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের আকাঙ্খার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি বলেন,দেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বপালন করবে- এ প্রত্যাশা করি। তিনি জাতীয় ভোটার দিবস-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর